নতুন খবররাজনৈতিকরাজ্য

সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়ালো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, মামলা দায় ডিভিশন বেঞ্চে।

সারদা-নারদা কান্ড অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে। এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিপদে পড়লেন। এবার তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে অধীর চৌধুরী অনেক বড় বিপদে ফেলে দিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের হলো আদালতে। মামলা করেছেন কংগ্রেসের নেতা অধীর চৌধুরী। এতদিন ধরে তৃণমূলের দলীয় কর্মীদের মুখে শোনা যেত দলে দুর্নীতিগ্রস্ত লোক আছে এমনটা হতেই পারে, কিন্তু দিদি কখনো এরকমটা নন। কিন্তু দলীয় কর্মীদের এই আশ্বাস টুকু ভেঙ্গে গেল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে মাদার ডেয়ারির শেয়ার বিক্রির কান্ডে সরাসরি হাইকোর্টে মামলা করল অধীর চৌধুরী।


তিনি বলেন মাদার ডেয়ারী হলো একটি আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান। আর এরকম কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারকে কিছু নিয়ম পালন করতে হয়। কিন্তু এসব নিয়ম পালন না করে একইভাবে মমতা ব্যানার্জি সরকার পুরো শেয়ার বিক্রি করে দিলেন এই নিয়ে হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন অধীর চৌধুরী। আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রি করার ক্ষেত্রে সরকারকে দুটি নিয়ম পালন করতে হয়। পাবলিক ইসু বা সুইস চ্যালেঞ্জ মেথড। পাবলিক ইস্যু হলো সরাসরি বিজ্ঞাপন দিয়ে শেয়ার বিক্রির কথা জানানো এবং সেই সংখ্যক শেয়ারবাজারে নথিভূক্ত করা। তবে এর থেকে সুইস চ্যালেন মেথড একটু কঠিন।
অধীর চৌধুরী মন্তব্য এক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানা হয়নি। হঠাৎ করেই মমতা ব্যানার্জি সরকার সিদ্ধান্ত নিল এই যে মাদার ডেয়ারীর সমস্ত শেয়ার বিক্রি করা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক মায়াঙ্ক জালানের সংস্থা কভেন্টার্সের কাছে।এবং অবাক হওয়ার বিষয় হলো রাতারাতি এই সিদ্ধান্ত পাশও করিয়ে নেওয়া হয়।


সরকার তা নিজেদের অংশ অর্থাৎ মাদার ডেয়ারীর 47% বিক্রি করে দে এই মাত্র 84.5 কোটি টাকায়। উল্টোদিকে এই সংস্থায় সিঙ্গাপুরের এক কোম্পানির কাছ থেকে 15 % শেয়ার বিক্রি করেছে 170 কোটি টাকায়।
এই সমস্ত সিদ্ধান্ত তিনি কোন নিয়ম না মেনে কিভাবে করতে পারেন এই নিয়ে কোর্টে মামলা দায়ের করেছে অধীর চৌধুরী। তিনি আরো বলেছেন যে একেই তিনি কোন নিয়ম না মেনেই বিক্রি করে দিয়েছে তারপর আবার এত টাকা ক্ষতি করে মমতা ঘনিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছে মাদার ডেয়ারীর শেয়ার বিক্রি করার পেছনে কি উদ্দেশ্য রয়েছে সেটা জানার। গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের দেবাশিস করগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button