কেন্দ্রের তরফে জারি নির্দেশিকা, সংক্রমণে লাগাম টানতে 1 ডিসেম্বর থেকে জারি করা হচ্ছে নতুন বিধি নিষেধ

যদিও এই মুহূর্তে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে কোভিড সংক্রমণের হার অনেকটাই কমে গিয়েছে তবে এই মুহূর্তে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দিল্লি সহ আরো কয়েকটি রাজ্য যেখানে এই করোনা সংক্রমণের হার রীতিমতো চিন্তায় ফেলেছে সরকারকে। যদিও এই সংক্রমণে লাগাম টানতে নতুন করে বিধি-নিষেধ জারি করতে শুরু করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তরফ থেকে আর এরপরেই আবার জল্পনা উঠতে শুরু করেছিল তাহলে কী আবারও দেশজুড়ে লাগু করা হবে লকডাউন?

সেই বিষয় নিয়ে আজ কেন্দ্রের তরফ থেকে বড় আপডেট বেরিয়ে এল যেখানে এই লকডাউনের জল্পনাকে পুরোপুরিভাবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রের তরফ থেকে আগামী 1 ডিসেম্বর থেকে ভারতে কী কী বিধি-নিষেধ জারি করা হবে সে নিয়ে আজ বুধবার দিন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তবে আর দেরি না করে সেই বিধিনিষেধ সম্পর্কিত কেন্দ্রের তরফে যে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে সেগুলি দেখে নেওয়া যাক।

1) কেন্দ্রের তরফে জারি করা এই নির্দেশিকায় প্রথমেই বলা হয়েছে কনটেনমেন্ট জোন গুলিতে আরো এক মাস জারি থাকবে কড়া নির্দেশিকা।যেখানে জরুরী পরিষেবা ছাড়া কোন কিছুতে ছাড় দেওয়া যাবে না ওই পরিষেবায় যুক্ত মানুষজনের চলাফেরা ছাড়া কাউকে ওই অঞ্চলের বাইরে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হবে না আর এই এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারি চালাতে হবে পাশাপাশি বাড়ানো হবে কোভিড টেস্টিং।কোন ব্যক্তি যদি কোভিড পজিটিভ হওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে তাদের 14 দিনের মধ্যে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে করতে হবে। সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের 80% কে চিহ্নিত করতে হবে তিন দিনের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকা রোগীদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে হবে এক্ষেত্রে।

দ্বিতীয়তঃ কোভিড- আচরণবিধির নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত প্রশাসন গুলিকে। মাক্স পরা থেকে শুরু করে নিয়মিত হাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং শারীরিক দূরত্বও মেনে চলার ব্যাপারে একাধিক সচেতন বার্তা প্রেরণ করতে হবে। তার পাশাপাশি মাস্ক না পরার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন ব্যক্তিদের শাস্তি স্বরূপ মোটা অঙ্কের জরিমানা করতে বলা হয়েছে।এর পাশাপাশি প্রশাসনকে এই ব্যাপারেও নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে যাতে বাজার, শপিং মল এই ধরনের জায়গা গুলিতে ভীড় না হয় এবং শারীরিক দূরত্বও নিয়মিত পালন করা হয়।

3) অন্যদিকে কনটেইনমেন্ট জোনের বাইরে যেসব জায়গাগুলি রয়েছে সেগুলোতে কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞা নেই একথা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফ থেকে তবে সেক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম বিধি ঠিক করে দেওয়া হয়েছে যেখানে জানানো হয়েছে 50 শতাংশ দর্শককে নিয়ে সিনেমা এবং থিয়েটার খুলে রাখা যাবে। আর শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের জন্য সুইমিংপুল খোলা থাকবে। তার পাশাপাশি বিজনেস টু বিজনেস এর জন্য শুধুমাত্র প্রদর্শনীর খোলা যাবে।তাছাড়া বিভিন্ন রকমের সামাজিক, শিক্ষামূলক, ক্রীয়া সংক্রান্ত, বিনোদন সংক্রান্ত, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হোক কিংবা সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হোক বড় হলে করা যাবে সেক্ষেত্রে হলের যে ধারণক্ষমতার তার 50% দর্শক উপস্থিত থাকতে পারবে সেখানে। আর হল ঘর যদি বড় হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ 200 জন হাজির থাকতে পারবে সেখানে।

4) আন্তঃরাজ্য ও অন্তঃজেলা চলাফেরার ক্ষেত্রে কোন প্রকার বিধি-নিষেধ রাখা হয়নি এবার। জিনিসপত্রের গাড়ি এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবেন আর এক্ষেত্রে দরকার পড়বে না কোনো প্রকারের ই-পাসের।

5) রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলির জন্য কেন্দ্রের তরফ থেকে আরো একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যেখানে জানানো হয়েছে কনটেইনমেন্ট জোন গুলিতে এবার কোন প্রকারের লকডাউন আর করা যাবে না কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া। তবে স্থানীয় ভাবে বিধি-নিষেধ আরোপ করতে পারে তারা। এর পাশাপাশি প্রশাসনের তরফ থেকে শহরের সাপ্তাহিক সংক্রমণের হার 10% এবং তার বেশি হলে সেখানকার অফিসগুলোতে কর্মীদের উপস্থিতি কমানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারে

6) ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের সুরক্ষার্তে কেন্দ্রের তরফ থেকে আরও একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে যেখানে জানানো হয়েছে 10 বছরের নীচে থাকা শিশু, 65 বছরের উর্ধ্বে যে কোন ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা এবং কোমর্বিডিটি থাকা মানুষদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ।