লকডাউনের মধ্যে রেড জোনগুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করে ছাড়ের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দেশজুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আর এই ভাইরাস এর জেরে ভারতে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় 70 হাজার এর কাছাকাছি আর এই ভাইরাসের জেরে ভারতে মৃত্যু হয়েছে 2213 জনের। আর এখন দেশ থেকে এই করোনা ভাইরাস বিদায় নিচ্ছে না একথা সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান রাজ্যে লকডাউন আরো কড়া ভাবে চলবে।

কিন্তু এবার এই লকডাউন এর মধ্যে দেশের
অর্থনীতি কে বাঁচাতে আগামী তিন মাসের জন্য কিছু স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া আগামী দিনে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কীভাবে রেড জোনগুলির মধ্যে ছাড় দেওয়া হবে সে নিয়মে নতুন একাধিক ক্ষেত্রে ছাড় ঘোষণা করলেন এই দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এইদিন সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানান প্রধানমন্ত্রী ও জানিয়েছে লকডাউন অনেকদিন ধরে চলবে দেশে যতদিন পর্যন্ত এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে, যার দরুন রাজ্যের তরফ থেকেও তিন মাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে যেখানে রাজ্যের রেডজোন গুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হবে। যেগুলি নাম দেওয়া হবে রেড জোন A, রেড জোন B ও রেড জোন C। তবে এখন প্রশ্ন এই রেড জোন এ, বি, সি এগুলি কী আর কীভাবেই বা আগামী দিনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান রেড জোন A তে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।এক্ষেত্রে রেড জোন B এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কিছু কিছু কার্যক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে ধ্যান রাখা হবে যেসব এলাকাগুলিতে ছাড় দিলে কোন সমস্যা হবে না ভবিষ্যতে সে গুলিতে শুধুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে।

আর তৃতীয় ক্ষেত্রে অর্থাৎ রেড জোন C এর ক্ষেত্রে এই এলাকা গুলিকে কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে ব্যারিকেড দেওয়া অংশ সেখানে কিছু কিছু খোলা হবে তবে এক্ষেত্রে এটি লক্ষ্য রাখবে পুলিশ।এর পাশাপাশি লকডাউন এ ছাড়ের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান প্রথম দফার ক্ষেত্রে কাল থেকে ছাড় দেওয়া হবে। আর দ্বিতীয় দফা 21 শে মে থেকে। আর এই লকডাউনের মধ্যে যেসব বিষয়গুলিতে ছাড় দেওয়া হবে সেগুলি ঘোষণা করলেন মমতা।
1) গয়নার দোকান, বিদ্যুতিক সামগ্রিক দোকান খোলা থাকবে ।

2) মোবাইল চার্জিং এর দোকান খোলা থাকবে।

3) আর এক্ষেত্রে ফিল্ম -টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে এডিটিং মিক্সিং ও ডাবিং করা যেতে পারে তবে সে ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করা হবে এগুলি।

4) চা বাগান শিল্পে প্রায় 50% শ্রমিককে নিয়ে কাজ শুরু করা হবে, আর এর পাশাপাশি বিড়ি শিল্পেও 50 শতাংশ শ্রমিককে নিয়ে কাজ শুরু করা হবে।

5) তাঁতের হাট খোলা হবে।
তবে এখানেই শেষ নয় এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরো জানান সকাল ছয়টা থেকে বেলা 12:00 পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে তবে সে ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হবে এবং নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।যেহেতু দুমাস বন্ধ রয়েছে কাজ সেহেতু দেশের অর্থনীতি একপ্রকার ভেঙে পড়েছে তাই দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা হল হাল ফেরাতে এরকম এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।তাছাড়া 100 দিনের কাজে জোর দেয়া হবে আর এক্ষেত্রে বাইরে থেকে যারা আসছেন তারা চাইলে 100 দিনের কাজ করতে পারবেন।

Related Articles

Back to top button