Categories
নতুন খবর বিশেষ

সৌভাগ্যের আশায় পাঁচ বার গুলি খেয়ে বেঁচে যাওয়া গরুকে রেখে দিলেন কৃষক…

যে গরুকে নিজের কাজের জন্য মারতে চেয়েছিলেন তাকেই এখন সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে নিজের কাছে রেখে দিলেন। হিন্দু শাস্ত্র মতে গরুকে আমরা ভগবান হিসেবে মেনে থাকি। বহু বাড়িতে পুজো করা হয় এই পশুর। ঘটনাটি ঘটে থাইল্যান্ডে। সেখানকার এক উৎসবের জন্য এক কৃষক ব্যক্তি ওই গরুটিকে মারতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বহুবার গুলি খেয়েও বেঁচে যায় গরুটি। অবশেষে ওই কৃষকটি ওই গরুটিকে নিজের কাছে রেখে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সংবাদপত্র ডেলি মেল জানিয়েছে, দক্ষিণ থাইল্যান্ডে ট্রাংয়ের বাসিন্দা সোমপর্ণ নাজিন পেশায় একজন কৃষক। এনার বয়স 43 বছর। তিনি সেখানকার স্থানীয় উৎসবে হত্যা করার জন্য একটি গরু কিনেন। সেই গরুটিকে হত্যা করার জন্য প্রথমে তিনি 22 এমএম এর হ্যান্ড গান দিয়ে ফায়ার করেন। গুলিটি গরুটির একদম মাথায় লাগলেও গুলি ভেদ করতে পারেনি। ওই কৃষক ফের দুটি গুলি চালায় গরুটির উপর। এরপরও তিনি ওই গরুটিকে মারতে পারেন নি। পরপর তিনটি গুলি ও গরুটির মাথায় লাগার পরও গরুটি মারা না যাওয়ায় কার্যত অবাক হয়ে যান সোমপর্ণ।

তিনি এই কাজে ব্যর্থ হওয়ার পরে তার এক বন্ধুকে ডাকেন। দুজনে মিলে ঠিক করেন একটি শটগান দিয়ে গরুটির উপর গুলি চালানো হবে। তাদের পরিকল্পনা মাফিক শটগান দিয়ে গুলি চালায় গরুটিকে। শটগানের গুলিতে গরুটি লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। তারপর ওই কৃষক সোমপর্ণ এবং তার বন্ধু ভাবেন শেষ পর্যন্ত তারা গরুটিকে মারতে সফল হয়েছেন। এরপর তারা আনন্দ করতে থাকেন। তবে কিছুক্ষণ পরে তারা যখন গরুটির দিকে তাকাই তখন দেখে সেখানে গরুটি নেই, পালিয়ে গেছে।

এই দেখে দুই বন্ধু অবাক হয়ে যায়। কিন্তু এরপর যা ঘটলো তা আরও অবাক করে দেওয়ার মতন ঘটনা। কয়েকদিন পর যেখানে দুই বন্ধু গরুটিকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন সেখানে ওই গরুটি চরছে দেখেন। শরীরে কতগুলো বুলেটের ক্ষত নিয়ে দিব্যি ঘুরছে ওই গরুটি। তাকে দেখে মনে হচ্ছে যেন কিছুই হয়নি তার।
এটি দেখার পর সোমপর্ণ আরো চেষ্টা করেন যে যাতে গরুটিকে হত্যা করা যায়। এর জন্য গরুটিকে ঘুম পাড়ানি গুলি করেন, যাতে ওই গুলি খেয়ে গরুটি অজ্ঞান হয়ে যায় এবং তাকে জবাইখানা নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু ওই ঘুমপাড়ানি গুলিটা গরুর চামড়া ভেদ করতে পারেনি।

সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে সোমপর্ণ ঠিক করে গরুটিকে আর হত্যার চেষ্টা করবেন না। কারণ গরুটি এতগুলো গুলি খেয়েও মরেনি। তার জমিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য গরুটিকে ছেড়ে দেন তিনি। বর্তমানে এখন ওই গরুটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মানেন সোমপর্ণ বাবু।