প্রধানমন্ত্রী নিজের কথা রাখায় উচ্ছ্বাসিত ভারতের মুসলিম মহিলারা,বললেন “মোদী খুদা কা নুর, ভারত কা কহিনুর

লোকসভা ভোটে বিজেপি প্রচারে অন্যতম হাতিয়ার ছিল তিন তালাক এর অবসান ঘটানো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কথা দিয়েছিলেন আবার ক্ষমতায় ফিরলে তিনি তিন তালাকের অবস্থান করে ছাড়বেন।আর গত বৃহস্পতিবার দিন লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও ফাঁস হয়ে গেল এই তিন তালাকের বিল। বিল পাস হওয়ার পরেই উচ্ছ্বাসে মাতলো মুসলিম মহিলাদের একাংশ। মোদি সরকারের উঠানো এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক এক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা- বিরোধীদের আপত্তির মধ্যেই সংসদে পাস হল তিন তালাক বিল।

এই বিল পাস হওয়ার দরুণ কার্যকরী হবে নয়া আইন ও সেই আইনের আওতায় ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে তাৎক্ষণিক তিন তালাককে । তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রথা অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট আর এর পরই কড়া আইন আনে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে বিলটি লোকসভায় পাস হয়ে গেল ও আটকে পড়ে যায় রাজ্যসভায়। আর এটি আটকে পড়ে থাকার মূল কারণ ছিল বিরোধীরা। লোকসভা ভোটে তিন তালাক নিয়ে সরব হয়েছিল বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিতে যোগদান করেন তিন তালাকের নির্যাতিতা তথা মামলকারী ইশরাত জাহান।


আর তারপরে রাজ্যে তিন তালাক প্রথা কে নিয়ে জমে উঠেছিল প্রচার, বিভিন্ন সভাতে লক্ষ্য করা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলতে মুসলিম মহিলাদের অধিকার নিয়ে ভাবিত নয় রাজ্যের বিরোধী দলগুলি তাই তারা বিল পাস হতে দিচ্ছেন না। তারা ভোটব্যাংকে রাজনীতি করছে তবে তিনি কথা দিয়েছিলেন যে ক্ষমতায় ফিরলে তিনি প্রথমে এই তিন তালাক প্রথার অবসান ঘটাবেন।এমনকি বিজেপির জোরালো প্রচারে সামনে কোন প্রকার যুক্তি পেশ করতে পারেনি বিরোধীরা যার দরুন তারা এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলছিল। আর তার ফলাফল আজ হাতেনাতে পাওয়া গেল গেরুয়া শিবিরে পাওয়া এক রিপোর্ট থেকে জানতে পারা যাচ্ছে শুধু মাত্র তিন তালাক ইস্যুতে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে ভারতের বহু মুসলিম মহিলারা।

মোদীর নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতেই বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের মহিলারা প্রচার করেছিলেন, মোদী খুদা কা নুর হ্যায়, ভারত কা কোহিনুর হ্যায়। উমা বানো, নুরজহান, শাবিনা বেগমের মতো মুসলিম মহিলারা বলেছিলেন, তিন তালাক, হালালার মতো প্রথা থেকে মুক্তি দেবেন মোদী। তিন তালাক থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নমো।আর ক্ষমতায় আসার পর 100 দিন পুরো হওয়ার আগেই কথা রাখলেন নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে এই বিষয়টিকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কয়েকটি টুইট করতে লক্ষ্য করা যায়।

 

তিনি বলেন আজকের এই সময়ে দাঁড়িয়ে সেই সমস্ত মুসলিম মহিলাদের কুর্ণিশ জানাই, যাঁরা দীর্ঘকাল ধরে এই অবিচারের সঙ্গে লড়াই করেছেন । তাৎক্ষণিক তিন তালাকের বিলুপ্তি মহিলাদের সমৃদ্ধি ও সমাজে তাঁদের সম্মান রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ’,আরও এক ট্যুইটে মন্তব্য মোদির । এদিন আরো একটি টুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলতে লক্ষ্য করা যায় নারী ক্ষমতায়নের স্বার্থে তিন তালাক বিল একটি বড় পদক্ষেপ, কেবলমাত্র তুষ্টিকরণের স্বার্থে দেশের কোটি কোটি নারীকে তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে ; কিন্তু আমি গর্বিত তাঁদের সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে সফল হয়েছে আমার সরকার’, বার্তা নরেন্দ্র মোদির।

অবশেষে রাজ্যসভায় ভোটাভুটি পর্ব শেষ করে পাশ হয়ে গেছে তিন তালাক বিল। আর এবার থেকে এই বিল পাস হওয়ার ফলে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে তাৎক্ষণিক তিন তালাক কে। গতকাল রাজ্য সভায় এই বিলের পক্ষে 99 টি ভোট ও এর বিপক্ষে 84 টি ভোট পড়েছে। এই তিন তালাকের প্রক্রিয়াকে অপরাধ বলে ঘোষণা করার দাবিতে তিন তালাক বিল এর প্রস্তাব এনেছিল বিজেপি সরকার।2017 সালেই তাৎক্ষণিক তিন তালাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

Related Articles

Close