বেকিং- এবার প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর অনলাইন ক্লাসের জন্য HRD তরফে জারি নতুন নির্দেশিকা…

করোনা মহামারীর কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের পঠন পাঠন বন্ধ রয়েছে। যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি অনলাইনে ক্লাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এই অনলাইনে ক্লাস করানো নিয়ে এর আগে নানান নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। সেই নির্দেশিকা মেনে এতদিন চলতো অনলাইনে ক্লাস। 14 জুলাই মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফ থেকে দেশের ডিজিটাল এডুকেশন বা অনলাইন ক্লাস সম্পর্কে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল।

এই নির্দেশিকাতে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রি- প্রাইমারি সেকশনে 30 মিনিটের বেশি একটানা ক্লাস নেওয়া যাবে না। এছাড়া জানানো হয়েছে মোট দুটি সেশনে অনলাইনে ক্লাস সম্পূর্ণ করতে হবে শিক্ষকদের। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, 30 মিনিট বা 45 মিনিট করে দিনে দুটি সেশনে ক্লাস নেওয়া হোক ছাত্র-ছাত্রীদের। প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে মানব উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফ থেকে। এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত 4 টি সেশন নেওয়া হোক বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক টুইট করে জানান যে কেন্দ্রীয় সরকার ‘প্রাজ্ঞতা’ নিয়ে এসেছে। এটি হলো ডিজিটাল পঠন-পাঠনের জন্য এক নতুন গাইডলাইন। তিনি জানিয়েছেন যে, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের জন্য এই গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। এবং এই গাইডলাইন যে ভবিষ্যতে অনলাইনে ক্লাস চালু রাখতে সাহায্য করবে তা নিয়ে বিশ্বাসী তিনি। তিনি আরো জানিয়েছেন যে, অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস চলাকালীন যে মানসিক চাপ এবং শারীরিক চাপ পড়ছে সেই বিষয়েই গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে।

এই গাইডলাইনে মোট আটটি ধাপের কথা বলা হয়েছে।
এই আটটি ধাপ হলো যথাক্রমে প্ল্যান, রিভিউ, অ্যারেঞ্জ, গাইড, টক, অ্যাসাইন, ট্র্যাক এবং অ্যাপ্রিসিয়েট। এই আটটি ধাপের উপর জোর দেওয়া হবে কিন্তু এর মধ্যে আরো বেশ কয়েকটি ধাপের উপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হবে। যে সমস্ত বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে সেগুলি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো –
1. অনলাইনে ক্লাস চলাকালীন শারীরিক এবং মানসিক ভাবে কতটা সুস্থ রয়েছে সে বিষয়ে নজর রাখা।
2. অনলাইনে ক্লাস চলাকালীন পড়ুয়ারা কতটা আগ্রহ দেখাচ্ছে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা।

3. অ্যাসেসমেন্ট অবশ্যই প্রয়োজন।
4. অনলাইনে ক্লাসে প্ল্যানিং এর প্রয়োজন। অর্থাৎ কতটা সময় ধরে ক্লাস চলবে এবং অনলাইন এবং অফলাইন পড়ার মধ্যে সমন্বয়।
5. অনলাইনে ক্লাস করার সময় সাইবার সুরক্ষার ব্যাপারটাও নজর রাখতে হবে। বর্তমানে করোনা সংক্রমণের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ স্কুল কলেজ। তাই এখন অনলাইনে ক্লাস করে সিলেবাস শেষ করতে হবে। এই অনলাইনে ক্লাসই আপাতত ভরসা এখন পড়ুয়াদের। তাই এই পরিকাঠামোর উপর জোর দিতে হবে। অনলাইনে ক্লাসে যাতে পড়াশুনার মান বজায় থাকে সেই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

Related Articles

Back to top button