বিক্রি হয়ে গেল ঋণে জর্জরিত থাকা আম্বানির কোম্পানি, নিলামে সবচেয়ে বেশি দাম দিয়ে ইনি হলেন নতুন মালিক

মুকেশ আম্বানির ভাই, বিখ্যাত ব্যবসায়ী এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির মালিকের কোম্পানি রিলায়েন্স লেভেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড সম্পূর্ণ ঋণের মধ্যে ডুবে থাকার ফলে অবশেষে হাত থেকে চলে গেল এই কোম্পানি। মুকেশ আম্বানির ভাই অনিল আম্বানি। একসময় ষষ্ঠ স্থানে থাকা এই ধনী ব্যক্তির অবস্থা একেবারেই শোচনীয়। দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পরিশোধ না করার ফলে, এই কোম্পানিকে নিলামে তোলা হয়েছিল। এ নিলামে উঠেছিল কখনো ১০০ কোটি কখনো ৪০০ কোটি, অবশেষে মুম্বাইয়ের একজন বিখ্যাত শিল্পপতির নিখিল মার্চেন্ট কিনে নিলেন রিলায়েন্স নেভাল।

সর্বোচ্চ দর দিয়ে শিল্পপতির নিখিল ভি মার্চেন্ট এই কোম্পানির মালিক হয়েছেন। গত মাসেই অনিল আম্বানির এই কোম্পানি নিলামের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সিওসি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সব কোম্পানির কাছ থেকে উচ্চ মূল্য আশা করেছিলেন। কিন্তু কেন বিক্রি হয়ে গেল অনিল আম্বানির এই সংস্থা? আসলে IDBI হল রিলায়েন্স নেভালের নেতৃত্বাধীন ব্যাঙ্কগুলির একটি কনসোর্টিয়াম যা রিলায়েন্স নেভারল্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে ঋণ দিয়েছিল। সময়মত ঋণ পরিশোধ না করতে পারায় আইডিবিআই ব্যাঙ্ক কোম্পানির কাছ থেকে ঋণ পুনরুদ্ধার করার জন্য গত বছর জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনালের আমেদাবাদ শাখায় একটি মামলা করেছিল।


এই মামলার মাধ্যমে, আইডিবিআই ব্যাঙ্ক কোম্পানির কাছ থেকে ১২,৪২৯ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিল। যে ব্যাঙ্কগুলি অনিল আম্বানির এই কোম্পানিকে ঋণ দিয়েছিল, তার মধ্যে ছিল এসবিআই এবং ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। এস বি আই ব্যাংক এখনো পর্যন্ত প্রায় ১,৯৬৫ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া পায় ১,৫৫৫ টাকা।

নিলামের সময় দুবাইয়ের একটি এনআরআই (NRI) সমর্থিত সংস্থা অনিল আম্বানির এই কোম্পানীর জন্য বড় বিড দিয়েছিলেন। সেই তালিকায় ছিলেন স্টিল টাইকুন নবীন জিন্দাল। তবে সকলকে ছাপিয়ে নিখিল ভি মার্চেন্ট এই কোম্পানিটি কিনে নেন। প্রসঙ্গত, রিলায়েন্স নেভাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের নাম আগে ছিল রিলায়েন্স ডিফেন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। অনিল আম্বানির অধিগ্রহণের আগে ২০১১ সালে এই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেছিলেন। তখন এই কোম্পানির মালিক ছিলেন নিখিল গান্ধী। ২০১৫ সালে অনিল আম্বানি এই কোম্পানি অধিগ্রহণ করে এবং নাম পরিবর্তন করেন।