নতুন খবরBangla News

KBC তে অংশগ্রহণ করা এই মহিলার সংগ্রামজীবনী শুনে স্বয়ং অমিতাভ কেঁদে ফেলেছিলেন।

ভালোবাসার এই অদ্ভুত কাহিনী শুনে আপনার চোখ জলে ভরে উঠবে । আজ আমরা আপনাদের এমনই একজনের জীবন কাহিনী শোনাব। আপনাদের আজ বলবো সনি টিভি চ্যানেলের একটি বিখ্যাত শো ‘কন বানেগা করোরপাতি’ তে অংশগ্রহণ করা একটি মহিলার প্রেমের কাহিনী সম্বন্ধে জানবো । যদিও সে মহিলার ভালোবাসার কাহিনী এতটাই হৃদয় স্পর্শ ছিল যে, শো-টির হোস্ট অমিতাভ বচ্চন তিনিও কেঁদে ফেললেন।সব সিজনের মত এই সিজনে কেবিসিতে অনেক জন অংশগ্রহণ করেছিলেন। ছত্রিশগড়ের বাসিন্দা নিলা ২৬ শে অক্টোবর ৫০ লক্ষ টাকা জিতেছিলেন , তখন নীলা নিজের সম্বন্ধে এমন একটি কথা জানালেন অমিতাভকে যেটা শুনে অমিতাভের চোখেও জল চলে এলো এবং তিনি বলেন যে আজকালকার যুবকবৃন্দ সেটা বুঝতে পারবে না।

আপনাদের জানিয়ে দিই যে, নীলার জিবনে অনেক দুঃখ কষ্ট এসেছে , কিন্তু তিনি তা থেকে কখনো হার মানেননি, বরং সে কষ্টগুলোকে সহ্য করে এগিয়ে গেছেন। তিনি যখন নবম শ্রেণীতে ছিলেন তখন থেকেই তিনি টিউশন পরানো শুরু করে দিয়েছিলেন । যাতে তিনি তার পরিবারকে সাহায্য করতে পারেন।তার যখন ছাত্র জীবন তখনই তার তিনটে ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছিল, এই ঘটনায় পুরো পরিবার সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছিল কিন্তু তিনি হার মানেনি , তিনি নিজের সাথে সাথে তার মা ও বাবাকেও সামলে রেখেছিলেন।নিলার প্রথম থেকে রেডিও শোনার অনেক শখ ছিল আর তিনি একটি কার্যক্রমে শুনলেন যে, সেখানে চিঠি পড়া হত। আর সেখানে ভরত পী বুদ্ধদেবেরও চিঠি ছিল।

উনি ‘মধুবন খুশবু দেতা হে’ গানের ফরমায়েশ করেছিলেন। এই থেকে তিনি ওনাকে চিঠি লিখতে শুরু করেন এবং এই চিঠির সিলসিলা ৬ বছর পর্যন্ত চলেছিল, আর কিছুদিনের মধ্যে ওনার আরেকটি ভাইও মারা যায়। তখন ভরত তার সাথে দেখা করতে আসে আর ছয় বছর পর প্রথমবার তারা একে অপরকে দেখে । আর তিন বছর পর তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই কথা শুনে অমিতাভ বললেন , এই ভালোবাসাকে আজকের সমাজ কিছুতেই বুঝতে পারবেনা।বিয়ের তিন বছর পর তাদের একটি ছেলে হলো , ছেলেটি যখন বড়ো হলো জানা গেলো যে তার চোখে সমস্যা আছে , ডাক্তার বললেন যে , সে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে না। কিন্তু নীলা হার মানেননি আর তার ছেলে এখন আইআইটি গ্রাজুয়েট । ৩৫ বছর ধরে যে নীলা টিউশন পড়াচ্ছেন, তিনি তার স্বামীর ওপরেও গর্ববোধ করেন আর ওনার মাতা পিতা তার স্বামীর সাথেই থাকেন।

Related Articles

Back to top button