বিজেপির মুখে ঝামা ঘষে তৃণমূল জয়েন করলেন বাবুল সুপ্রিয়

বেশ কিছুদিনআগেই পুরোপুরি ভাবে নিজেকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে নেবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। “জীবনে আর যাই করি রাজনীতি আর করবো না” এমনি বলেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তবে দেড় মাস কাটতে না কাটতেই ফের রাজনীতি ফিরে এলেন তিনি।যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। তাঁর এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবানীপুর উপনির্বাচনের আগে জোর ধাক্কা খেলো বিজেপি। বিজেপির কাছে এই খবর বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত।একপক্ষ কালও বাকি নেই উপ- নির্বাচনের।

এই পরিস্থিতিতে দল ত্যাগ করে পুরোপুরি ভাবে নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কর্মী হিসেবে ঘোষণা করলেন বাবুল সুপ্রিয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। এখন অনেকেরই প্রশ্ন কেন কথা রাখতে পারলেন না বাবুল সুপ্রিয় ?পুরোপুরি ভাবে নিজেকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেবার কথা বলেও কেন যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে !?এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি তাঁর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন আমার একটাই দল বিজেপি এবং একটা দলেরই সমর্থক মোহনবাগান। কিন্তু এতকিছুর পরও তিনি যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। বিজেপি সাংসদ মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জে টিকিটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁর হারের পরই তিনি কোণঠাসা হতে শুরু করেন । বাবুল সুপ্রিয় প্রথম থেকেই ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি । তবে তাঁকে মন্ত্রিত্ব পদ থেকে সরানো কখনোই মেনে নিতে পারেননি।

Advertisements

একথা অনেকেই মনে করছেন বিজেপিতে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে বিজেপি তে তাঁর ভালো না থাকার কারণেই তিনি এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মূলত রাজনীতি থেকে বীতশ্রদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তিনি অনেকদিন আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজনীতি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেবার এবং সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা তিনি ভাবছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সাথে আলোচনা করে তিনি নিজেকে সাংসদ পদ থেকে সরিয়ে নেন নি।

Advertisements

বাবুল সুপ্রিয় পরবর্তীকালে বলেন “যেহেতু আমি আসানসোলবাসীর কাছে দায়বদ্ধ তাই আমি সাংসদ পদ এখনই ছাড়তে পারছিনা “।ভবানীপুর উপনির্বাচনে তারকা প্রচারক এর তালিকায় তাঁর নাম ছিল। কিন্তু এতকিছুর পরও কয়েকদিনের মধ্যেই পড়ে বদলে গেল পরিস্থিতি ।বাবুল সুপ্রিয় নিজের সিদ্ধান্ত বদলালেন। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত ভবানীপুরের উপ নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি যোগ দিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

বিজেপি ঘুনাক্ষরেও কল্পণা করতে পারেনি বঙ্গ রাজনীতির অন্তরে যে এত বড় ঘটনা ঘটতে পারে । জানা যাচ্ছে যথেষ্ট গোপনীয়তা বজায় রেখেই বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে বাবুল সুপ্রিয় এর সিদ্ধান্তের ফলে রাজনীতিতে নয়া মোড় এল। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে কোনদিনই সুসম্পর্ক নেই বাবুল সুপ্রিয়র। অন্যদিকে শুভেন্দু সঙ্গে যথেষ্ট ভাল সম্পর্ক রয়েছে তাঁর ।

বেশ কিছুদিন আগে কিছু কথাবার্তা হয় শুভ্যেন্দুর সাথে। কিন্তু বিজেপিকে কিছু বুঝতে না দিয়ে হঠাৎ করেই তৃণমূলে যোগদান করা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি এসেছিল ক্ষমতায় । সেই সময় বিজেপির বাংলা সংসদ প্রতিনিধি হিসেবে একমাত্র বাবুল সুপ্রিয় ছিলেন ।বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করা গেরুয়া শিবিরের কাছে বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।