৭ কোটি টাকা পুরস্কারের অর্ধেক দান! গ্লোবাল টিচার দিসালের প্রশংসা স্বয়ং বিগ বি

মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার পারিতেওয়াদি এলাকার প্রাথমিক শিক্ষক রনজিত্‍ সিনহা দিসালে নিজের ঐকান্তিক চেষ্টায় অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন৷ ইতিহাস গড়েছেন নারীশিক্ষার প্রসারে৷ তাঁর অদম্য উদ্যোগের জন্য UNESCO এবং ওয়ার্কি ফাউন্ডেশন তাঁকে গ্লোবাল টিচার ২০২০ সম্মান জানিয়েছেন৷ আর এবার ‘কওন বনেগা ক্রোড়পতি’র স্পেশ্যাল এপিসোডে অমিতাভ বচ্চনের সামনে হট সিটে রনজিত্‍ সিনহা দিসালে।

 

রনজিত্‍ এবং জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার বিজয়ী ঊষা খারেকে ‘কওন বনেগা ক্রোড়পতি’র স্পেশ্যাল এপিসোডে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সম্প্রতি সনি টিভি প্রোমো প্রকাশ করেছে৷ শনিবার বিশেষ এপিসোডটি সম্প্রচার করা হয়। গ্লোবাল টিচার সম্মান পাওয়া শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত মানুষের স্বপ্ন। এ বছর বিশ্বের ১০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা হয়েছেন রনজিত্‍ সিনহা দিসালে। পুরস্কার বাবদ প্রায় ৭ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন তিনি। গল্পের মোড় ঘুরেছে এখানেই।

 

সোলাপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের এই প্রাইমারি টিচার তাঁর পুরস্কার মূল্যের অর্ধেক টাকা ন’জন ফাইনালিস্টদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন। একই সঙ্গে নারীশিক্ষা প্রসারে তাঁর উদ্যমে কুর্ণিশ জানান সকলে।

 

বিশ্ব দরবারে ভারতের জয়জয়কার, আমেরিকার সর্বোচ্চ পুরস্কারে সম্মানিত হলেন PM MODI

২০০৯ সালে পারিতেওয়াড়িতে জেলা পরিষদের প্রাথমিক স্কুলে যখন দিসালে পড়াতে যান, তখন স্কুল বলতে ছিল একটি গোশালা ও একটি স্টোর রুম। নিজের উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা করানোর নতুন দিশা খুলে দেন দিসালে। স্থানীয় পড়ুয়াদের ভাষাগত সমস্যা দূর করতে নিজে বইয়ের অনুবাদ করে সেই বই তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতেন। কিউআর কোড দিয়ে তিনি পড়ুয়াদের পড়াশোনার বিকাশ সাধন করেন যাতে প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রত্যেক পড়ুয়া নিজে থেকে কবিতা, ভিডিয়ো শুনতে ও দেখতে পায়। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও স্কুলে যেতে শুরু করে।

 

নারীশিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে বাল্যবিবাহ প্রথা রোধ করেন। এখন এলাকার প্রায় ১০০ শতাংশ মেয়ে স্কুলে কেবল পড়াশোনা করছে তাই নয়, নাবালিকা অবস্থায় বিয়ের দেওয়ার ঘটনাও প্রায় নেই৷ দিসালে’র এই অভিনব কাজ ২০১৭ সাল থেকে রাজ্যে সব স্কুলেই সেই ব্যবস্থা চালু হয়। বিদেশের বিভিন্ন স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা ও বিতর্ক সভার আয়োজন করেন লেটস দ্য বর্ডার্স প্রোজেক্টের মাধ্যমে। প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, এমনকি আমেরিকার ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রেরণা জাগিয়ে তুলেছেন দিসালে।বর্তমানে ১৯ হাজার পড়ুয়া এই প্রজেক্টের আওতায় রয়েছে।