সারদা কাণ্ডের দরুন এবার মমতা ব্যানার্জির বাড়িতে সিবিআই এর নোটিশ। ১০ থেকে ১৩ ই ডিসেম্বরের মধ্যে হতে হবে….

এতদিন ধরে সারদা এবং নারদা কান্ড নিয়ে নানান তদন্ত চলছে এবং অনেক তদন্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এবার সামনের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন কে কেন্দ্র করে সিবিআই সারাদা এবং নারদা কাণ্ডের তদন্তে ব্যাপক জোর বাড়িয়েছে। এতদিন ধরে তৃণমূলের দাপুটে এবং বড় বড় নেতাদের বাড়িতে এই সারদা এবং নারদা কান্ড নিয়ে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সিবিআই। এর ফলে তাদের কে এই ব্যাপারে ব্যাপক অস্বস্তিজনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু এবার সিবিআই এর নোটিশ সবকিছুর উর্দ্ধে চলে গেল। সেই সব কিছুকে ছাপিয়ে এবার সিবিআই এর নোটিস পৌঁছে গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বাড়িতে। মানিক মজুমদার যিনি গত ৪০ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে সচিবের কাজ করছেন।

এবার সেই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কে সিবিআই এর তরফে নোটিশ জারি করে সিবিআই দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল। সিবিআই তাদের এই বিশেষ নোটিস শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতেই পাঠান নি, বরং তার সাথে আরও দুই জন তৃণমূল নেতার বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেই দুজন নেতা হলেন সাংসদ সুব্রত বক্সী এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন। এছাড়াও একজন প্রাপ্তন তৃণমূল সাংসদের বাড়িতেও এই নোটিশ জারি করা হয়েছে।সিবিআই তাদের বিশেষ রিপোর্টে এটাই জানিয়েছেন যে, যখন সিবিআই এর তরফ থেকে সারদা কাণ্ডের তদন্তে নামা হয় তখন মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা একাধিক ছবি তাদের নজরে চলে আসে। এবং মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা সেই সব ছবি গুলি বিরাট পরিমাণ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন সারদা ও নারদার মত চিটফান্ড গুলি। এবং তৃনমূলের মুখপাত্রের তহবিলে সেই সমস্ত টাকা গিয়ে জমা হয়।

এর ফলে সিবিআই তরফ থেকে সেই প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে যারা এই তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণের সাথে যুক্ত। আর কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি ঘটে গিয়েছে ঠিক এই জায়গাতেই।বিভিন্ন ব্যাংক কিংবা আয়কর দপ্তর সর্বত্রই দলীয় মুখপাত্রের বাড়ির ঠিকানা দেখানো হয়েছে ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রীট। আর এটা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ীর ঠিকানা ফলে মানিক মজুমদারের বদলে এই চিঠি পৌঁছে যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। এরপরই নিজেদের ভুল শুধরে নেয় সিবিআই এবং চিঠি টি মানিক মজুমদারের বাড়িতেই পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, সেই তহবিলের মুখ্যমন্ত্রীর ছবি বিক্রি করার জন্য নারদা এবং সারদার তরফ থেকে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। এমনই একটা রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে সিবিআই এর হাতে। এজন্যই ১০ থেকে ১৩ ই ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূলের এই সমস্ত নেতা-সাংসদদের হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন সিবিআই।
#অগ্নিপুত্র