মাত্র ১৯ বছর বয়সে একটি ট্রাক নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা, আজ ৬০০ কোটি টাকার কোম্পানির মালিক

মাত্র একটি ট্রাক দিয়ে ব্যবসা শুরু করা ১৯ বছর বয়সী একটি ছেলের স্বপ্ন একদিন পরিবহন শিল্পের সবচেয়ে বড় মুখ হয়ে উঠবেন। তাঁর দৃঢ় দূরদর্শিতা এবং ইচ্ছাশক্তির কারণে ৬৫ বছর বয়সে তিনি এখন ভারতের একজন বিখ্যাত শিল্পপতি। আমরা কথা বলছি ভিআরএল লজিস্টিকসের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সংকেশ্বরের সম্পর্কে। উত্তর কর্ণাটকের একটি মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বিজয় সংকেশ্বর। মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে তাঁর বাবা তাঁকে উচ্চ শিক্ষার জন্য একটি ভালো কলেজে ভর্তি করান।


যখন তাঁর ১৬ বছর বয়স, তখন তাঁর বাবা তাঁকে একটি ছাপাখানা দেন, যেখানে মাত্র একটি মেশিন এবং দুইজন শ্রমিক ছিল, কিন্তু ১৯ বছর বয়সে বিজয় এক লাখ টাকারও বেশি মূল্যের আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করেন এবং মুদ্রণ ব্যবসার প্রসার ঘটান। বিজয় তখনও এমন একটি ব্যবসা খুঁজছিলেন, যা ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা মূলধন দিয়ে শুরু হতে পারে। এই সময়েই তিনি পরিবহন ক্ষেত্রে ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৭৬ সালে তিনি একটি ট্রাক কিনে ‘ভিআরএল লজিস্টিকস’ নামক একটি কোম্পানী স্থাপন করেন এবং ধীরে ধীরে ব্যাঙ্গালোর, হুবলি এবং বেলগামে তাঁর পরিবহন পরিষেবা প্রসারিত করেন।

ধীরে ধীরে কাজ করে তিনি ভালো লাভ করেন এবং তাঁর কাছে আটটি ট্রাক ছিল। ১৯৮৩ সালে তিনি কোম্পানীটিকে ‘বিজয়ানন্দ রোডলাইন’ নামক একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীতে রূপান্তর করেন। ১৯৯০ সালে কোম্পানীর বার্ষিকআয় ছিল ৪ কোটি টাকার বেশি। প্রাথমিক সাফল্যের পর বিজয় কর্ণাটক রাজ্যে একটি কুরিয়ার পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। কয়েক বছর পরে কোম্পানীটি যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা শুরু করে এবং আজ ভিআরএল ভারতের আটটি রাজ্যে ৭৫টি রুটে প্রায় ৪০০টি বাস পরিচালনা করে। সম্প্রতি, বিজয় তাঁর ছেলে আনন্দের সাথে আগামী তিন বছরে এয়ারলাইন উদ্যোগে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


ভিআরএলের পাবলিক ট্যুর ব্যবসা বিজয়ানন্দ ট্রাভেলস দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি ৮০টিরও বেশি শাখা সহ ১০০০+ এজেন্ট দ্বারা পরিচালিত, কর্ণাটক এবং মহারাষ্ট্রের বৃহত্তম ট্যুর ব্যবসা পরিষেবা। এটির ১৫৫০টি বাস রয়েছে এবং আজ দেশের ৩৫০টি রুটে তাদের যাত্রা চলছে। সবথেকে বেশি যানবাহনের বহর থাকার জন্য বিজয় নিজের নাম লিমকা বুক অফ রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আজ তাঁর বহরে প্রায় ৫,০০০টি বড় যানবাহন রয়েছে। আজ তাঁর কোম্পানীর আয় বছরে কোটি টাকা।