প্রায় আড়াই বছর পর একান্তে কথা হতে চলেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর, যেখানে মূল আলোচ্য বিষয় থাকতে চলেছে এগুলি…

দ্বিতীয় দফায় মোদি সরকারের 100 দিন পূরণ হবার পরে এবার প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় আড়াই বছর পর তারা আবার একান্তে বৈঠক করতে চলেছেন। আগামীকাল 18 ই সেপ্টেম্বর বুধবার দিন বিকেলে দিল্লীতে তাদের মধ্যে আলোচনা হবার কথা রয়েছে দু’জনের। তাই আজ বিকেলেই মঙ্গলবার দিন দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী জানা যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন আর্থিক দাবি-দাওয়া নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর সাথে বৈঠক করতে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

তবে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে মোদির সঙ্গে মমতার সাক্ষাৎকার একটা তাৎপর্যপূর্ণ দিক নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।কারণ এর আগে লোকসভা ভোটে বিরোধীদের জোটের কর্মসূচিতে যোগ দিতে মমতা একাধিকবার দিল্লি গিয়েছিলেন তবে কোন সরকারি কাজে দীর্ঘদিন যাননি তিনি। এমনকি গত মে মাসে নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানেও তিনি যাননি।

এছাড়া বিভিন্ন ভাবে গঠিত সরকারি বৈঠকেও তিনি এড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে এখন মোদির সঙ্গে মমতার বৈঠক মূলত চারটি বিষয় জায়গা পেতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে তবে সে বিষয় গুলি কী কী সেগুলি রয়েছে আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয়।
১) 100 দিনের কাজের টাকা না পাওয়া-জানা যাচ্ছে বিগত কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রে তরফ থেকে টাকা মিলছে না 100 দিনের কাজে। ফলে শ্রমিকদের যে বকেয়া টাকা সেটা মেটানো যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি নতুন করে 100 দিনের কোন কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

কারণ টাকা না মেলায় আর কেউ সেই কাজ করতে চাইছেন না। তাই আগামীকাল মোদির সাথে মমতার বৈঠক এর মূল আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে এই 100 দিনের কাজের বকেয়া টাকা মেটানোর দাবি।
২) দেশজুড়ে এনআরসি করার প্রকল্প- যেমন কী আপনারা জানেন অসমে এই মুহূর্তে চালু হয়ে গেছে নাগরিকপঞ্জি করন, আর বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে এই রাজ্যেও অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি করা হবে।

এমনকি রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ তো এটা পর্যন্ত দাবী করে বসেছেন পশ্চিমবাংলা থেকে এনআরসি দরুন এক কোটি লোকের নাম বাদ যাবে যারা অবৈধভাবে রাজ্যে বসবাস করছেন। তাই এনআরসি ইস্যুতে রাজ্যের অবস্থান ও মত কী? সেই বিষয় টিকে মোদিকে সুস্পষ্টভাবে জানাবে মমতা।
৩) ব্যাংকের সংযুক্তিকরণ- ব্যাংকের সংযুক্তিকরণ নিয়ে মোদির সঙ্গে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী বলে অনুমান করা হচ্ছে। কারণ কলকাতা হেডকোয়ার্টার রয়েছে যেখানে বর্তমানে এলাহাবাদ ব্যাংক ও ইউনাইটেড ব্যাংক এর ক্ষেত্রে সংযুক্তিকরণ ঘটানো হয়েছে। তবে ব্যাংক দুটি সংযুক্ত করনের ফলে রাজ্যের বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

কিন্তু এখন সমস্যা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি সংযুক্তিকরণ হওয়ার পরেই ব্যাংক দুটি হেডকোয়ার্টার কে বর্তমানে কলকাতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে কথা উঠছে যার ফলে এই ব্যাংক থেকে অনেক কর্মী তাদের কাজ হারাতে পারেন বলে আত্মপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।তাই মোদির সাথে বৈঠক করার সময় এই বিষয়টিও আলোচ্য বিষয় এর মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে।

৪) আর্থিক প্যাকেজে দাবি-চতুর্থ যে বিষয়টি হল সেটি হল রাজ্যের জন্য আরো একবার আর্থিক প্যাকেজে দাবি। রাজ্যের উন্নতি সাধনের জন্য আর্থিক ব্যবস্থা কে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আরো একবার স্পেশাল প্যাকেজে দাবি করতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে অনুমান করা হচ্ছে।