চীনকে বড় ঝাটকা দিয়ে এবার ভারতের মধ্যেই তৈরি হবে ফাইভ-জি‌ এনাবেলড Iphone 12

সোশ্যাল মিডিয়ায়  দাবি করা হচ্ছে, এই মাসের ২৩ তারিখে এয়ারপডস-৩, আপডেটেড আইপ্যাড প্রো, এয়ারট্যাগস, নতুন অ্যাপল টিভি-সহ  একঝাঁক নতুন গ্যাজেট বাজারে নিয়ে আসছে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ।এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে এখনও কিছু জানানো হয়নি  অ্যাপলের তরফে। তবে অ্যাপেল এর তরফে  এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় গ্রাহকদের   বিপুল চাহিদার কারণে তারা  ভারতেই তাঁদের কন্ট্র্যাক্ট ম্যানুফ্যাকচারার কারখানায় ৫জি এনাবেলড আইফোন-১২ তৈরির কাজ  শুরু করছেন।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছিলেন, ২০২১ এর শেষে  আইফোন-১৩ লঞ্চ হলে , আইফোন-১২ মডেলটির চাহিদা কমে যাবে এবং তখন আইফোন ১২ এর উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে অ্যাপল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক ঘোষণায় তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে৷

তবে কোম্পানির তরফে বলা হয়েছে, আইফোন-১২ সিরিজের বাকি প্রো মডেলগুলি আগের মতই ভারতে আমদানি করা হবে। ২০১৭ সালে প্রথম আইফোন এসই মডেল দিয়ে ভারতে  ফোন উৎপাদন শুরু করেছিল অ্যাপল। বর্তমানে ভারতে কন্ট্র্যাক্ট ম্যানুফ্যাকচারার কারখানায় আইফোন এসই ২০২০,আইফোন ১১, আইফোন ১০ আর তৈরি করে অ্যাপল।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পার্টনার নীল শাহ এর মতে  ‘করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বড় সংস্থাগুলিকে ভারতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহ দিতে এবং মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং রপ্তানি বাড়ানোর জন্য গত বছর বড় সংস্থাগুলিকে ভারতে কারখানা স্থাপন ও রপ্তানি বৃদ্ধিকে উৎসাহ দিতে ১৩টি উৎপাদন সংযুক্ত উৎসাহ প্রকল্প বা পিএলআই স্কিম ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। যেখানে টেলিকম, বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের মতো একাধিক ক্ষেত্রে পিএলআই স্কিমে পাঁচ বছরের জন্য সরকার মোট ১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকার ইনসেনটিভ দেবে।

Iphone

 

এই পিএলআই স্কিমে আগামী পাঁচ বছরে ভারতের উৎপাদন ৫২,০০০ কোটি মার্কিন ডলার বাড়াবে বলে সম্প্রতি আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি এ বছরের বাজেটে সরকার পিএলআই স্কিমগুলির জন্য ২ লক্ষ কোটি টাকার সংস্থান রেখেছে, যেখানে গড় উৎপাদনের ৫ শতাংশ ইনসেনটিভ হিসাবে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে অন্য একাধিক সংস্থার মতোও অ্যাপলও এর সুবিধা নিতে উৎপাদন চীন থেকে সরিয়ে ভারতে নিয়ে আসতে চাইছে। যে পদক্ষেপের ফলে আইফোনের আমদানি শুল্ক সরানোর পাশাপাশি তার উৎপাদন খরচও কমবে। যার ফলে আগামী দিনে বর্তমানের থেকে কম দামে আইফোন গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে পারবেন অ্যাপল কর্তৃপক্ষ।’

বাধ্যতামূলক হল আধার কার্ডের সাথে ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিঙ্ক, কীভাবে করবেন বিস্তারিত জানতে

দেশে আইফোন-১২ এর  বিপুল চাহিদার জন্যই এই উৎপাদন  শুরু করার পরিকল্পনা করেছে টেকআর্ক প্রতিষ্ঠাতা ফয়জল কাউসা। তিনি বলেছেন,  ‘এতদিন পুরোনো মডেলের ফোনগুলিই দেশে তৈরি করত অ্যাপল। ৫জি এনাবেলড আইফোন-১২ উৎপাদন শুরু করায় ইঙ্গিত মিলছে, আগামী দিনে তাঁদের সাম্প্রতিক মডেলগুলির উৎপাদনও ভারতে নিয়ে আসতে পারেন কর্তৃপক্ষ।

২০২০ সালের অক্টোবরে ভারতে এলেও সামগ্রিক ভাবে ক্যালেন্ডার বর্ষে ৬০% এবং উৎসবের মরসুমে (অক্টোবর-ডিসেম্বরে) দেশে অ্যাপলের বিক্রি বেড়েছে ১০০%। যার পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে আইফোন-১২ মডেলটির। তাকে ভারতে এনে নিজেদের মুনাফা আরও বাড়াতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি দেশে তাদের কন্ট্র্যাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং সংস্থা ফক্সকন, উইসট্রন এবং পেগাট্রনের মধ্যে কাউকে দিয়ে ভারতেই আইপ্যাড অ্যাসেম্বল করার ব্যাপারে ইতিমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অ্যাপল কর্তৃপক্ষ। যা অত্যন্ত আশাজনক চিত্র।’