বাংলায় এনআরসি হবেই,কলকাতায় এসে জোর গলায় বলে গেলেন স্মৃতি ইরানি..

এনআরসি নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই বিরোধিতা করুক বিজেপি সরকার তাতে যে থেমে যাবে না এর ইঙ্গিত আবারো পাওয়া গেল। এনআরসি হল বিজেপির ঘোষিত করা একটি সিদ্ধান্ত সেটি সারাদেশে লাঘু করা হবে। মঙ্গলবার কলকাতায় এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এমনভাবেই বলে গেলেন। এর সঙ্গে তিনি এও জানান যে বাংলায় নাগরিকপঞ্জি গঠন করার ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কেন্দ্র।

সদ্য আসামে নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এবং তাতে 19 লক্ষ মানুষ তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন। যে বিজেপি এতদিন ধরে এনআরসি পক্ষে সাওয়াল জবাব করে এসেছিল সেই বিজেপি এখন এই তালিকা নিয়ে অখুশি। এছাড়াও এনিয়ে অখুশি বিরোধী কংগ্রেস, এআইইউডিএফ। এতকিছুর পরেও এরাজ্যে এনআরসি লাঘু করতে এক পাও পিছু হাঁটতে নারাজ গেরুয়া শিবির। মঙ্গলবার মোদি সরকারের দ্বিতীয় ইনিংসের 100 দিন সম্পন্ন হওয়া উপলক্ষে কলকাতায় এসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।

এছাড়াও কলকাতায় এসে নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় ইনিংসের 100 দিনের খতিয়ান তুলে ধরেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী। তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল কাশ্মীর থেকে 370 ধারা অপসারণ এবং এনআরসি লাঘু করা। নাগরিকপঞ্জি ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘ অনুপ্রবেশকারীদের’ আটকানোর জন্য বাংলা সহ সারাদেশে এনআরসি লাঘু করা হবে।এটা বিজেপির ঘোষিত কর্মসূচি।’ এছাড়াও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, দেশে এনআরসি লাঘু করা হলেও একজন বৈধ ভারতীয় নাগরিককে দেশ ছেড়ে কোথাও যেতে হবে না।

তবে অনুপ্রবেশকারীরা কোনমতেই ছাড়া পাবে না। এনআরসি ইস্যুতে তৃণমূলের করা বিরোধিতা করায় তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন,’ একটা সময় ভুয়া ভোটার কার্ড আটকাতে সচিত্র ভোটার কার্ডের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা মমতার দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ আমরা জানি শুরু থেকেই এনআরসি ইস্যু নিয়ে বিরোধিতা করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শুরু থেকেই এনআরসি লাঘু করাকে বাঙালি বিরোধী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করে আসছেন। এনআরসির প্রথম তালিকা প্রকাশ করার পর এ নিয়ে চূড়ান্ত বিরোধিতা করেছিল তৃণমূল।

এখনো পর্যন্ত তারা কেন্দ্রীয় সরকারের এই এনআরসি লাঘু করার এই পদক্ষেপের ওপর বিরোধিতা করে আসছে।

Related Articles

Back to top button