বাচ্চাদের শিক্ষিত করতে আস্ত বড় বাসকে পরিণত করেছেন স্কুলে অশোক নামের এই ব্যাক্তি

কথায় আছে, পড়াশোনা করে যে গাড়িঘোড়া চড়ে সে। কিন্তু কখনো শুনেছেন আস্ত একটা গাড়ি হয়ে গেছে স্কুল! হ্যাঁ এরকম অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন মুম্বাইতে বসবাসকারী সমাজকর্মী অশোক কুরমি, যিনি শিশুদের লেখাপড়া যাতে নষ্ট না হয় সেই কথা ভেবে তাঁর নিজের বাসটিকে একটি স্কুলের রূপ দিয়েছেন এবং শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন।

ভারতে করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট লকডাউনের জন্যে শিক্ষাব্যবস্থা যে পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাতে শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। এমনকি সরকারও এই পরিস্থিতিতে কিছুই করে উঠতে পারছে না। এইরকম অবস্থায় মুম্বাইতে বসবাসকারী সমাজকর্মী অশোক কুরমি লকডাউনের সময় দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং শিশুদের লেখাপড়া যাতে বন্ধ না হয় সেজন্য নিজের বাসটিকে একটি স্কুলের রূপ দিয়েছেন।

অশোক কুরমি ২০২১ সালের ১৫ই আগস্ট তাঁর এই স্কুলের উদ্বোধন করেছিলেন। তিনি সবসময় চেয়েছিলেন যে, তাঁর অচল বাসটিকে কোনো ভাল কাজে ব্যবহার করতে, আর সেই কারণেই তিনি দেশে করোনা মহামারীর কারণে লকডাউন চলাকালীন কোনো উপায় না থাকায় যেসমস্ত দরিদ্র শিশুরা অনলাইন ক্লাস নিতে অক্ষম ছিল তাদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের জন্যে সচেষ্ট হয়েছিলেন।

তিনি লক্ষ্য করেন, সমস্ত বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আর্থিকভাবে সক্ষম শিশুরা অনলাইনে ক্লাস পেলেও ফুটপাতে বা বস্তিতে থাকা শিশুদের অনলাইনে ক্লাস করার কোনো সুবিধা নেই, সেই কারণে সেইসব দরিদ্র শিশুদের পড়াশুনার সাথে সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভাঙতে বসেছে। তারপরই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এই সমস্ত দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা লাভের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্যে তাঁর অচল বাসটিকে একটি স্কুল বানিয়ে তাতে শিক্ষা সংক্রান্ত সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবেন।

বিশ্বব্যাপী করোনার মহামারীর সময় অশোক কুর্মি মাস্ক বিতরণ করেছিলেন এবং মানুষকে সচেতনও করেছিলেন। তারপর স্পাইডারম্যান সেজে মুম্বাইয়ের পাবলিক এলাকাও পরিষ্কার করেন। এছাড়াও তিনি ডোরেমন হয়ে বস্তিতে বসবাসকারী মানুষের জন্য বিনামূল্যে চুল কাটার ব্যবস্থাও করেন।

এইভাবে দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার মতো একটি সামাজিক কাজের জন্য অশোক কুর্মি এনজিওর সাহায্যও পান।এনজিও তাদের আয়ের এক শতাংশ দান করে তাঁর স্কুলের জন্যে।