শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার আগে কাঁদতে কাঁদতে নববধূর মৃত্যু

কথায় বলা হয় জন্ম মৃত্যু বিয়ে তিন বিধাতা কে নিয়ে। মায়ের গর্ভে যখন একটি সন্তান থাকেন তখন থেকেই তার ভাগ্য বিধাতা লিখে দেন। সেই শিশুটি কবে জন্মাবে, তার জীবনে কখন কি ঘটবে, কত বছর বয়সে মারা যাবে সবই রয়েছে ঈশ্বরের হাতে। জীবনে কার যে কখন কি হয় তা কেউই বলতে পারে না। এবার আমরা দেখলাম উড়িষ্যার একটি বিয়ের সানাইয়ের সুর কীভাবে পরিণত হল বিষাদে। কনে বিদায়ের সময় কাঁদতে কাঁদতে প্রাণ হারালেন নববধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার সোনপুরে। জুলুন্দার বাসিন্দা গুপ্তেশ্বরী সাহু ওরফে রোসি সাহু ও টেটেলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বিসিকেসনের বিয়ে ছিল গত শুক্রবার। বিয়ের বিভিন্ন রীতির মধ্যে অন্যতম হল কনে বিদায় পর্ব।

বিয়ের পরদিন কোনে তাঁর নিজের বাপের বাড়ির আত্মীয়দের ছেড়ে স্বামীর সাথে শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। মেয়েটি ছোট থেকে যে মানুষগুলোর সাথে বড় হয়ে উঠল। সেই মানুষগুলোকে ছেড়ে শশুড়বাড়ি যেতে প্রতিটা মেয়ের চোখ দিয়ে অশ্রু বন্যা বয়ে যায়। আর কোনের সাথে তাঁর বাপের বাড়ির আত্মীয়-স্বজনরাও চোখের জল ফেলেন।

ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ওই কনেটিও তাঁর স্বামীর সাথে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার আগে বাপের বাড়ির আত্মীয় স্বজনদের জন্য চোখের জল ফেলছে। হঠাৎ করে দেখা যায় যে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে। তাঁর জ্ঞান ফেরানোর জন্য অনেক চেষ্টা চরিত্র করা হয়।

অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও তার ফল পাওয়া যায়নি। অবশেষে বিয়ে বাড়ির লোকজন নববধূকে নিয়ে হাসপাতালে হাজির হন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ওই মেয়েটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাপের বাড়ির আত্মীয়দের ছেড়ে চলে আসার দুঃখে মেয়েটির হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

কিছুদিন আগে মেয়েটি তার বাবাকে হারিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই সে কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছিল। এইবার বিয়ের পরের দিন বাপের বাড়ির আত্মীয় স্বজনদের ছেড়ে শশুড়বাড়ি যেতে হবে বলে দুঃখে তার হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে।