অমিত শাহ এর পাশে সৌরভ, রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে! কী বলছে ‘দাদা’র ঘনিষ্ঠ মহল?

বর্ষশেষের সপ্তাহের শুরুতেই নয়াদিল্লির একটি ক্রিকেট অনুষ্ঠানে মুখোমুখি সৌরভ গাঙ্গুলী এবং অমিত শাহ। সৌরভ দিল্লি গিয়েছিলেন অরুণ জেটলির মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে। অরুণ জেটলির পুত্র এখন দিল্লি ক্রিকেট সংস্থার প্রেসিডেন্ট। তার আমন্ত্রণে গতকাল সকালের ফ্লাইটে দিল্লি যান সৌরভ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সৌরভের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত থাকতে দেখে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে উঠে যায়।

গোটা দেশ বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে নানারকম প্রশ্ন উঠতে থাকে। তাছাড়াও অরুণ জেটলির নির্বাচনকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক শুরু হয়। কোন ক্রিকেটারকে উপেক্ষা করে কেন একজন প্রশাসকের মূর্তি এভাবে স্থাপন করা হবে তা নিয়ে প্রতিবাদ জানায় বিষেণ সিং বেদি। যদিও এই বিতর্ক ক্রমে অন্য দিকে মোড় নেয়। সৌরভ গাঙ্গুলীর পাশে অমিত শাহের উপস্থিতি দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেন যে সৌরভ গাঙ্গুলী আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সদস্য পদ গ্রহণ করবেন এবং বিজেপির হয়ে গোটা বাংলায় তিনি প্রচার করবেন।

 

Speculations over Sourav Ganguly Joining politics, truth or friction?

শুধু এখানেই থেমে থাকেনা জল্পনা। বলা হয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট পদ থেকেও নাকি তিনি পদত্যাগ করেছেন যাতে একবারে পুরো সময়টা নির্বাচনী প্রচারের কাজে লাগাতে পারেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় এর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। যদিও সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন রাজ্যপাল ডেকেছিলেন তাই তিনি গিয়েছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে বলতে শুরু করেন বিজেপিতে যোগদানের ভূমিকা ছিল রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ। সৌরভ গাঙ্গুলী এখনও পর্যন্ত সরাসরি কিছুই বলেননি।

লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন মুডে যোগীর পুলিশ, এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৩৫

 

সৌরভ গাঙ্গুলীর ঘনিষ্ঠমহল রাজনীতিতে পদার্পণ এর খবর মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য সৌরভ রাজনীতিতে আসার জন্য মানসিকভাবে স্বচ্ছন্দ নন। তাছাড়া ৩১ টি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। সম্প্রতি কলকাতার বুকে কিনলে ওয়াটার এর বিজ্ঞাপন নিয়ে হাজির হয়েছেন মহারাজ৷ শহর জুড়ে হোর্ডিং। কোটি কোটি টাকা আয় করেন এই বিজ্ঞাপনগুলো থেকে সৌরভ গাঙ্গুলী।

রাজনীতিতে এলে এমন অনেককেই তিনি হারিয়ে ফেলবেন। তাছাড়া জনতার মধ্যে যে বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করলে আর সেই জনপ্রিয়তা কমে যেতে পারে এবং সৌরভ গাঙ্গুলী বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে মোটেও রিজাইন করেননি৷ রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্যমূলক তার মধ্যে কোন রাজনৈতিক সমীকরণ নেই। নেতাজির 125 বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ বৈঠক এর জন্যই রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকড় সৌরভ গাঙ্গুলীকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তাই তিনি গিয়েছিলেন।

 

কেউ কেউ এমনও বলেছেন বিজেপিতে যোগদানের ব্যাপারে সৌরভ প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিয়েছেন। দিল্লিতে অমিত শাহ এর সঙ্গে এয়ারপোর্টে ফেরার পথে নাকি এ বিষয়ে কথা হয়েছে। আগামী 12 ই জানুয়ারি সমস্ত জল্পনা অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। সৌরভ গাঙ্গুলী নাকি বাংলা জুড়ে প্রচারেও নামবেন। কিন্তু নির্বাচনে দাঁড়াবেন না৷ সৌরভ এর ঘনিষ্ঠ শিবির এ বিষয়ে জানিয়েছে, ” সৌরভ প্রচার করবেন কিন্তু ভোটে দাঁড়াবেন না এমন কথা যদি কেউ বলে থাকেন, তাহলে তারা সৌরভ গাঙ্গুলী কে চেনেন না। সৌরভ আধাআধি কিছু করেন না। ” আপাতত এই জল্পনা জারি থাকবে। সৌরভ নিজের মুখে যতক্ষণ না কিছু বলছেন ততক্ষণ নানারকম প্রসঙ্গ উঠতে থাকবে তা বলাই বাহুল্য।