গান্ধী-নেতাজীকে নিয়ে কঙ্গনার মন্তব্যের পর বড় বয়ান দিলেন সুভাষকন্যা, বললেন

কঙ্গনা রানাওয়াত গত বছর থেকে যথেষ্ট লাইমলাইটে আছেন। কখনও বা নেটিজেমের বিষয়ে, কখনো বা বলিউডের বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস করার বিষয়ে। তার এই বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য তার অফিস পর্যন্ত ভাঙচুর হয়েছে, এবং তার সুরক্ষার জন্য তাকে দিতে হয়েছে সরকার থেকে দেহরক্ষীও কিছুদিন আগে তিনি বলেছিলেন যে ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়নি, ভারত স্বাধীনতা লাভ করেছে মোদি সরকার শাসনের আসার পর। আর তিনি এবার তার মন্তব্য করলেন ভারতের বীরদের প্রতি। অর্থাৎ, এক কথায় মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী এবং ক্ষুদিরাম বসুর মতো মানুষদেরকে নিয়ে। আর তারই মন্তব্যের ফলে বিতর্কের ঝড় আছড়ে পড়ল সুদূর জার্মানিতে।

সম্প্রতি কঙ্গনা রানাওয়াত নিজে ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট থেকে মহাত্মা গান্ধী কে উদ্দেশ্য করে করেছেন এক মন্তব্য যার ফলে তিনি ভীষণ বিতর্কিত হয়েছেন যার ফলে ওনাকে নিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের স্টোরি তে মন্তব্য করেছেন যে, “মহাত্মা গান্ধী একজন ক্ষমতালোভী আর চালাক মানুষ।” কঙ্গনা আরও লিখেছেন যে, “মহাত্মা গান্ধীর কারণেই ফাঁসি হয়েছে ভগৎ সিংয়ের।” তিনি এও বলেছিলেন যে, “মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আর ভগৎ সিং কে সমর্থন করতেন না।”

কঙ্গনার বিতর্কিত মন্তব্যের পর এবার স্বয়ং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) মেয়ে অনিতা বসু (Anita Bose) এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া করেন। সুদূর জার্মানি থেকে নেতাজির মেয়ে জানিয়েছেন, “নেতাজি এবং গান্ধী উভয়েই মহান বীর ছিলেন যারা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। একজন আরেকজনকে ছাড়া এই কাজ করতে পারতেন না। এটি একটি সমন্বয় ছিল।”

অনিতাদেবী আরও বলেন, “কিছু কংগ্রেস সদস্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি করেছিলেন, শুধুমাত্র অহিংস নীতির কারণেই ভারত স্বাধীন হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা সকলেই জানি যে নেতাজি এবং আইএনএ-এর পদক্ষেপগুলিও ভারতের স্বাধীনতায় অনেক অবদান রেখেছিল।” তিনি আরও বলেন, “অন্যদিকে, এটা দাবি করা অযৌক্তিক হবে যে শুধুমাত্র নেতাজি এবং আইএনএ-র কারণেই ভারতে স্বাধীনতা এসেছিল। গান্ধী, নেতাজি সহ অনেকে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য।”

অনিতা বসু আরও বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী ও আমার বাবার স্বভাব ছিল খুবই জটিল। গান্ধী অনুভব করেছিলেন যে তিনি আমার বাবাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে আমাদের এটাও ভাবা উচিত যে আমার বাবা মহাত্মা গান্ধীর একজন বড় ভক্ত ছিলেন।” অনিতা বোস তার বক্তব্যের শেষ কথা বলেন, নেতাজি সর্বদা আগ্রহী হয়ে থাকতেন এটা জানার জন্য যে দেশ স্বাধীনতা করার জন্য নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পদক্ষেপগুলি মহাত্মা গান্ধী কিভাবে গ্রহণ করছেন।”