বড় খবর:প্রথমদিনেই “মিশন কাশ্মীর”, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কর্তাদের সাথে অমিত শাহ করলেন দীর্ঘ বৈঠক..

সাদা পাঞ্জাবি এবং সঙ্গে হালকা সবুজ রঙের জ্যাকেট পড়ে শনিবার সকালে যখন তিনি নর্থ ব্লক এ নিজের দপ্তরে যাচ্ছিলেন তখন সাধারণ মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। ছুটির দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এমন ঘটনা দেখা যায় না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কেন্দ্রীয় সভার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদ তা বলা বাহুল্য। এছাড়াও তিনি এখনো পর্যন্ত বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে আছেন। মোদী যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন অমিত শাহ তার সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্বভার সামলেছিলেন। আর তাই নিজের সেনাপতি কে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমালোচনার জন্য দায়িত্বভার তুলে দিলেন। সকলের বিশ্বাস অমিত শাহ কে দেওয়া এই দায়িত্ব তিনি দক্ষ হাতে সামলাবেন। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক মহল অমিত শাহ কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পদে বসানোর পিছনে আরও নানান কারণ খুঁজে পেয়েছেন। এবং তিনি প্রথম দিনেই সেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

প্রথম দিনই দপ্তরে এসে সমস্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন অমিত শাহ। তাদের সরকারের সামনে কি কি আগাম চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা সমস্ত এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ঠিক সেই অনুসারে তিনি প্রথমে কি কাজ করবেন তা নিজেই টুইট করে জানিয়ে দিয়েছেন। টুইটে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘ আজ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সমস্ত দায়িত্বভার গ্রহণ করলাম। আমার উপর এই বিশ্বাস রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করছি। দেশের সুরক্ষা এবং দেশের মানুষের কল্যাণে মোদি সরকার অগ্রাধিকার, মোদিজীর নেতৃত্বে আমি তা পুরোপুরি ভাবে পূরণ করার চেষ্টা করব।’
মোদি সরকারের বহু কাজের মধ্যে অন্যতম হলো জম্মু-কাশ্মীরের সমস্যার সমাধান করা, নাগরিকত্ব বিল পাস করানো, জাতীয় নাগরিকপঞ্জির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলিকে কেন্দ্র করে সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আর এই সমস্ত কঠিন চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে এগিয়ে চলার জন্যই অমিত শোহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে বসানো হয়েছে। কারণ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এই সমস্ত বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিতে চান মোদিজী। বিজেপি নির্বাচনী ইস্তেহারে জম্মু কাশ্মীর নিয়ে একাধিক সংকল্পের কথা বলা হয়েছে।

এমনকি নির্বাচনী প্রচারে শাহ নাগরিকত্ব বিল পাস করে নিয়ে জোরালো সাওয়ালো করেছেন। বাংলার মত রাজ্যের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর কোথাও শহর সাধারণ মানুষের সামনে বারবার বলেছেন। দেশে অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে গেরুয়া শিবির বারবার গুরুত্ব দিচ্ছে। বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ আটকাতে অমিত শাহ যে যোগ্য ব্যক্তি তা রাজনৈতিক মহলের অনেকে মনে করছেন। এতদিন তার বুদ্ধির দ্বারা দল সামলেছেন এবার দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সামলানোর একটা বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি যে শুধুমাত্র প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন এমনটা নয় এর সাথে সাথে দলের ভিত শক্ত করবেন তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। মহারাষ্ট্র, ছত্রিশগড় ও ঝাড়খণ্ডের মত আরও বিভিন্ন জায়গায় মাওবাদীদের নিয়ে নিত্যদিনের সমস্যা রয়েছে। চলতি বছরের আর কয়েক মাসের মধ্যেই ঝাড়খন্ড ও মহারাষ্ট্রের মত রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। আর ঠিক বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওখানকার মাও সমস্যার সমাধান করার জন্য তার দপ্তর একটা বড়সড় সিদ্ধান্ত নেবে বলে অনুমান করা যাচ্ছে। আর এর ফলেই ওই সমস্ত এলাকাগুলিতে বিজেপির ভিত আরও শক্ত হবে।

ঠিক একইভাবে বাংলাকে পাখির চোখ করেছে গেরুয়া শিবির। বাংলায় অনুপ্রবেশ আটকানোর জন্য ইতিমধ্যেই এনআরসি লাগু করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে গেরুয়া শিবির। এদিন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এই অমিত শাহ দপ্তরের সচিব রাজিব গৌবা এবং এবং দপ্তরের দুই প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই বৈঠকে দপ্তরের এক প্রতিমন্ত্রী জি কিষান রেড্ডির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে শাহ তাকে সতর্ক করে দিয়েছেন। রেড্ডি জানান, হায়দ্রাবাদের সন্ত্রাসী কাজকর্ম বাড়ছে। বেঙ্গালুরু কিংবা ভূপাল যেখানেই কিছু না কিছু ঘটুক শিকড় মেলে হায়দ্রাবাদে। অপরদিকে আবার গেরুয়া শিবিরের অমিত শাহ নামটি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা ফের আরেকবার প্রমাণ হয়ে গেল সেদিন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শুক্রবারে মন্ত্রকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। অন্যদের মধ্যে বহু মন্ত্রী সোমবার দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন।

কিন্তু সরকারি ছুটির দিনেও তিনি এ দিন নর্থ ব্লক এ নিজের দপ্তরে হাজির হয়ে ছিলেন। শুধু এটাই নয় তিনি বৈঠকও করেন এবং সময় নষ্ট না করে তিনি ওইদিন থেকে কাজ শুরু করে দেন।