মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে শুরু করা বনসাই এখন কোটি টাকার সম্পদ

মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে শুরু হয়েছিল তার জীবনের শখ।প্রকৃতি প্রেমী মানুষ তিনি, তার জীবনে অন্যতম প্রধান ভালোবাসা হল গাছ-গাছালি। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই মন তার থাকে না ঘরে। মন পড়ে থাকে ছাদে কারণ সেই ছাদেই তো তিনি প্রথম ১০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন তার শখ বনসাই এর লালন পালন। আর আজ সেই বনসাই এখন তার কোটি টাকার সম্পত্তি।আজ কথা বলছি মুন্সিগঞ্জ এর চরপাথালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সরকারি চাকুরিজীবী কেএম সবুজের কথা। তার পুরো নাম খান মোহাম্মদ সবুজ।

নাম যেমন সবুজ ঠিক তেমনি সবুজ প্রকৃতিপ্রেমী। তার ছাদে উঠলে ভরে যায় মন, বনসাই এর নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। বাড়ির উপরে দুটি ছাদ ও সামনে আড়াই বিঘা জমি নিয়ে তিনি তৈরী করেছেন এই বিশাল বনসাই এর স্বপ্নের বাগান। বনসাই এর প্রতি প্রেমটা জন্মায় তার ১৯৯৬ সাল থেকে। সিলেটে এক নার্সারিতে ঘুরতে গিয়ে তার চোখে পড়ে বনসাই অবশ্য তখনো তিনি বনসাই এর বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তবে বরাবরই গাছ প্রেমী বলে তিনি মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে চারটে তেঁতুল গাছের চারা দিয়ে শুরু করেন বনসাই এর চাষ।

এই মুহুর্তে তার কাছে রয়েছে ২০ হাজার এর উপরের প্রায় বিভিন্ন প্রজাতির বনসাই। যেখানে রয়েছে প্রায় ১ হাজার টাকা থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার বনসাই। তার এই অভিনব উদ্যোগ দেখে দেশ বিদেশ থেকে বহু যুবক এখন তার থেকে নিজেদের বেকারত্ব দূর করতে বনসাই এর উপর নিচ্ছেন বহু প্রশিক্ষণ। সবুজ জানিয়েছেন বনসাই শিল্প সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বহু বেকার মানুষের কর্মস্থল ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে।বনসাই

বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে মোট ১২ জন শ্রমিক‌।তাছাড়াও তার কাজে এখন সহায়তা করেন তার স্ত্রী, শশুর-শাশুড়ি সহ তার পরিবার বর্গ। ইতিমধ্যেই সবুজ তার বনসাই শিল্পে পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পদক। সবুজ নিজে ২০০৭ সালে বনসাই শিল্পী নামজুল হাসানের কাছে বনসাই এর উপর প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তী কালে চীন, মালোয়েশিয়া, ও সিঙ্গাপুরে বনসাই এর উপর প্রশিক্ষণ নেন।প্রতি বছরে কম করেও প্রায় ২০ লাখ টাকার বনসাই ভারত ও মালোয়েশিয়ায় রপ্তানি করেন।

সবুজ জানিয়েছেন, এই বনসাই এর লালন পালন করতে গিয়ে পরিবারের কাছ থেকে তার জুটেছে অবহেলা কারণ সারাদিন গাছপালা নিয়ে পরে থাকতেন তিনি, সারাদিন বনসাই নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে আত্মীয় স্বজনরা তাকে বলতেন গাছা সবুজ। একটা সময়ের পর পরিবারের সদস্যরা তার ওপর অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। ঠিক সেই সময়েই একটি বনসাই ৪০,০০০ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করে তার জীবনে এনে দেয় আমূল পরিবর্তন। তার পর থেকেই সবুজ আরও জোর দেন বনসাই চাষে।