যত দিন যাচ্ছে তত বিবর্তিত হয়ে করোনা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে বলছে গবেষণা…

করোনা সংক্রমণ নিয়ে কার্যত নাজেহাল সারা বিশ্ব।
বহু দেশে এখন মৃত্যু-মিছিল অব্যাহত। গোটা বিশ্ব জুড়ে এই মরণ ভাইরাস করোনার জেরে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে 41 লক্ষেরও বেশি যাদের মধ্যে গোটা বিশ্বে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটেছে 2 লাখ 80 হাজার 454 জন মানুষের। গোটা বিশ্বের গবেষকরা এই মুহূর্তে উঠে পড়ে লেগেছে কীভাবে এই মরণ ভাইরাস COVID-19 কে জব্দ করা যায় সে নিয়ে। এই ভাইরাসকে নিয়ে গবেষণার করার ফলে যেসব তথ্য বেরিয়ে আসছে সেটি গবেষকদের প্রায় চিন্তায় ফেলে দিচ্ছে কারণ প্রতিদিনই অচেনা এই মারণ ভাইরাসের নতুন নতুন চরিত্র জানতে পারছেন এই বিজ্ঞানীরা।

এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যালামাস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির একদল গবেষক এ তথ্য জানিয়েছেন সেখানে জানা যাচ্ছে এই নভেল করোনা ভাইরাসের যে বিবর্তিত ধরনটি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে তার সংক্রমণ ক্ষমতা তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি অন্যান্য জায়গাগুলিতে যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে তার তুলনায়। এই বিষয়ে লস অ্যালামাস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক দলের প্রধান কম্পিউটেশনাল বায়োলজিস্ট বেট করবার এবং ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড ও ডিউক ইউনিভার্সিটির গবেষক দল একত্রে সার্স কোভ-2 ভাইরাসটিকে নিয়ে গ্লোবাল ডেটাবেস বিশ্লেষণ করে আমেরিকার প্রথম সারির দৈনিক ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-কে এই তথ্য জানিয়েছেন সেখানে বলা হয়েছে এই করোনাভাইরাস ইউরোপে পৌঁছানোর পর ডি- 614 জি স্পাইক প্রোটিন মিউটেট করে যার ফলে এটি পরিবর্তিত হয়ে আরও মারাত্মক হয়ে উঠেছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউরোপের প্রথম COVID-19 ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হয়, তখনই চীনের উহান শহর থেকে আসা এই ভাইরাসটি মিউটেশন হয়। এক্ষেত্রে গবেষণাটি আরো নিখুঁত তথ্য ও যথাযথ সমীক্ষার আরো তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে বলে বিজ্ঞানীদের আশা। এই প্রসঙ্গে গবেষকরা জানিয়েছেন করোনা জীবানু যদি জেনেটিক মিউটেশন কপি করার সময় কিছু ভুল করতে পারে তবে তার জন্য জীবন অতি সংক্রমণ রোগ সৃষ্টিতে কোনরকম হেরফের হয় না তাই এক্ষেত্রে জেনেটিক্যাল ভিন্ন হলেও কার্যকারিতা অর্থাৎ এক্ষেত্রে রোগ সৃষ্টির দিক থেকে খুব একটা আলাদা হবে না।

তবে এক্ষেত্রে এই যে মরন ভাইরাস COVID-19 টি রয়েছে সেটির আশ্চর্যজনক দিক হলো অনবরত অদ্ভুতভাবে মিউটেশন হওয়া, যদিও এক্ষেত্রে কমবেশি সব ভাইরাসে তাদের নিজেদের কে বদলে ফেলতে সক্ষম হয়ে থাকে। তবে পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই মরণ ভাইরাস আশ্চর্যজনকভাবে অন্যান্য সব ভাইরাস এর তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল।ভারতে এই যে নভেল করোনাভাইরাসের মিউটেশন এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া সম্পর্কে ভাইরোলজির বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী জানালেন, আমাদের শরীরে অজস্র কোষ রয়েছে, কিন্তু ভাইরাস কোনও কোষ নয়, ভাইরাস হল জীব ও জড়ের মাঝামাঝি এক পার্টিকল। এই ভাইরাস আমাদের শরীরে প্রবেশ করেই শুরু করে কেরামতি। মানুষের শরীরে কোষের মধ্যে যে জিন আছে তার মধ্যে জাকিয়ে বসে।

More Stories
আবারও মিথ্যা ফাঁস, অভিনন্দনকে মার খাইয়েছে পাক সেনাই….