সরস্বতী পুজোতে জুটি বানিয়ে ঘুরলে মিলবে শাস্তি, ফতোয়া বজরং দলের

সরস্বতী পুজো মানেই বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে। কিন্তু এই দিনে কাউকে জুটিতে ঘুরতে দেখলেই ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলে হুশিয়ার করল।এই মর্মে  সরস্বতী পুজোর দিন সকালে উত্তরপাড়ায় পোস্টার সাঁটিয়ে হুঁশিয়ারি দিল বজরং দল। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

 

মঙ্গলবার গঙ্গার ঘাটের ধারে পোস্টার সাঁটিয়ে বজরং দল জানিয়েছে, ‘বসন্ত পঞ্চমী সরস্বতীর আরাধনার দিন। এই দিনটিতে আমাদের সংস্কৃতিকে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ব্যবহার করে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। কিছু মানুষ এই দিনটিকে বাংলার ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে রূপান্তরিত করে ফেলেছেন। এই পাশ্চাত্য সংস্কৃতি কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য বা ব্য়বহারযোগ্য় নয়। যদি এই পুজোর দিন কাউকে জুটি হিসেবে ঘুরতে দেখা যায় সেক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগেও ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের দিন হিন্দুদের চার্চে না যাওয়ার ফতোয়া জারি করে কৃষ্ণনগরে পোস্টার দিয়েছিল বজরং দল। কৃষ্ণনগরে  বিভিন্ন জায়গায় দেওয়ালে লাগানো পোস্টারগুলিতে ২৫ ডিসেম্বর গির্জায় না গিয়ে হিন্দুদের ‘তুলসী পুজো দিবস’ পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

হুগলির উত্তরপাড়ার একাধিক ঘাটে এবছর পড়েছে বজরং দলের পোস্টার। অতীতে কখনও এই ধরনের পোস্টার বা ফতোয়া জারি করা হয়েছে বলে মনে করতে পারছেন না স্থানীয়রা। বিশেষ করে উত্তরপাড়ার মতো প্রাচীন, সংস্কৃতিশীল ঐতিহ্যশালী শহরে এমন খাপ পঞ্চায়েত-সুলভ আচরণে অনেকেই চমকে উঠেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এত দিন যেমন ভিন রাজ্যের কিছু জায়গায় স্বঘোষিত নীতি পুলিশদের দাপট চোখে পড়ত।  ‘লাভ জেহাদ’ নিয়ে হুঙ্কার দিতেন তেমনই ভ্যালেন্টাইনস-ডে পালনের বিরুদ্ধে ফতোয়া এবার বাংলাতেও প্রবেশ ঘটল বলে উষ্মাপ্রকাশ করেছেন তাঁরা। পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরাও খোঁজ খবর নিচ্ছি।’

এখন বাড়িতে বসে খুব সহজেই করে নিন Voter ID এর সাথে Mobile Number লিঙ্ক, সহজ পদ্ধতি জানতে

সরস্বতী পুজোর দিনটিকে বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে পালনের রেওয়াজ দীর্ঘদিনের।  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় নিজে একবার বলেছিলেন সে কথা। এই বছর আবার ভ্যালেন্টাইন্স ডে-এর একদিন পরেই সরস্বতী পুজো। সকাল থেকেই শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে বেরিয়ে পড়েছে যুগলরা। সেখানে পুলিশের উৎপাত নিয়ে সকলেই বিরক্ত। এক তরুণীর পোস্ট, ‘একে বয়ফ্রেন্ডের হাজার বায়নাক্কা, তার উপর অনভ্য়াসের শাড়ির অবাধ্য আঁচল। এই দুই সামলাতেই হিমশিম। এসব ফতোয়া টতোয়া দেখার সময় কই!’