শাহরুখ-সলমন অতীত, এবার বলিউড কাঁপাতে হাজির সানি দেওল! মাত্র ১০ মিনিটেই সব টিকিট শেষ

আর বাল্কির নতুন সিনেমা ‘চুপ! রিভেঞ্জ অফ দ্য আর্টিস্ট’ আসছে। এই সিনেমাতে কাজ করছেন সানি দেওল, দুলকার সালমান, পূজা ভাট এবং শ্রেয়া ধন্বন্তীর মতো অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা। সিনেমাটি ২৩শে সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। সাধারণত, সিনেমা মুক্তির আগে সমালোচকদের দেখানো হয়, যাতে তাদের মতামত নেওয়া যায় এবং এর ভিত্তিতে জনসাধারণ সিনেমাটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যান, কিন্তু আর বাল্কি সমালোচকদের আগে দর্শকদের এই সিনেমাটি দেখাতে চলেছেন, তাও একেবারে বিনামূল্যে। একে বলা হচ্ছে ‘চুপ- পাবলিক ফ্রিভিউ।’ এই ফ্রিভিউ ২০শে সেপ্টেম্বর দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, লখনউ, ব্যাঙ্গালোর এবং হায়দ্রাবাদ সহ দেশের ১০টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিনামূল্যের ভিউ শোগুলির জন্য টিকিট বুকিং ১৯শে সেপ্টেম্বর থেকে বুক মাই শো অ্যাপে শুরু হয়েছে৷ মাত্র ১৯ মিনিটেই সব টিকিট বুক হয়ে গেছে। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। এই ফ্রিভিউ যেকোনো চলচ্চিত্রের প্রচারের একটি সৃজনশীল উপায়, যা সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে সিনেমার বিষয়বস্তুর নিরিখে। ‘চুপ’ সিনেমাটির ট্রেলারে চলচ্চিত্র সমালোচকদের হত্যার কথা বলা হয়েছে। এমন একজন ব্যক্তি আছেন, যিনি সেই সমস্ত সমালোচকদের হত্যা করছেন, যারা চলচ্চিত্রে কম তারকা দেন বা চলচ্চিত্রকে খারাপ বলেন। কেউ কেউ এই কাজটি সততার সাথে করেন, অর্থাৎ সিনেমা দেখার পর তারা যা অনুভব করেন তা লেখেন, তবে কিছু লোকের কাছে চলচ্চিত্র সমালোচনা হলো ব্যবসা।

সেই সকল সমালোচকরা টাকা নিয়ে সিনেমা ভালো বা খারাপ বলে দেন। ‘চুপ’ সিনেমার হত্যাকারী সেই সমালোচকদের হত্যা করেন এবং তাদের শরীরে তারার চিহ্ন করে দেন। গুরু দত্ত এবং তাঁর সিনেমা ‘কাগজ কে ফুল’ থেকে প্রচুর রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে ‘চুপ’ সিনেমায়, সিনেমাটোগ্রাফি থেকে শুরু করে সিনেমার দৃশ্য ও কাহিনী। ‘চুপ’ সিনেমার হত্যাকারী ক্ষুব্ধ যে, ‘কাগজ কে ফুল’ ছিল গুরু দত্তের সবচেয়ে ব্যক্তিগত সিনেমা। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সিনেমাটি তৈরি করেন। সমালোচকরা সিনেমাটি পছন্দ করেননি। এই কারণে সিনেমাটি সফলতা পায়নি। এরপর গুরু দত্ত ডিপ্রেশনে চলে যান।

এরপর তিনি আর কোনো চলচ্চিত্র তৈরি করেননি। ‘চুপ’ সিনেমার হত্যাকারী মনে করেন যে, চলচ্চিত্রগুলি পরিচালকের সন্তানের মতো এবং যদি কোনো সমালোচক চলচ্চিত্রকে খারাপ বলেন, তাহলে তিনি সেই পরিচালকের সন্তানকে হত্যা করছেন। চুপ’ সিনেমার হত্যাকারীর মতে, পরিচালকের শুধু এমন ধরনের সিনেমা বানানো উচিত নয়, যা দর্শক পছন্দ করেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উচিত ভালো এবং ভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করা এবং সেগুলোকে ভালোভাবে পরীক্ষা করা। ‘চুপ’ সিনেমাটিও এই একই কাজ করে। সিনেমাটি দর্শকদের নতুন ধরনের সিনেমা দেখতে উৎসাহিত করে। গল্পটা জানার পর ‘চুপ’ সিনেমার নির্মাতারা কেন ফ্রিভিউয়ের কৌশল অবলম্বন করলেন তা বোঝা খুব একটা কঠিন নয়।

এই সিনেমাটি সমালোচক বিরোধী। অর্থাৎ, অনেক সমালোচককে এই সিনেমাটি বিদ্ধ করতে পারে। তাই ‘চুপ’ সিনেমার নির্মাতারা চান না যে, সমালোচকদের মতামতে প্রভাবিত হয়ে দর্শকরা সিনেমাটি দেখতে যান। দর্শকরা নিজেরাই যাতে সিনেমাটি দেখে সেই সম্পর্কে তাদের নিজস্ব মতামত অন্যদের সাথে শেয়ার করেন। যাকে ‘ওয়ার্ড অফ মাউথ’ অর্থাৎ মুখের কথা বলা হয়। এই ফ্রিভিউ প্রচারণার ফলে দুটি জিনিস ঘটবে। প্রথমে সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা হবে। যত বেশি মানুষ কথা বলবেন, তত বেশি মানুষ এই সিনেমাটি সম্পর্কে জানতে পারবেন। একে বলে প্রমোশন। দ্বিতীয়ত, যারা সিনেমাটি দেখবেন তারা নির্দ্বিধায় সিনেমাটি সম্পর্কে সততার সাথে তাদের মতামত প্রকাশ করবেন। ‘চুপ’ সিনেমার নির্মাতারা সমালোচকদের চেয়ে দর্শকদের মতামতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাই বলা যায় যে, এই সিনেমাটি একটি অত্যন্ত সৃজনশীল প্রচারমূলক প্রচারণা।