বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ-এর, এবার থেকে আগামী দিনে আয়করে মিলবে না কোন ছাড়..

গতবারের বাজেটে নির্মলা সীতারামন যে সমস্ত প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেখানে কম হারে আয়কর দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন সবাইকে।এবারে তিনি দেশে দুই ধরনের আয়কর চালু করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই সুযোগ নেওয়া হলে কোন রকমের বিনিয়োগের জন্য ছাড় পাওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু নতুন নিয়ম নয় এর সঙ্গে সঙ্গে পুরনো নিয়ম এবং পুরনো হারে কর দেওয়ার নিয়মগুলিও বজায় রেখেছেন।

এই নিয়মে বলা হয়েছে, বর্তমান হারে বেশি আইকর দিলে সমস্ত কিছু ছাড় পাওয়া যাবে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে ছাড়হীন কর ব্যবস্থা চালু করা। আর এই ছাড়হীন কর ব্যবস্থা কবে থেকে চালু হচ্ছে সেই সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এখনো কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। হায়দ্রাবাদের বণিকসভার এক অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়ে যাবার পর সাংবাদিকদের একথা জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এখন সরকার শুধুমাত্র একটি বিকল্প তৈরি করেছে। এবং এই বিকল্পে বলা হয়েছে ব্যক্তিগত করদাতা শুধুমাত্র কম হারে কর দিতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে আয়ের উপরে কোনো ছাড় পাওয়া যাবে না। কিন্তু কোনো ব্যাক্তি যদি পুরনো পদ্ধতিতে কর দেন তাহলে তিনি ছাড় পাবেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান লক্ষ্য হল এমন এক কর ব্যবস্থা চালু করা যেটা হতে চলেছে সহজ, সরল এবং ছাড়াহীন।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সাধারণ বাজেট পেশ করে জানিয়েছেন যে, নতুন এই আয়কর নীতিতে 70 রকমের ছাড় বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ কোন করদাতা যদি নতুন হারে কর দিতে চান তাহলে তিনি ওই 70 রকমের ছাড় পাবেন না। অপরদিকে যদি কেউ পুরনো হারে কর দিতে চান তাহলে তিনি সমস্ত রকমের ছাড় পাবেন। এদিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, আগেকার নিয়ম অনুসারে এখনো পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়কর আয়কর দিতে হবে না। এরপরে 15 লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ে প্রতি ধাপে 5% করে করের হার কমানো হয়েছে।

এরপর বছরে 5 লক্ষ টাকা থেকে 7.5 লক্ষ টাকা বার্ষিক আয়ে 10 শতাংশ কর দেখতে হবে। এক্ষেত্রে আগে করের হার ছিল 15 শতাংশ। 7.5 লক্ষ টাকা থেকে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে আগে কর দিতে হতো 20 শতাংশ এখন তা কমে 15% হয়েছে। এরপর 10 থেকে 12.5 লক্ষ টাকা মাসিক আয়ে আগে কর দিতে হতো 30% এখন তা কমে হয়েছে 20 শতাংশ। আর 12.5 লক্ষ টাকা থেকে 15 লক্ষ টাকা বার্ষিক আয় হলে আগে কর দিতে হত 30 শতাংশ কিন্তু এখন দিতে হবে 25 শতাংশ । এবং যাদের বার্ষিক আয় 15 লক্ষ টাকার থেকেও বেশি তাদের জন্য করের হার কমানো হয়নি কেন্দ্রীয় সরকার তরফ থেকে।

এর ফলে গ্রাহকদের মোট আয় এবং বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করবে নতুন নিয়মে কর দিলে, না পুরনো নিয়মে কর দিলে গ্রাহকরা লাভবান হবেন। যাদের বিনিয়োগ বেশি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে পুরনো পদ্ধতিতে কর দেওয়ায় লাভজনক হবে এবং যারা বিনিয়োগ করতে চান তাদের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতিতে পর দেওয়া সুবিধাজনক হবে।

Related Articles

Close