মিলছে বড়োসড়ো বিদ্রোহের ইঙ্গিত! হরিয়ানার ৬০ গ্রামে বিজেপি নেতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ

নয়া কৃষিবিলের বিরুদ্ধে কৃষকদের সম্মিলিত প্রতিবাদ সংগ্রাম চলছিল৷ আইন স্থগিত হলেও  কৃষক-ক্ষোভে মলম পড়ল না। সুপ্রিম কোর্ট গঠিত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়েই জোরদার প্রশ্ন উঠছে৷  মধ্যস্থতা কমিটি মানা হবে না,  বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত কৃষকরা। তাঁদের বক্তব্য, যে চার সদস্যকে বাছা হয়েছে, তাঁরা সকলেই নয়া কৃষি বিলের পক্ষে। আর কমিটির কারণে তাঁরা  কোনওভাবেই আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসবেন না, তা  স্পষ্ট করে দিলেন কৃষকরা।  লোহরি উপলক্ষে দিল্লি সীমান্তে আন্দোলনকারী কৃষকরা কৃষি আইনের প্রতিলিপি পুড়িয়ে প্রতীকী বিক্ষোভ দেখালন।

 

হরিয়ানার এই চিত্র বিজেপির বিরুদ্ধে যে চাপ আরও বাড়াবেন কৃষকরা, তা স্পষ্ট হচ্ছে৷ সূত্রের খবর, হরিয়ানার ৬০-৬৫ গ্রামে বিজেপি এবং ও শরিক জেজেপি (JJP) নেতাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি গ্রামের বাইরে রয়েছে সেই নোটিশ। নজরদারি করা হচ্ছে প্রতিটি গ্রামে। বিজেপি নেতাদের ঢুকতে দেখলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি আইন নিয়ে শরিকি চাপ বাড়ছিল৷  এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে যায় পঞ্জাবের শিরোমণি অকালি দল। এখন দুই শরিক রীতিমতো চরম বিরোধী। বিজেপির একাধিক শাসক বিধায়ক ইতিমধ্যেই কৃষি আইনের বিরুদ্ধে।

 

পরিস্থিতি বুঝে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৈঠক করেন৷  উপমুখ্যমন্ত্রী দুষ্মন্ত চৌটালা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতও করেছেন৷ সুপ্রিম কোর্টের তৈরি করা কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব  বিরোধী দলগুলিও।  কেন্দ্রের আনা তিন কৃষি আইন নিয়ে মঙ্গলবার রায়দানের সময়ে প্রধান বিচারপতি এসএ বোবড়ে মন্তব্য করেন, ‘এতে (রায়ে) যদি কারও জয় হয়ে থাকে, তা হলে তা ফেয়ার প্লে-র।’ সুপ্রিম কোর্টের এই ‘ফেয়ার প্লে’ আদৌ হলো কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনরত কৃষক এবং বিরোধীরা। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে  মধ্যস্থতাকারী কমিটি।

 

মমতার মাস্টার স্ট্রোকে চরম সংকটে বিজেপি, বদলে যেতে পারে ভোটের ছবি পর্যন্ত

 

কমিটিতে রয়েছে অশোক গুলাটি, প্রমোদকুমার যোশী, অনিল ঘানওয়াত এবং ভূপিন্দর মান সিং। এই চারজনই নয়া কৃষি আইনের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাই কমিটির  সদস্যদের নাম প্রকাশ্যে আসতেই তাদের না মানার কথা বলেন  নয়াদিল্লির সীমানায় আন্দোলনরত কৃষকদের যৌথ সংগঠন অল ইন্ডিয়া কিষান সংঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সিদ্ধান্ত হয়, সুপ্রিম কোর্ট গঠিত কমিটির সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা হবে না। আন্দোলন যেমন চলছিল, তেমনই চলবে। তিন কৃষি আইন সম্পূর্ণ প্রত্যাহার থেকে সরে আসার কোনও প্রশ্নই নেই।

২৬ জানুয়ারি প্রস্তাবিত ট্র্যাক্টর মিছিলও হবে।  প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ চলাকালীন ট্র্যাক্টর মিছিলের যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকেরা, মঙ্গলবার  দিল্লি পুলিশের একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এস এ বোবড়ে, বিচারপতি এ এস বোপান্না এবং বিচারপতি ভি রামসুব্রহ্মণ্যমের বেঞ্চ এই বিষয়ে নোটিশ দিয়েছেন কৃষকদের৷