অনেক ভাবনাচিন্তার ফল অগ্নিপথ, কোনমতেই প্রত্যাহার করা যাবে না ! বার্তা অজিত ডোভালের

আরো একটি প্রকল্প এবং আরো একটি বিক্ষোভ। ঠিক যেমন কৃষি বিল আইন প্রত্যাহার করার জন্য বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন হাজার হাজার কৃষক সম্প্রদায় ঠিক তেমন অগ্নিপথ প্রকল্প প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সরব হয়েছেন দেশের যুব সমাজের একাংশ। কিন্তু এই প্রকল্প কোনভাবে প্রত্যাহার করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। অজিতবাবুর কথায়, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। অনেক ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এখনই সরিয়ে দেবার কোন মানে হয় না।

আজ অজিতবাবু যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তা দেখে রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, অগ্নিপথ প্রকল্প ঘিরে দেশব্যাপী বিক্ষোভ দেখাচ্ছে যুব সম্প্রদায়, তা সামাল দিতে এবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে মাঠে নামাতে হলো কেন্দ্রকে। জানিয়ে রাখি, গত মঙ্গলবার অগ্নিপথ প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। এই প্রকল্পে চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত সেনাদের ৭৫ শতাংশকে চার বছরের মধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর নিতে হবে।

মূলত গ্রামীণ ভারতের যুবকরা সরকারি চাকরি স্থায়িত্ব এবং টেনশনের কারণে ভারতীয় সেনা যোগদান করে থাকেন কিন্তু এই প্রকল্পের স্বল্পমেয়াদী চাকরিজীবন এবং অবসরের পর পেনশন ব্যবস্থা না থাকার জন্য আন্দোলনে নামেন যুব সম্প্রদায়ের একাংশ। প্রকল্প প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে রীতিমতো সরব হন সমস্ত বিরোধী দলগুলি। বিক্ষোভ সামলাতে সরব হন শাসক দলের নেতা এবং সেনার শীর্ষ কর্তারা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আন্দোলন জারি রেখেছে বিক্ষোভকারীরা থামাতে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামাতে হলো অজিতবাবুকে।

একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, বিস্তর আলোচনার পরে অগ্নিপথ প্রকল্প রূপায়ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্প প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্ন নেই। বিশ্বের তরুণ দেশ হলো ভারত বর্ষ। তাই সেনার গড় বয়স কমানোর জন্য এই প্রকল্প শুরু করার কথা চিন্তা ভাবনা করা হয়েছে।

অজিত ডোভাল আরো দাবি করেন,”২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর যে নিরাপদ এবং শক্তিশালী ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নকে বাস্তব করার জন্য এই প্রকল্প শুরু করা হচ্ছে। এই প্রকল্প যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে আমাদের ভারতবর্ষের তরুণ প্রজন্ম সমস্ত বাধা বিপত্তি জয় করার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকবে। সুতরাং এই প্রকল্প প্রত্যাহার করার কোন মানেই হয়না”।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন চার বছর পর অবসর যখন নেওয়া হবে তখন কি ভবিষ্যৎ থাকবে যুবসম্প্রদায়ের? উত্তরে ডোভাল বলেন, আজকাল মানুষ বহুবার নিজের পেশা বদলান। প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীররা যখন চার বছর পর অবসর নেবেন তখন ভারত ৫ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। সেই সময়ে দক্ষ অল্পবয়সী সেনা কর্মীদের ওই অবসরের পর কাজের কোন অভাব হবে না। একবার অনুশাসনে থাকলে বিপথে যাবার আর কোন প্রশ্ন উঠবে না।

আজ সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অগ্নিবীর প্রকল্প এবং নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এই বিষয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিল পুরী জানান, যেভাবে অতীতে সেনা নিয়োগ করা হয়েছিল সে ভাবেই অগ্নিবীরদের নিয়োগ করা হবে। ইতিমধ্যেই স্থল সেনা নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। নিয়মিত সেনাদের মধ্যে বৈষম্যের কোন প্রশ্ন নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে যদি বিরক্ত দেখানো যায় তাহলে একজন অফিসার যেমন সর্বোচ্চ পদকের জন্য বিবেচিত হন, তেমনি অগ্নিবীরদের নামও একইভাবে বিবেচিত করা হবে।

সেনা কর্তৃপক্ষ আজ আরও জানিয়েছেন, মূলত জওয়ানদের গড় বয়স কমানোর জন্য চার বছরের জন্য চুক্তি ভিত্তিক সেনা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যখন তুলনা করা হয় তখন দেখা গেছে আমাদের দেশের জওয়ানদের তুলনায় তাদের জওয়ানদের গড় বয়স অনেক কম। আমাদের দেশের সেনাদের গড় বয়স কমানোর জন্য একাধিক কমিটির সুপারিশ করেছিল এবং এই সুপারিশের ভিত্তিতে অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করা হচ্ছে।প্রসঙ্গত, যে সকল সৈনিকরা ইতিমধ্যেই সেনাতে যোগদান করেছেন তাদের জন্য এই প্রকল্প প্রযোজ্য হবে না।