গৌতম গাম্ভীরের পরে এই ছয় ক্রিকেটার বিদায় জানাতে চলেছেন ক্রিকেট থেকে….

সুনীল গাভাস্কার থেকে শুরু করে শচীন টেন্ডুলকার পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট একের পর এক সুপারস্টার উপহার দিয়ে গেছেন ক্রিকেটপ্রেমীদের। আর এখন বর্তমানে সুপারস্টার হলেন বিরাট কোহলি। এই মেগাস্টারদের সাথে বহু ক্রিকেটার একসাথে ড্রেসিং রুম শেয়ার করেছেন। তবে যেই হোক একদিন না একদিন তো তাকে অবসর নিতেই হবেই। তবে গাভাস্কার বা শচীন যাকে বলুন না কেন ক্যাপ্টেন হিসেবে কিন্তু তারা সফল হননি। তবে বর্তমানে ভারতের অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলি অনেক সফলতা অর্জন করেছেন। বিরাট কোহলি এখনো পর্যন্ত দৃষ্টি টেস্টে ভারতের হয়ে নেতৃত্ব করেছেন। আর তার মধ্যে 19 টি টেস্ট জিতেছেন। সর্বকালের সেরা অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরাট কোহলির অভিষেক হওয়ার পর,বড় বড় ক্রিকেটারদের  সাথে মিশে তিনি এখন সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান  হয়ে উঠেছেন। তার অভিষেক হবার পর অনেক মহান মহান ক্রিকেটাররা অবসর নিয়েছেন। আর সেই অবসর ক্রিকেটারদের অবদান সম্পর্কে যতই বলা যায় কমই বলা হবে। আজ আমরা এমন 7 জন ক্রিকেটারের সম্পর্কে আলোচনা করব।


6. প্রজ্ঞান ওঝা-বর্তমানে ভালো ফ্রম না থাকার জন্য ভারতীয় দল থেকে ছিটকে গেল একসময় ভারতীয় দলে তাকে নেক্সট বিগ থিং ভাবা হতো ভারতীয় ক্রিকেটে। ধনী অধিনায়ক থাকাকালীন 2008 সালে অভিষেক হয় ওঝার। ওঝা বিশেষ করে টেস্টে খুব ভালো পারফর্ম করতেন। ভারতীয় দল থেকে বাদ হয়ে যাওয়ার আগে 24 টি টেস্টে 113 টি উইকেট ছিল তার। 2012 সালে  ভারতের হয়ে শেষ বারের মতো একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। বর্তমানে তার ভারতীয় ক্রিকেট দলে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তবে আর কিছুদিনের মধ্যে অবসর নেবেন  ওঝা।
5. ইরফান পাঠান-বাঁহাতি এই পেসার এক সময় ভারতীয় দলের হয়ে দারুণ বোলিং করতেন। তারপর গ্রেগ চ্যাপেল তাকে বোলার  থেকে অলরাউন্ডার বানাতে গিয়ে ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে বলেন। ফলে তিনি ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে গিয়ে বলে ঠিকঠাক গুরুত্ব দিতে পারছিলেন না। এর ফলে তার বোলিং পারফরম্যান্স ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। তিনি 2008 সালে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন। ওঝার মত ইনিও আর জাতীয় দলে ফেরার  কোনো সম্ভাবনাই নেই। তার বয়স এখন 32 বছর। আর এমনি তো ফাস্ট বোলারদের ক্যারিয়ার খুব ছোটই হয়।


4. হরভজন সিং-ভারতীয় দলের এক সময় সর্বকালের সেরা অফস্পিনার ছিলেন তিনি। সেই সময় উইকেট ফেলার ক্ষেত্রে মহেন্দ্র সিং ধোনির মোক্ষম অস্ত্র ছিলেন তিনি। ভাজ্জি এখনো পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর না নিলেও তার আর ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। রবিচন্দ্রন অশ্বিন এর আগে ভারতীয় দলের সেরা স্পিনার ছিলেন তিনি। 2019 বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছে থাকলেও সেই আশা তার কাছে এখন খুবই ক্ষীন। ভাজ্জির বয়স এখন 37 বছর।
3. সুরেশ রায়না-অনেকে মনে করছেন সুরেশ রায়নার ভারতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার কারণ হলো একমাত্র নিজের অবহেলা। ভারতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করার পর এই ক্রিকেটার বিয়ে করেন। তারপর তাদের সন্তান হওয়ার পর ক্রিকেটের দিকে মন না দিয়ে সংসারের দিকে মন দেন তিনি। এরপর আস্তে আস্তে ফ্রম হারিয়ে ফেলেন এবং ভারতীয় দল থেকে ছিটকে যান এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এখন ভারতীয় দলে কাম ব্যাক করার চেষ্টা করলেও তিনি ফিটনেসে পাস হতে পারছেন না 30 বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।


2. যুবরাজ সিং-ক্যান্সার এর মত মরণ রোগ কে হারিয়ে তিনি ভারতীয় দলে কাম ব্যাক করেন। তিনি ভারতীয় দলের চোখের মনি ছিলেন বলা চলে। তবে এখন ভালো ফর্ম না থাকায় ভারতীয় দল থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। 2011 বিশ্বকাপে তিনি ম্যান অব দ্যা সিরিজ হন। 2011 সালে ভারতের বিশ্বকাপ জেতার পেছনে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদিও যুবি এখনো ভেঙে পড়েননি 2019 এর বিশ্বকাপ খেলার জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে 32 বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের একটি সমস্যা সেটা হল ফিটনেস। এই বছর ভারতীয় দলের হয়ে ক্যারিবিয়ান সফরে লাস্ট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন তিনি।


1. মহেন্দ্র সিং ধোনি-এনার অধিনায়কত্ব সম্পর্কে কিছু বলার অপেক্ষা থাকে না। ইনি হলেন বিশ্বের একমাত্র অধিনায়ক যিনি আইসিসি সমস্ত ট্রফি জিতেছেন। 2014 সালের টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পর শুধুমাত্র সীমিত ওভারে ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। তারপর এই বছরই তিনি t20 এবং 50 ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব বিরাট কোহলির ওপরে ছেড়ে দেন।ফিটনেস এর বিষয়ে তিনি একদম ফির থাকলেও ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্ডার পারফর্ম করছেন তিনি। 2019 বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বিরাট কোহলি এবং রবি শাস্ত্রী রাজি থাকলেও মনে করা যাচ্ছে এটিই তাঁর শেষ আইসিসি টুর্নামেন্ট হতে পারে।