লকডাউন চলাকালীন দেশজুড়ে 20 লক্ষ “সুরক্ষা স্টোর” খোলার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

করোনা সংক্রমণকে ঠেকাতে আরও একটি পদক্ষেপ নিলো কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে এই লকডাউন চলাকালীন দেশের 20 লক্ষ মুদির দোকানকে ‘সুরক্ষা স্টোর’-এ পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত দোকানগুলিতে করোনা সর্তকতা বজায় রেখেই গ্রাহকদের জিনিসপত্র দেওয়া হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান জানিয়েছেন, রেশন ব্যবস্থার অধীনে থাকা প্রায় 81 কোটি মানুষকে 9 মাস খাদ্যশস্য যোগান দেওয়ার মতো ভান্ডার রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে।

সরকারি সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে, কোন কোন দোকানকে সুরক্ষা স্টোর হিসেবে চিহ্নিত করা হবে তার দায়িত্ব দেওয়া হবে কয়েকটি ভোগ্যপণ্য সংস্থাকে। এবং এক একটি সংস্থাকে এক্ষেত্রে একটি বা দুটি রাজ্যেকে সুরক্ষা স্টোর চিহ্নিত করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হবে। উপভোক্তা সংক্রান্ত দপ্তরের সচিব পবনকুমার আগরওয়াল ইতিমধ্যেই ভোগ পণ্য সংস্থাগুলির সঙ্গে একবার আলোচনা করেছেন।

রিপোর্ট অনুসারে আগামী 45 দিনের মধ্যে এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে। যদিও আগারওয়াল ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু বিস্তারিত ভাবে জানাতে রাজি হননি। সুরক্ষা স্টোর হতে গেলে সরকারের তরফ থেকে দেওয়া কতগুলি বিধি মেনে চলতে হবে। যেমন দোকানের কাউন্টারে এবং বাইরে থাকা গ্রাহকদের মধ্যে অন্তত দেড় মিটার দূরত্ব থাকতে হবে। এছাড়াও দোকানে ঢোকার আগে ক্রেতারা যাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে তার ব্যবস্থা করতে হবে। এবং দোকানের সমস্ত কর্মীদের মাক্স ব্যবহার করে জিনিস দিতে হবে।

দোকানের যে সমস্ত জায়গায় কর্মীদের বারবার হাত দিতে হয় সেই জায়গাগুলিগে দিনে দুবার জীবাণুমুক্ত করতে হবে। একটি ভোগ্যপণ্য সংস্থার এক শীর্ষ কর্মী জানিয়েছেন, 50 টি ভোগ্যপণ্য সংস্থা মুদির দোকানের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে এ সম্পর্কে। সেই সঙ্গে মাক্স, স্যানিটাইজার এবং গ্লাভস দেওয়া হবে তাদেরকে। এছাড়াও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং মাঝারি সংস্থাগুলিকে সাহায্য করবে বড় শিল্প সংস্থাগুলি।অপরদিকে আবার আজকে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী ও উপভোক্তা মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান জানিয়েছেন, সরকারি গুদামে এখনো পর্যন্ত 299.48 লক্ষ মেট্রিক টন চাল ও 235.33 লক্ষ মেট্রিক টন গম মজুদ রয়েছে।

অর্থাৎ মোট এক্ষেত্রে রেশন মজুত রয়েছে 538.78 লক্ষ মেট্রিক টন। এরপর তিনি আরো জানান, প্রত্যেক মাসে রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট 60 লক্ষ মেট্রিক টন চাল ও গম দেওয়া হয় সাধারণ মানুষকে। ফলে বর্তমানে সরকারের কাছে যা খাদ্যশস্য মজুদ আছে তাতে 9 মাস চলে যাবে। লকডাউন এর ফলে যাতে কোনো গরিব অভুক্ত না থাকে তার জন্য সরকারের তরফ থেকে চাল ও গম এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।