বাজেট ২০২১-এ বিরোধীদের হট্টগোলের মাঝে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাধিক বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

করোনাকালে 2021 অর্থবছরের প্রথম সাধারণ বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। মহামারীর আবহে দেশকে ফের উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ একমাত্র মন্ত্র তাঁর কাছে। ‘পেপার লেস’ বাজেট পেশ করলেন নির্মলা সীতারমন।

বাজেট পেশ করে তিনি  বলেন, “আমরা আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে বাজেট তৈরি করেছি। ধারাবাহিক বৃদ্ধির চেষ্টা থাকবে এই বাজেটে। ৫৪ হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ হয়েছে। এর ফলে ১৭ হাজার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত হবে। সরকার যে আত্মনির্ভর প্রকল্প নিয়েছে তা জিডিপির ১৩ শতাংশ। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে আমরা দায়বদ্ধ। করোনা ভ্যাকসিন তৈরিতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার জন্য উৎপাদন ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে হবে। ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরকে মজবুত করতে পাঁচ বছরে ১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। করোনা টিকার জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “গরিব মানুষের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছে সরকার। এর আগে তিনটি আত্মনির্ভর প্যাকেজ প্রায় তিনটি মিনি বাজেটের সমান ছিল।”

এছাড়া, ‘PM Atmanirbhar Swasth Bharat Yojana’ প্রকল্প চালু করার কথা ঘোষণা করলেন নির্মলা। আগামী ছ’বছর  এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা হল ৬৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা।

২০২০ এর মে মাসে করোনার জেরে আর্থিক সঙ্কট থেকে ত্রাণের জন্য ২০ লক্ষ কোটি টাকার ‘আত্মনির্ভর’ প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র সরকার । কৃষি-মৎস্য-দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেও  মানুষকে সরাসরি টাকা দেওয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ নির্বাক ছিলেন অর্থমন্ত্রী। মধ্যবিত্তের জন্য ট্যাক্স ছাড় বা অন্য কোনওরকম ঘোষণাই স্থান পায়নি ‘আত্মনির্ভর’ প্যাকেজে।

BSNL-এর দুর্দান্ত প্ল্যান!মিলছে 500 টাকার ও কম মূল্যে 135GB ডেটা সহ আনলিমিটেড কলের সুবিধা

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, লকডাউনে চাহিদা প্রায় নেই৷ ব্যবসা বন্ধ হকারদের, সেক্ষেত্রে তাঁরা ১০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে লোন নেবেন কেন? বাজারে খদ্দের নেই, সেক্ষেত্রে নতুন করে পসরা সাজাবেন কি তাঁরা? ক্ষুদ্র বা মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রেও এই  প্রশ্ন উঠছে৷

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদর মতে, চাহিদা ও যোগান আর্থিক এই দুটি দিক বিবেচ্য৷ আনলক পর্বেও চাহিদা তেমন নেই৷ এদিকে  সরকার ব্যাংকের মাধ্যমে লোন জোগান দিতে ব্যস্ত।  জোগানের দিক নিয়েই বেশি ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। করোনা আবহে মধ্যবিত্তদের আয়করে কিছুটা ছাড় দিয়ে বাজার মুখী করার চেষ্টা করা যেত৷ লকডাউনের জেরে গত দু’মাসে প্রবল ক্ষতি হয়েছে রাজকোষ এর । তাই এবার মানুষের হাতে নগদ টাকা পৌঁছে দেবে সরকার এমনটাই আশা করা হচ্ছে এই বাজেটে।

তার পাশাপাশি গত অর্থবর্ষের তুলনায় এবছর দেশের স্বাস্থ্যখাতে খরচ বাড়ানো হল প্রায় ১৩৫ শতাংশ। আগে যেখানে এই স্বাস্থ্যখাতে খরচ ছিল মাত্র ৯৪ হাজার কোটি টাকা। সেখানে এবার ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভারতের স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বেড়ে তার পরিমাণ হল ২ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

 

অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বাংলার জন্য রাস্তা উন্নয়ন ও রেলের জন্য বাজেটে মোটা টাকা বরাদ্দ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। একদিকে নতুন রাস্তা তৈরির পাশাপাশি অন্যদিকে কলকাতা- শিলিগুড়ির রাস্তা উন্নয়নে জোর দিল সরকার। যার জন্য এবারের বাজেটে বাংলার ঝুলিতে এল মোটা বরাদ্দ। জানানো হচ্ছে আগামী দিনে বাংলায় নতুন করে ৬৭৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হবে। তার পাশাপাশি সারানো হবে কলকাতা-শিলিগুড়ির রাস্তাও। সবমিলিয়ে যার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২৫ হাজার কোটি।

অর্থমন্ত্রী জানান, ১ কোটির থেকে বেশি মানুষের কাছে উজ্জ্বলা যোজনা পৌঁছে দেওয়া হবে। আমরা আগামী তিন বছরে শহরের গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক আরও ১০০ টি জেলার সাথে যুক্ত করব। জম্মু আর কাশ্মীরে গ্যাস পাইপলাইন পরিষেবা শুরু হবে।