যেমন কথা তেমন কাজ! মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেপ্টম্বর মাস থেকেই চালু হচ্ছে দুয়ারে রেশন, বিস্তারিত জানতে

বাড়ি বাড়ি চাল-ডাল পৌঁছে যাবে আমজনতার দরজায় এমনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ভোটের আগে তৃণমূল নির্বাচনী ইস্তেহারও দেওয়া হয়েছিল। তবে ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়নি সরকার। তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরই সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাস থেকেই চালু হতে চলেছে ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প। সম্প্রতি একটি 17 পাতার নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্য সরকার । শনিবার এই কর্মসূচি চালানোর আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্র সরকার আপাতত পাইলট প্রজেক্ট চালু করছে।

সাধারণত সরকারের তরফ থেকে যেভাবে প্রতিটি সাধারণ মানুষের রেশন পেয়ে থাকে সেরকম ভাবেই এই প্রকল্পে আমজনতার সুবিধা পেয়ে থাকবে। সাধারণত রেশন ডিলারদের উপরে এই দায়িত্ব থাকবে। এই প্রকল্পে সব থেকে বেশি লাভবান হবে সমাজের নিম্ন শ্রেণীর মানুষরা। বর্তমান করোনাকালীন পরিস্থিতির অর্থনৈতিক দিক থেকে সবাই বিপর্যস্ত। সরকারি-বেসরকারি সমস্ত প্রতিষ্ঠান মানুষদের উপর পড়েছে করোনার কোপ। বর্তমানে বেকারত্ব দিন দিন বেড়ে চলেছে । ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র শ্রেণীর মানুষেরা ।

দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের দৈনিক খাদ্যের সন্ধান করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে । এমন পরিস্থিতিতে দৈনিক খাদ্যের সন্ধান করতে হিমশিম খাচ্ছে আর সেখানে যদি সরকারের তরফ থেকে “দুয়ারে সরকার”প্রকল্প চালু করা হয় তাহলে দৈনন্দিন চাল-ডালের যোগানের চিন্তা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবে এই শ্রেণীর মানুষেরা। এই প্রকল্পে বলা হচ্ছে দৈনিক ৫ থেকে ১৫ শতাংশ রেশন পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকবে ডিলাররা। খাদ্য দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই রাজ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়ির দরজায় পৌঁছে যাবে দুয়ারে সরকার প্রকল্প।

প্রত্যেকের বাড়িতে যাতে ঠিকভাবে রেশন পৌঁছে দেওয়া হয় সেই দিকে যথেষ্ট নজর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ এইদিন একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। খাদ্য দপ্তরের ইন্সপেক্টরদের সাথে ডিলারের প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি যাবেন। প্রজেক্টে কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তা দেখার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেশন কার্ড পাঞ্চ করতে হবে।

এই পদ্ধতিতে গ্রাহকেরা কত পরিমাণে রেশন পাচ্ছেন তা সঠিকভাবে নথিবদ্ধ হয়ে যাবে। পুরো প্রক্রিয়াটিই যাতে কোন ভুল বা ত্রুটি না হয় সেদিকেও যথেষ্ট খেয়াল রাখা হবে ।প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে আগামী দিনে যেন আরো বেশি সংখ্যক গ্রাহকের কাছে সঠিকভাবে রেশন পৌঁছে যায় সেই দিকেই এখন লক্ষ্য সরকারের।