আবারো এক নতুন বিল আনতে চলেছে কেন্দ্র এবার থেকে শিশুর বয়স তিন বছর হলেই বাধ্যতামূলক হতে চলেছে স্কুলে ভর্তি করা..

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো ভালোভাবে গড়ে তুলতে নতুন বিল আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। তার ফলে স্কুল শিক্ষার যে বিভিন্ন স্তরে বিন্যাসগুলি রয়েছে তা বদলে যাবে।জাতীয় শিক্ষানীতিতে একথা ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে আর একবার এই বিল সংসদে পাস হয়ে গেলে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশ জুড়ে। তবে বলে রাখি এই যে নতুন নিয়ম টি কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে আনা হতে চলেছে সেখানে বলা হচ্ছে শিশুর বয়স তিন বছর হলেই স্কুলে যাওয়া বাধ্যতামূলক।

তবে এক্ষেত্রে এই বিষয়টি কোনো নতুন নয় কারণ সাধারণত বহু শহরে লক্ষ্য করা গেছে যে তিন বছর পর শিশুদেরকে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময় কিন্ডার গার্ডেন এবং প্লে স্কুলে নিজেদের ছেলে- মেয়েদের পাঠান অভিভাবকেরা। তবে এ রাজ্যে সরকারিভাবে প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হলেও তা ভালোভাবে বেশিরভাগ জায়গায় কার্যকর করা যায়নি। আর এই বিষয়ে শিক্ষা মহলের বক্তব্য পরিকাঠামো এবং শিক্ষকদের অভাবেই প্রাথমিকভাবে শিশুদের যে শিক্ষাদান সেটি মার খাচ্ছে।

এই বিষয়ে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এক কর্মী জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষানীতি তৈরির অনেক আগে থেকেই আমরা প্রাক পাথমিকের জন্য দুটি বই তৈরি করেছি যাদের নাম “কুটুম কাটাম” ও “মজারু”‌। আর এই দুটি বই ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।তবে এবার কেন্দ্র সরকার যদি এই জাতীয় শিক্ষানীতি টিকে আইনে রূপান্তরিত করতে পারেন তাহলে সব রাজ্যকেই এই নতুন বিজ্ঞপ্তিটি জারি করতে হবে এবং তা কার্যকর করতে হবে।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী জানতে পারা গেছে এই নতুন আইনে স্কুল শিক্ষার বিভিন্ন স্তরকে পুনর্গঠন করার কথা বলা হয়েছে 3 থেকে 8 বছর অর্থাৎ (প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি) পর্যন্ত স্কুল শিক্ষার স্তরকে বলা হবে মূল বা ফাউন্ডেশন। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে 8 থেকে 11 বছর অর্থাৎ তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্তর টিকে প্রস্তুতিমূলক বা প্রিপারেটরি। আর 11 থেকে 14 বছর পর্যন্ত অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত যে স্তরটি রয়েছে সেটিকে মধ্য বা মিডিল নামে অভিহিত করা হবে।

আর 14 থেকে 18 বছরের যে স্তরটি রয়েছে অর্থাৎ নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সেটিকে উচ্চ বা হাই নামে জানা যাবে।তবে এক্ষেত্রে শেষে যে স্তরটি রয়েছে অর্থাৎ যেখানে নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সে স্তরটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হবে বলে জানতে পারা গেছে। তবে যেমনটা আমরা জানি বর্তমানে এখন প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক এই চারটি স্তরে শিক্ষাদান করা হয়। শিক্ষার অধিকার আইন-এ 6 থেকে 14 বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষাকে আবশ্যিক বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে এবার কেন্দ্রের তরফ থেকে যে নতুন আইনটি আনা হতে চলেছে সেটিতে বলা হচ্ছে প্রাক প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা আবশ্যিক হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাবে। তাই জাতীয় শিক্ষা নীতি আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার এন্ড এডুকেশন এর ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছে। তবে এখন প্রাক- প্রাথমিক দের জন্য বেসরকারি স্তরে শিক্ষক নিয়োগ করা হলেও সরকারিভাবে এই নিয়ম চালু হয়নি নতুন কেন্দ্রীয় আইন কার্যকর হয়ে গেলে এর পরে এরজন্য আলাদা করে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।স্কুলের শুরুতে শিশুদের খেলাধুলার মাধ্যমে শেখানো কথা বলা হচ্ছে।

আর প্রথমে শিশুদেরকে যে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হতে চলেছে সেখানে জানানো হচ্ছে যে শিশুদের জন্য মূল্যবোধ, পরিচ্ছন্ন, সৈজন্য, নীতি, একতা প্রভৃতি শিখানো হবে। এই নিয়ে সিপিআইয়ের শিক্ষক সংগঠনের নেতা স্বপন মন্ডল এর দাবি এত শিশুকে প্রাথমিকের আওতায় আনতে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে।তবে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে দায়িত্ব নেবে কিনা সে নিয়ে কিছু স্পষ্ট তথ্য বেরিয়ে আসেনি।আর এরই সাথে এই পরিকল্পনার মাঝে স্কুল শিক্ষার যে স্তরটি রয়েছে সেটি যাতে বেসরকারিকরণ না হয়ে যায় তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

Related Articles

Close