শিল্পে এক নম্বর হওয়া এখন প্রধান লক্ষ্য, পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থানের জোয়ার আনতে সাহসী পদক্ষেপ মমতার

একাধিক সামাজিক প্রকল্পের পর,এবার শিল্পের দিকে নজর মুখ্যমন্ত্রীর। একের বেশি শিল্প তালুকে বিনিয়োগ, আর অন্যদিকে শিল্পবান্ধব নতুন নীতির ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী। আজ অর্থাৎ বুধবার মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্থাপিত হল পানাগরে শিল্প তালুকের ৪০০ কোটির পলিফিল্মের কারখানা। “এবার শিল্প টার্গেট আমাদের, রাজ্য সরকার শিল্পের পাশে আছে,শিল্পে রাজ্য এক নম্বর স্থান অধিকার করবেই” আপনারা রাজ্যে বিনিয়োগ করুন,আজকের অনুষ্ঠানে এমনটাই জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নতুন দুটি নীতি ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরো জানান ওয়েস্টবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল বোর্ড গঠনের কথা, এই বোর্ডের মাথায় থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। তিনি আরো জানান, এই বোর্ড শিল্প কর্তাদের করা আবেদন খতিয়ে দেখবে এবং ছাড়পত্র দেবে। চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক কি কি নতুন ঘোষণা করলেন আজ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। হসপিটালের উন্নতির কথা মাথায় রেখে, শিল্প কর্তাদের কথা মেনে ওয়েস্টবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল বোর্ড তৈরি হবে।

যার মূলে থাকবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও থাকবেন বিভিন্ন দপ্তরে সচিবরা। প্রতিমাসে বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে বসবে এই বৈঠক। কত শিল্পের জন্য আবেদন পরল এবং কিভাবে ছাড়পত্র পেল তা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়াও বায়োফুয়েল এর মূল উপাদান হল ইথানল। তাই ইথানল প্রমোশন প্রোডাকশন পলিসি চালু করল রাজ্য। ধান ভাঙ্গে যে ভাঙ্গা চাল পাওয়া যায় তাকে খুদকুঁড়ো বলা হয়।

এই খুদকুঁড়ো দিয়ে তৈরি হবে বায়ো ফুয়েল। চাষীদের আর কম দামে বিক্রি করতে হবে না খুদকুঁড়ো, ইথানল তৈরি কারি ইন্ডাস্ট্রিগুলো এই খুদকুঁড়ো কিনে নেবে চাষীদের কাছ থেকে। এর ফলে গ্রামগুলোতে গড়ে উঠবে জ্বালানি তৈরীর কারখানা। কাজের এক সঠিক ঠিকানা হবে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের। তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ২৪ হাজার কোটি যুবতী চাকরি পাবে। রাজ্যে আগামী ৫ বছরে গড়ে উঠবে ৪০০ মেগাওয়াটের ডেটা সেক্টর, তাতে খরচ হবে ২০ হাজার কোটি বিনিয়োগ।

দ্বিতীয় দফার কাজ শুরু হচ্ছে ডেউচা পাচামির কয়লা খনিতে। এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ১৫ হাজার কোটি টাকা। কাজ পাবেন রাজ্যের অনেক মানুষ। সেই এলাকার অধিবাসীদের পুনর্বাসন দেবে রাজ্য। এমনটাই বলা হয়েছে শিল্প নিয়ে গড়ে ওঠা দ্বিতীয় নীতিতে। দ্রুত তাজপুর বন্দর শুরু হবে ফলে বাড়বে আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণও। এবার শিল্পতালুক রঘুনাথপুরের নাম বদলে রাখা হলো জঙ্গলমহল সুন্দরী। এর জন্য বিনিয়োগ ৭২ কোটি টাকা মিলবে লক্ষ লক্ষ চাকরি,মিটবে বেকারত্বের জ্বালা।