প্রেম ভাঙার দুঃখ থেকে, ধার করা আংটি নিয়ে এনগেজমেন্ট অভিনেতা ঋষি কাপুরের জীবনে কত কিছুই না ঘটেছে

সম্প্রতি ঋষি কাপুরের মৃত্যুতে শোকাহত গোটা সিনে জগৎ। তার অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বহু মানুষের মন জয় করেছিলেন। বান্ধবীদের সঙ্গে ব্রেকআপ এর দুঃখ থেকে শুরু করে মরণ রোগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালাচ্ছিলেন এই বলিষ্ঠ অভিনেতা। এই সময় তার জীবনের প্রতিটি পর্বে পাশে ছিলেন এক শিখ নারী। কৈশোর থেকে পৌঢ়ত্ব, ঋষি কাপুরের ভরসা জাগান তার স্ত্রী নীতু। এই নীতু সিংহ অনেক ছোট থেকেই অভিনয় জগতে পা রেখেছেন।সংসারের হাল এটটা সচল না থাকায় তাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়। এরপর ধীরে ধীরে বড় পর্দার নায়িকা হয়ে যান তিনি।

ঋষি কাপুরের সাথে তার প্রথম দেখা হয়েছিল ‘জহরিলা ইনসান’ এর সেটে। যদিও প্রথম দেখাতেই প্রেমের কোনো ইঙ্গিত ছিল না দুজনার মধ্যে বরং ঋষি খুব উত্যক্ত করতেন নীতুকে। কিন্তু এক্ষেত্রে সিনেমার মতনই বাস্তব জীবনে ঘটে গেল। পরবর্তী কালে বিরক্ত করা ছেলেটির প্রেমে পড়ে গেলেন নীতু। অপরদিকে সেই সময় ঋষির অনেক বান্ধবী। এবং তার সঙ্গে প্রেম ভেঙে যাওয়ার সমস্ত দুঃখ তিনি নীতুর সঙ্গে শেয়ার করতেন। এরপর  1976 সালে কাশ্মীরে ঋষি-নীতু শুটিং করলেন ‘কভি কভি’ ছবিতে। এরপর ঋষি ‘বারুদ’ সিনেমার শুটিং করতে চলে গেলেন প্যারিসে।

সেখানে নীতুর কথা তার সব সময় মনে পড়তো।অবশেষে ঋষি থাকতে না পেরে নীতুকে টেলিগ্রাম করেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘ইয়ে শিখনি বড়ই ইয়াদ আতি হ্যায়।’ এই লেখা দেখে নীতু তো আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলেন। কিন্তু মনের কথা বাইরে এসে কী লাভ হবে। তিনি নাকি শুধুই ডেট করবেন। নীতুকে জানালেন ঋষি। একথা জানার পরেও ঋষিকে ছেড়ে যাননি নীতু। তিনি এতটাই ভালবাসতাম ঋষিকে যে টানা চার বছর চললো প্রেমপর্ব। এরপর শেষ পর্যন্ত কাপুর পরিবারের তরফ থেকে বাগদানের অনুষ্ঠান আয়োজিত করা হলো।

1979 সালে দিল্লিতে এক আত্মিয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে হঠাৎ আংটি বদল হয় ঋষি-নীতুর। কিন্তু এর আগেই এনগেজমেন্ট সম্বন্ধে কিছুই জানতেন না ঋষি-নীতু। এমনকি তাদের কাছে দেওয়ার মতো আংটিও ছিলনা। অন্যের কাছ থেকে আংটি নিয়ে ঋষি পরিয়ে দিয়েছিলেন নীতুকে। অপরদিকে নীতুরে সম্পর্ক নিয়ে সামান্য হলেও আপত্তি ছিল নীতুর মায়ের। তাই মেয়ে যখনই ডেটে যেত তখনই তার সঙ্গে নীতুর ভাইকে পাঠিয়ে দিত। এছাড়াও বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নীতুর মনে খানিকটা খচখচানি ছিল। কারন বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি চলে গেলে তার পরিবারকে কে দেখবে।

এরকম চলতে চলতে শেষ পর্যন্ত 1980 সালে সাত পাকে বাঁধা পড়েন এই দুজন। সেই সময় ঋষির বয়স ছিল 28 বছর এবং নীতুর বয়স ছিল 22 বছর।  বিয়ের পরে তিনি আর অভিনয় করবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন নীতু। কারণ তিনি চেয়েছিলেন বিয়ের পর মন দিয়ে সংসার করতে।
এরপর 1980 সালে ঋষি-নীতুর মেয়ে ঋদ্ধিমার।  এরপর দু’বছর পরে জন্ম হয় রণবীরের। নব্বইয়ের দশকের শেষে জানা গিয়েছিল, সুরাসক্ত ঋষির নির্যাতনের ফলে ঘর ছেড়েছেন নীতু। পরে অবশ্য সব ঘটনা চাপা পড়ে যায়। কাপুর পরিবারের নীতুর সংসার এখন অটুট।

ঋষি নিজে মেনে নিয়েছিলেন যে, তার এই সাফল্যের পিছনে নীতুর ভূমিকা অপরিসীম। কারণ তার মতো জীবনসঙ্গীর সঙ্গে ঘর করা কঠিন। এরপর তিন দশক পর ঋষির সঙ্গে আবার অভিনয় করেন নীতু। ‘লভ আজ কাল’, ‘দো দুনি চার’, ‘বেশরম’ সহ আরও কয়েকটি সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয় করেন ঋষি-নীতু জুটি।