দেশনতুন খবরবিশেষরাজ্য

অর্থ মন্ত্রকের তরফ থেকে জারি করা হল নির্দেশ! সরকারি কর্মীদের দেওয়া টাকা ফেরত চাইল নবান্ন..

ফের আবার রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ দফতর ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে বেড়াতে যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের শুধুমাত্র যাতায়াতের ভাড়া দেওয়া হবে। অর্থ দপ্তরের তরফ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করে বাড়তি টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। ঘুরতে যাওয়ার জন্য হোটেল ভাড়া এবং অন্যান্য বাড়তি খরচ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর থেকে আরও একধাপ এগিয়ে এলটিসিতে বহির্ভূতভাবে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

এর জেরে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ দপ্তরের তরফ থেকে জারি করা এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, 2015 সালের নভেম্বর মাস থেকে এখনো পর্যন্ত যে সমস্ত সরকারি কর্মচারীরা এলটিসির সুবিধা নিয়েছেন, তারা যাতায়াতের খরচ ছাড়া বাড়তি কোনো টাকা সরকারের কাছ থেকে পেয়ে থাকলে তা মুচলেখা দিয়ে জানাতে হবে ওই কর্মচারী কে। এবং ওই বাড়তি টাকা সরকারকে আবার ফেরত দিতে হবে।

প্রতি মাসের হিসাবে মোট 12 টি কিস্তিতে সরকারকে ওই টাকা ফেরত দিতে হবে বলে জানিয়েছে অর্থমন্ত্রক। এবং যে কর্মীরা তার আগেই অবসর নেবেন তাদের অবসর নেওয়ার আগেই ওই টাকা সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে। এর আগে অর্থ দপ্তরের তরফ থেকে একদফায় নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছিল, এলটিসি শুধুমাত্র যাতায়াতের খরচ বহন করবে। এবং বাস ট্রেন বা বিমান ভাড়া হিসেবে নির্ধারিত মূল্য দেওয়া হবে সরকারি কর্মচারীদের।

হোটেল ভাড়া থেকে শুরু করে আরো অন্যান্য খরচ সরকারি কর্মচারীদের নিজের পকেট থেকে দিতে হবে।
এছাড়াও আরো একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে যাতে এলটিসির পুরো প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। রেল বা বিমানের টিকিট ওই কর্মচারীকে সরাসরি কাটতে হবে। অর্থাৎ বলা হয়েছে কোনো ভ্রমণকারী সংস্থার মাধ্যমে যদি টিকিট কাটা হয় তাহলে সেই টাকা সরকার দেবে না। এছাড়াও ঐ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের আগে ওই টিকিটের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

অর্থ দপ্তরের কর্মচারীদের দাবি, প্যাকেজ ট্যুরের নাম করে অধিকাংশ কর্মচারীরা এলটিসি বাবদ সরকারের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নিচ্ছিল। এইরকম ভাবে ধীরে ধীরে চলতে চলতে এক সময় এই খাতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলে লক্ষ্য করে সরকার। সরকার কাগজপত্র খুঁটিয়ে দেখে ধরা পড়েছে যে, অধিকাংশ কর্মচারীই প্যাকেজ ট্যুরের খরচ হিসেবে বহু টাকার বিল জমা করেছেন। সরকারি কর্মচারীরা যাতে এর দুর্ব্যবহার না করতে পারে তাই নয়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button