কোনো ফিল্মের থেকে কম না অজিত দোভোলের জীবন, একাধিক রোমাঞ্চে ভরা রয়েছে তার এই কর্মজীবন…

বহুকাল আগে রাজা রাও গুপ্তচরের ব্যবহার করে তাদের সাম্রাজ্যকে রক্ষা করতো। এই গুপ্তচরের ব্যবহার বর্তমান সময়েও প্রচুর রয়েছে। সমস্ত দেশেই গুপ্তচর ব্যবহার করে তাদের দেশকে বাঁচাবার চেষ্টা করে। অনেক গুপ্তচরের কাহিনী প্রাচীন গ্রন্থ তোলা হয়েছে যার ফলে সাম্রাজ্য বা দেশ বা রাজ্য বেঁচে গেছে। এবার আপনাদের ভারতের সুপার গোয়েন্দা এজেন্ট অজিত ডোভালের কথা জানাবো।আপনাদের জানিয়ে দেই এই অজিত ডোভাল প্রায় সাত বছর ধরে গুপ্তচর হিসেবে থেকে ছিলেন পাকিস্তানে।

পাকিস্তানের দ্বারা অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষুব্ধ মানুষদের কাছ থেকে সমস্ত তথ্য জোগাড় করে ভারতকে দিয়েছিল এই সুপার গোয়েন্দা। শুধু তাই নয় জঙ্গিদের ধরার জন্য রিক্সাওয়ালার ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন তিনি। এমন কী দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরে যদি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ধরা হয় তাহলে তা অজিত ডোভাল। মোদি সরকারের অন্যতম ভরসা যোগ্য ব্যক্তি হলেন তিনি। একাধিক ইস্যুতে অজিত ডোভাল কে ভরসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অজিত ডোভাল কে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ দেওয়া হয়।

আর এই পদটি হল প্রতিরক্ষা এবং বিদেশমন্ত্রীর থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ।পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার সময় সবসময়ই সামনে থাকেন এই অজিত ডোভাল। এই অজিত ডোভাল খুব কমই জনসমক্ষে আসেন এমন কী তাকে ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য পাওয়া যায় না।অজিত ডোভালের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা তার সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তিনি একদম পাবলিসিটি পছন্দ করেন না। আর তিনি এই মুহূর্তে দেশের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যু গুলির দিকে লক্ষ্য রাখেন।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদ পাওয়ার পরে তিনি আফগানিস্তান সফরে যান। এরপরে ভুটান সফরেও মোদি নিয়ে যান অজিত ডোভালকে। বর্তমানে এখন চীন সীমান্তে যে বিতর্কিত অংশ নিয়ে আলোচনা চলছে তাতেও অজিত ডোভাল দায়িত্বে রয়েছে। অজিত ডোভাল কে ভারতের জেমস বন্ড বলা হয়ে থাকে। তার কর্মজীবনকে কেন্দ্র করে অনেক গল্প রয়েছে। একবার 1988 সালে গোল্ডেন টেম্পলে সেনা অভিযান চালানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন অজিত দোভাল। সেই সময় কার ঘটনা তুলে ধরেন প্রাক্তন সেনা অফিসার করন খার্ব।

তিনি জানান, সেই সময় স্বর্ণ মন্দিরে প্রবেশ করার জন্য এক রিক্সাওয়ালার ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন অজিত। সেখানে থাকা জঙ্গিদের তিনি বোঝাতে পেরেছিলাম যে তিনি একজন পাকিস্তানি। আর তিনি জঙ্গিদের সাহায্য করার জন্য এসেছেন বলে মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করেন। সেনা অভিযান চালানোর আগে অনুমান করেছিল মন্দিরের ভিতরে 40 জন রয়েছে। কিন্তু অজিত দোভাল এসে জানায় সেখানে রয়েছে 200 জন।

এরপর তিনি পরামর্শ দেন যাতে মন্দিরের ইলেকট্রিক এবং জলের লাইন সমস্ত কিছু কেটে দেওয়া হয়। এর পর প্রচণ্ড গরমে জল না পেয়ে 9 দিন পর মন্দিরের ভিতরে থাকা জঙ্গি গুলি আত্মসমর্পণ করে।আপনাদের জানিয়ে দি কোনরকম সরকারি ওয়েবসাইটে আপনি অজিত ডোভাল এর প্রোফাইল খুঁজে পাবেন না। তবে তিনি কোনো এক সময় এক জায়গায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে জানিয়েছিলেন যে, 1945 সালে গাডোওয়ালে তার জন্ম হয়। এরপর 1967 সালে অর্থনীতিতে এমএসসি করেন তিনি। এরপর পুলিশে যোগ দেন।

এরপর 1972 সালে আইবিতে যোগ দেন তিনি। সেখানে তিনি 30 বছর কাজ করেন এমন কী সেই সময় কাশ্মীর সহ উত্তর পূর্ব ভারতের নজরদারি চালাতে বহুবার গিয়েছিলেন তিনি। উর্দু ভাষাতেও তিনি যথেষ্ট দক্ষ।
একবার 2014 সালের নভেম্বর মাসের বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি জানান, পাকিস্তানের জেলে তিনি সাত বছর কাটিয়েছিলেন। এমন কী তিনি যে হিন্দু নন তার জন্য ছোট্ট প্লাস্টিক সার্জারিও করেছিলেন। এছাড়াও জানা গেছে তার বাড়িতে নাকি কয়েকশো বইয়ের লাইব্রেরী রয়েছে।

Related Articles

Back to top button