‘‘ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের আমরা গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবো’’- দিলীপ ঘোষ!

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘ বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিমরা দাঙ্গা করার চেষ্টা করছে, তাদের ভারতে থাকতে দেওয়া হবে না। রাজ্যে বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ওদের বের করে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের সম্মান দেওয়াটাই বিজেপির কর্তব্য। আজ বিজেপি সেই কাজটি করছে।’ পূর্ব বর্তমানের জামালপুর থানার নুড়মুড় সংলগ্ন মাঠে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে গণহত্যার প্রতিবাদে বিজেপি ঢাকা সভাতে এভাবে কড়া মন্তব্য করল দিলীপ ঘোষ। তিনি এও বলেন যে,’ বর্তমানের জামালপুর এলাকায় এখন তৃণমূলের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যা আগে ছিল সিপিএমের।

কিন্তু এই জায়গায় অনেক বাংলাদেশ থেকে আগত মানুষেরা বাস করেন। আর এইসব মানুষদের জন্য তৃণমূল সিপিএম বা কংগ্রেস কেউই কোনো কাজ করেননি। অপরদিকে বিজেপি এই সমস্ত বাংলাদেশী হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য মোদীজি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পার্লামেন্টে বিল পেশ করেছে। অথচ বাকি বিরোধী দলগুলো এই বিলের বিরোধিতা করেছে।’
এদিন দিলীপ ঘোষ আরো বলেন,’ আগামী লোকসভা নির্বাচনে যখন এরা ভোট চাইতে আসবে,তখন আপনার জিজ্ঞেস করবেন কেন ওরা বিরোধিতা করছে? তাদের চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞাসা করুন, ভোট নেওয়ার বেলায় ঠিক ভোট নেবে আর দেশে নাগরিকত্ব দেওয়ার সময় কেন ধোঁকা দিয়েছেন?’


রাজ্য বিজেপি সভাপতির অভিযোগ যে ‘ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট কিভাবে করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি। তিনি এও বলেন যে কংগ্রেস আর সিপিএম শীতঘুম ঘুমাচ্ছে এখন। কিন্তু বিজেপি মাঠে দাঁড়িয়ে লড়াই করে যাচ্ছে।’
তৃণমূল কে উদ্দেশ্য করে দীলিপবাবু বলেন,’ কেন্দ্রীয় সরকার চাষীদের কুইন্টাল প্রতি 1770 টাকা করে দিচ্ছে। আর অপরদিকে রাজ্য সরকার দিচ্ছে 850 টাকা বস্তা। চাষীদেরদের ধোঁকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এদিন দীলিপবাবু শুধু এটাই বলেননি তিনি আরো বলেন যে, রাজ্য সরকার চাষীদের কাছ থেকে সস্তায় ধান কিনে কুইন্টাল প্রতি 300 টাকা করে লাভ করছেন তৃণমূল কংগ্রেস।


দিলীপ বাবু বলেন যে, চাষীদের এই ক্ষতি থেকে বাঁচাতে 5 হাজার টাকা করে দেবেন বলেছেন দিদি। তিনি আরো বলেন যে, সবারই এখন একই দর দিচ্ছে দিদির আমলে। কেউ যদি মদ খেয়ে মরে তাহলেও দু’লাখ টাকা,আবার কোন চাষি মরলেও দু’লাখ টাকা। আর মহিলাদের ইজ্জতের ক্ষতি হলে 30 বা 40 হাজার টাকা। তৃণমূলের তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট নিয়েও বলতে ছাড়েননি দিলীপ বাবু। দিলীপ বাবু বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার গরিব মানুষদের শৌচালয় করার জন্য যে টাকা দিচ্ছে সেই টাকাতেই ভাগ বসাচ্ছে দিদির ভাইয়েরা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা তে গরীব মানুষেরা যে টাকা পাচ্ছেন তাতেও ভাগ বসাচ্ছে তৃণমূলের একাংশ।’


দিলীপ ঘোষ বলেন, এই সমস্ত বিষয় গুলি নিয়ে তারা রাজ্যে গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন দিদি। সবাই তাদের গোপন রাজ জেনে যাবে বলে ভয় পেয়ে গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা কে নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা বিজেপি করবেই, এটাকে কেউ আটকাতে পারবেনা। বিজেপিও হাইকোর্টে যাবে।’
দিলীপ বাবু বলেন, ‘ পঞ্চায়েত ভোটে দিদির ভাইয়েরা ভোট করেছে আর বিজেপি তা গ্যালারিতে বসে বসে দেখেছে। লোকসভা নির্বাচনে ভুল করেও যদি দিদির লোকেরা বুথের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করলে মেরে হাড় গুড়ো হয়ে যাবে।’ অন্যান্য দিনের মতোই এই সভাতে উপস্থিত ছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়,জেলা বিজেপির সভাপতি সন্দীপ নন্দী এবং যুব মোর্চার সভাপতি শ্যামল রায় সহ আরো অনেকেই।