“ভালো ছবি হলে অবশ্যই দর্শকেরা দেখবে” লাল সিং চাড্ডা নিয়ে এবার আমিরকে একহাত নিলেন অভিনেতা অনুপম খের

এ যেন এক অদ্ভুত সমীকরণ। এককালে যে মানুষটির সিনেমা দেখলে মানুষ রোমাঞ্চিত হয়ে থাকতো, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকতো শুধুমাত্র ফাস্ট ডে ফাস্ট শো দেখার জন্য, হঠাৎই কেমন যেন সবকিছু পাল্টে গেল। আসলে মানুষের মন এবং মস্তিষ্ক যদি কোন জিনিসকে গ্রহণ করে ফেলে তা পাল্টানো ভীষণভাবে কঠিন হয়ে যায়। আমরা এখন মন থেকে বিশ্বাস করি যে, কোন ভুলই এখন ক্ষমা করা যাবে না। আগে হয়তো এসব নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করতাম না কিন্তু বর্তমান সময়ে যতটা পাল্টেছে, পাল্টেছে আমাদের চিন্তাভাবনা। ঈশ্বর সম বলিউড তারকাদের মানুষ ভাবতে শিখেছি আমরা, তবে এটা স্বীকার করিনি মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আর ঠিক সেই কারণেই আমির খানের নতুন সিনেমাটিকে একেবারে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দূর করে দিলাম আমরা নিজেদের মন থেকে।

দীর্ঘ চার বছর পর একেবারে নতুন একটি সিনেমা নিয়ে অনেক প্রত্যাশা বুকে নিয়ে এসেছিলেন আমির খান। কিন্তু বোঝেন নি, পুরনো কথা জের ধরে এত বড় মাশুল গুনতে হবে তাঁকে। তবে এবার এই সিনেমা নিয়ে বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপমকে নিজের মতামত প্রকাশ করলেন সকলের সামনে। বর্ষীয়ান অভিনেতা এই দিন সংবাদমাধ্যমিক সাক্ষাৎকারে বলেন,”বয়কটের জন্য যে সিনেমা চলছে না তা কিন্তু একেবারে ঠিক কথা নয়। দু-তিন বছর আগেও নির্মাতা চাইতেন তাদের বানানো সিনেমা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ুক কারণ বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে দর্শকরা আরো বেশি সেই সিনেমা দেখতে যাবে”।

তিনি আরো বলেন, “এখনো বিতর্ক আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। একবার চিন্তা করে দেখুন ২০১৫ সালে আমির খান একটি মন্তব্য করেছেন যার ফলে লাল সিং চাড্ডা দারুণভাবে ফ্লপ হলো কিন্তু ওই মন্তব্যের পর কিন্তু দঙ্গল সিনেমাটি বক্স অফিসে বিরাট প্রভাব ফেলেছিল। আসলে মানুষের মনে এখন বলিউড ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে একটি ক্ষোভ জন্মেছে যার ফলে কোন মানুষ সিনেমা দেখতে চাইছে না, যার ফলে সিনেমাগুলি ফ্লপ হচ্ছে। তবে আমি মনে করি সিনেমা যদি সত্যিই দেখার মত হয় তাহলে যতই বিতর্ক হোক না কেন মানুষ ঠিক সিনেমাটি দেখতে যাবে”।

এরপর তিনি দ্যা কাশ্মীর ফাইলস নিয়ে মন্তব্য করার সময় বলেন, আমাদের সিনেমাটিও কিন্তু ভীষণভাবে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিল কিন্তু সিনেমাটি ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি মানুষ পছন্দ করেছে। আর বিতর্ক ছাড়া যদি সিনেমা যদি হিট হতো, তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বায়োপিক হিট হতো।