জন্ম গরিব পরিবারে, কিন্তু ক্রিকেট বদলে দিয়েছে এই ক্রিকেটারের জীবন

সবাই ধনী ব্যক্তি হয়ে জন্মগ্রহণ করেন না। কঠোর পরিশ্রম আর ভাগ্যের জোরে সফলতার দোরগোড়ায় গিয়ে পৌঁছায়। বহু ভারতীয় ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও তা দেখা গেছে। আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভারতীয় ক্রিকেটাররা উঠে এসেছেন। এবং এনারা কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা ভারতীয় দলকে এক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আর আজকে আমরা এমন কয়েকজন ভারতীয় ক্রিকেটারদের সম্বন্ধে আলোচনা করবো যারা কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা নিজেকে ধনী ক্রিকেটারে পরিণত করেছেন।

1. জাহির খান – জাহির খান প্রথমে মুম্বাই ন্যাশনাল ক্লাবে সুযোগ পান। এখানে সুযোগ পাওয়ার পর জাহিরকে তার আন্টির সঙ্গে মুম্বাইয়ে এক হাসপাতলে একটি বেডের মধ্যে দিন কাটাতে হয়। কারণ তার আন্টি হাসপাতালে হেলপারের কাজ করতেন। জাহির খানের পরিবারের অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে দুবেলা- দুমুঠো খাবার জুটতো না। তবুও তিনি সকালে খালি পেটে চলে যেতেন প্র্যাকটিসে। এরপর জাহিরের মেন্টর সুধীর নায়েক তার জন্য 5000 টাকার কাজ দেখে দেন। এই কাজ করেই তিনি সমস্ত খরচা চালাতেন।

এরপর 2000 সালে কেনিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে তে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে অভিষেক ঘটে এই বাঁহাতি পেসারের। এরপর ধীরে ধীরে প্রাকটিসের মাধ্যমে সেই সময়কার ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলার হয়ে ওঠেন তিনি।

2. বিনোদ কাম্বলি – মুম্বাইয়ের এক বস্তি থেকে ভারতীয় ক্রিকেটে আগমন ঘটে তার। এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পেছনে ছিল তার কঠোর পরিশ্রম। ইনার বাবা পেশায় ছিলেন একজন সামান্য মেকানিক। মাসে আয় ছিল মাত্র 500 টাকা। আর একটি ঘরে 18 জন মিলে থাকতেন তারা। শোনা গিয়েছিল কাম্বলি ক্রিকেটের প্রতি এত নেশা ছিল যে ব্যাট কিনার জন্য একবার চুরি পর্যন্ত করেছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি একবার স্কুল ক্রিকেটের সারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরের হয়ে শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে তার 664 রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। তার এই পার্টনারশিপ শুধু ভারতেই নয় বিশ্ব ক্রিকেট জগতের নজর কাড়ে। কার্যত এরপর থেকেই তার ভাগ্য অনেকটা ঘুরে যায়।

 

 

3. মুনাফ প্যাটেল – গুজরাটের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয় মুনাফ প্যাটেলের। এনার বাবা পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। প্রত্যেকদিন 35 টাকা বেতনে কাজ করতেন এনার বাবা। এরপর মুনাফ প্যাটেল এর ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক দেখে গ্রামের এক ব্যক্তি তাকে জুতো কিনে দেন এবং বরোদার ক্রিকেট ক্লাবে ভর্তি করে দেন। এরপরে এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনের জন্য ট্রায়াল দিতে যান তিনি। সেখানেই কিংবদন্তি অজি পেসার ডেনিস লিলির তত্ত্বাবধানে প্র্যাকটিস করেন মুনাফ প্যাটেল। এর পরে ধীরে ধীরে কঠিন পরিশ্রমের দ্বারা হয়ে ওঠেন ভারতীয় দলের বোলার। 2006 সালে টেস্টে অভিষেক হয় তার। ভারতের হয়ে 13 টি টেস্ট এবং 70 টি ওয়ানডে খেলেন তিনি।

4. বিরাট কোহলি – বর্তমানে ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি পরিবারের অবস্থা শোচনীয় ছিল। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতন অবস্থা ছিল তার পরিবারের। কিন্তু তার কঠোর পরিশ্রম যে আজ বিফলে যায়নি তার প্রকৃত কারণ তিনি।

5. রবীন্দ্র জাদেজা – এনার বাবা পেশায় একজন বেসরকারি সংস্থার সিকিউরিটি গার্ডছিলেন। দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে নিজেকে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম জাদেজা। কিন্তু তার এই ইচ্ছা 2005 সালে যখন তার মা দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন তখনই শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তার বোন একটি পার্টটাইম কাজ করে তার খেলার সমস্ত খরচ চালাতেন। এরপর ধীরে ধীরে কঠিন পরিশ্রমের দ্বারা একসময় বিরাট কোহলির অধিনায়কত্বে অনূর্ধ্ব-19 এর বিশ্বকাপে সুযোগ পান তিনি। এবং জয়ী দলের সহ-অধিনায়কের ও ভূমিকা পালন করেন রবীন্দ্র জাদেজা।