উত্তরপ্রদেশ আসামের পর এবার বিহার! জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটতে চলেছে নিতিশ সরকার, লাগু হবে দুই সন্তান নীতি

বহুদিন ধরে সরকারি স্তরে “জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল” আনার জন্য আলোচনা হয়েছে তবে অনেক ক্ষেত্রে মতের অমিল থাকার কারণে এটি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে যত দিন যাচ্ছে মানুষ ধীরে ধীরে এর গুরুত্ব বুঝতে পারছে তাছাড়া একাধিক রাজ্যে এই নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে কারণ কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশ সহ আসামের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে দুইয়ের বেশি সন্তান গ্ৰহন করা যাবে না এমনটাই বার্তা প্রেরণ করা হয়েছিল যেখানে জানানো হয়েছিল যাদের দুইয়ের বেশি সন্তান থাকবে তারা এবার থেকে সমস্ত রকম সরকারি সুবিধা সহ সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হবে।

আর গত ১৯ শে জুন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও জানান বিশেষ কয়েকটি সরকারি প্রকল্পের সাহায্যের জন্য দুটি সন্তানের নীতি বাস্তবায়িত করবে। তবে এখন যে খবরটি বেরিয়ে আসছে সেখানে জানতে পারা যাচ্ছে এই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে এবার বড়োসড়ো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে বিহারের সরকারও। বিহারের নীতীশ কুমার সরকার এই নীতি সর্বপ্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে চালু করতে চলেছেন এমনটাই খবর সূত্রে জানতে পারা যাচ্ছে।

জানা যাচ্ছে রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে দুইয়ের বেশি সন্তানদের অভিভাবককে এক্ষেত্রে নির্বাচনে লড়ার জন্য অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হবে নীতিশের রাজ্যে।প্রসঙ্গত, যেমনটা আমরা জানি এই বছরই পঞ্চায়েত নির্বাচন হতে চলেছে বিহারে আর তার আগেই এমন এক নীতি লাগু না করতে পারলেও আগামী নির্বাচনের আগেই এই নীতি লাগু হয়ে যাবে বলে জানতে পারা যাচ্ছে এক্ষেত্রে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চিন্তিত রয়েছে সেখানকার সরকার আর মানুষের মধ্যে সচেতনতা মূলক বার্তা প্রেরণ করতে এটি একটি ভালো উপায় এর থেকে সরকারি স্তরে আর ভালো কিছু হতে পারে না। যার দরুন এবার থেকে সরকার পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে এই নীতে লাগু করে মানুষের মধ্যে বার্তা প্রেরণ করতে চাইছে।

যেহেতু বর্তমানে এরকম কোন নিয়মাবলী নেই পঞ্চায়েতে তাই সেই আইনের সংশোধন করে সরকার নতুন নিয়ম লাগু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যদিও এর জন্য এক বছর সময় লেগে যেতে পারে। সরকারের তরফে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী জানা গেছে, 2016 সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ২.৬ লক্ষ পদের জন্য দশ লক্ষেরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে লড়েছিলেন।

অন্যদিকে এ বিষয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর সম্রাট চৌধুরী জানান যে আমরা যত জলদি সম্ভব মানুষের মধ্যে সচেতনতা মূলক বার্তা দিতে চাইছি তবে এই যে নীতিটি রয়েছে সেটি এক বছরের আগে লাগু করা সম্ভব হবে না তাই 2021 সালে বিহারে হতে চলা পঞ্চায়েত নির্বাচনে দুইয়ের বেশি সন্তান হওয়া অভিভাবকেরা লড়তে পারবেন কীনা সে বিষয়ে এখনও কিছুটা হলেও সংশয় রয়েছে।