আবারও মিথ্যা ফাঁস, অভিনন্দনকে মার খাইয়েছে পাক সেনাই….

আপনার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেছে পাকিস্তান? পাক প্রকাশিত ভিডিওতে ভারতীয় বায়ুসেনা অভিনন্দন বর্তমান বলেন,’ আমার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করা হয়েছে।’ যদি বলা হয় যে পাকিস্তান আবারো মিথ্যা কথা বলছে। ঠিক যেমনটা তারা বারবার বলে এসেছে F-16 বিমানকে নিয়ে। অভিনন্দন এর সাথে কোন ভাল ব্যবহার হয়নি, পাক সেনা দাঁড়িয়ে থেকে মারধর করিয়েছে অভিনন্দনকে। এমন কেউ ঘটনাস্থলে পাক সেনার এক মেজরও উপস্থিত ছিলেন।পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের হাতে পড়ার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ওখানে উপস্থিত ছিল পাকিস্তানের সেনা। তারা দাঁড়িয়ে থেকে মারধর করায় এবং ভিডিও করে অভিনন্দন কে বলান করানো হয় যে পাকিস্তান তাঁর সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছে।

 

 

 

পাক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়ার স্থানীয় পাক ব্যক্তির বক্তব্যে এ কথা স্পষ্ট বোঝা যায়। আন্তর্জাতিক স্তরে একের পর এক মিথ্যা ঘুরিয়ে পেচিয়ে কিভাবে বলা যায় তা পাকিস্তানের থেকে আর ভালো কেউ পারবেনা। F-16 নিয়ে পাকিস্তান যে পর পর মিথ্যা কথা বলে গেছে তার প্রমান বৃহস্পতিবারেই ভারতীয় বায়ুসেনারা দিয়ে দিয়েছে। এর পরও তাদের আরেক মিথ্যা কথা সবার সামনে চলে এলো। পাক নাগরিক নিজের মুখে তা স্বীকার করলেন। সামা টিভি নামক এক পাক সংবাদমাধ্যম কে পাকিস্তানের সিন্ধার এলাকার ওই স্থানীয় ব্যাক্তি বলেছেন,’ আমি সেই সময় কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরোচ্ছিলাম। তখন দেখি একটা বড় বিমান বা বড় কিছু একটা আগুন লাগা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তখন দেখতে পায় একজন প্যারাসুট করে নামছে। আমি গাড়ি ঘুরিয়ে সেখানে যাই।’ এরপর তিনি বলেন, ‘ আমাদের সেনার কাছে খবর ছিল আমাদের বাড়ির এলাকায় কোনও একটা প্যারাসুট পড়েছে। কিন্তু প্যারাসুটটা কোন জায়গায় পড়েছে তা ওরা বুঝতে পারছিল না।

 

আমি ওদেরকে গাড়িতে বসিয়ে সেখানে নিয়ে যায়।’ তিনি এরপর বলেন,’ আমরা যখন ওখানে গিয়ে পৌঁছায় তখন দেখি ওই বিমানের পাইলট একটি সরু নালার মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। আমি পাক সেনা মেজর এবং আরো কিছু সেনাদের নিয়ে ওর পিছনে ধাওয়া করি। এরপর ওই পাইলট আমাদের উপর দুবার ফায়ার করে। তবে আমাদের কারোর গুলি লাগেনি। দেখি যে ও ছুটে গিয়ে একটা নদীতে ঝাঁপ মেরে দিল। আমি ওকে ধরার চেষ্টা করি, কিন্তু পারিনি। তারপর ও আবার আমার উপর গুলি চালানোর চেষ্টা করে। এরপর বাধ্য হয়ে আমি নদীর ধারে পাথর তুলে ওর দিকে ছুঁড়ে মারি। একটা ওর পায়ে লাগে আরেকটা ওর মাথার পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তখন ও আমাকে দূর থেকে বলে যে তাকে যেন আর পাথর না মারা হয়।’ এরপরে সে পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছে,’ এই যে পুরো ঘটনাটা ঘটেছিল তখন আমার পাকসেনা মেজর এবং আরো কয়েকজন জাওয়ান ছিল।’

 

 

 

অর্থাৎ এর থেকে বোঝা যাচ্ছে পাকসেনা দাঁড়িয়ে থেকে পুরো ঘটনাটি দেখেছে। মিক বিমানের পাইলটকে সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিয়ে অভিনন্দন কে মার খেতে দিয়েছে। শুধু এখানেই নয় সবারই চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য তাকে দিয়ে জোর করে মিথ্যা কথা বলানো হয় যে, তার সঙ্গে পাক সেনা খুব ভালো ব্যবহার করেছে। কিন্তু আদৌ যে তারা ভাল ব্যবহার করেনি তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ঠিক যেমনটা কারগিল যুদ্ধের সময় যুদ্ধবন্দী পাইলট নচিকেতার সঙ্গে করেছিল তেমনটা অভিনন্দন এর সাথেও করেছে। তিনি বলেছিলেন, ‘ আমাকে ওরা মার খাওয়ানোর জন্য সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিল।’ সবারই মনে একটাই প্রশ্ন উঠেছিল যে, পাকিস্তান এতটা ভালো ব্যবহার করছে কি করে? তাও আবার ভারতীয় সেনার সঙ্গে? অনেকে মনে করছিলেন জেনেভা চুক্তি কিছুটা মেনে তারা আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর জন্য ভাল ব্যবহার করছে।

 

কিন্তু এই গুলি পুরোটাই মিথ্যা তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। এমনকি অভিনন্দন কে ছেড়ে দেওয়ার আগে তাকে দিয়ে জোর করে আবার মিথ্যা কথা বলানো হয়। তাকে দিয়ে আবার ভিডিও করে বলানো হয়, যা কিছু ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম কিছুটা বাড়িয়ে বাড়িয়ে দেখায়। ভারতীয় মিডিয়ার এটাই চরিত্র। অভিনন্দনের বারবার ভিডিও শুট করে জেনেভা কনভেনশনের 13 নম্বর ধারা অমান্য করেছে পাকিস্তান।

Related Articles

Back to top button