ফিস দেওয়ার জন্য বাবা বিক্রি করছেন বাড়ি, ছেলে IPS হয়ে উঁচু করলো পরিবারের নাম

আপনি যদি কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সাথে আপনার কর্তব্য পালন করেছেন তাহলে অবশ্যই আপনার স্বপ্ন পূরণ হবে। আজকে আমরা আপনাদের এমনই একজনের গল্প বলবো যিনি তাড়াতাড়ি তোতা কেও হার মানিয়ে নিজের প্রচুর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে সেসব সমস্যাকে দূরে ফেলে দিয়ে তিনি তার নিজের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে‌ন। আজকে আমরা যার নিয়ে কথা বলতে চলেছি তিনি বর্তমানে একজন আইপিএস অফিসার যার নাম নুরুল হাসান।

তিনি উত্তরপ্রদেশের পিলিভিতের নামক একটি ছোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ছোটবেলা থেকেই তিনি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন তবে কখনো নিজের হাল ছাড়েননি, তিনি তার কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সাথে ওরকম একটি ছোট গ্রাম থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েছিলেন। নিজের স্বপ্নকে পূরণ করে নিজের সাথে পরিবারেরও নামও আজ তিনি গর্বের সাথে উঁচু করেছেন। পিলিভিট জেলার হরাইপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেন নুরুল হাসান, তার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না হওয়ার কারণে তিনি বরাবরই অর্থনৈতিক দিক থেকে লড়াই করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তারপর তিনি কোচিং ছাড়ায় ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন,ও 2015 সালে আইএএস-তে হন।চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ছেলে নূর তার সাফল্যের বিষয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে উঠেন।  তিনি বর্তমানে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস) পদে নিযুক্ত আছেন এবং মহারাষ্ট্রে পোস্ট করেছেন। আইপিএস নূরের প্রাথমিক পড়াশোনা সেখানেই হয়েছিল। তার বাবা চাষবাস করতেন। তিনি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠেন। এমন কী তার স্কুলের ছাদ থেকে বর্ষাকালে জল গড়িয়ে পড়তো যার দরুন তিনি ঘর থেকে বসার জন্য কাপড় নিয়ে যেতেন স্কুলে।

নূরের বাবা-মা ছাড়া আরও দুটি ছোট ভাইও রয়েছে তাই তাদেরও লালন-পালনের ও লেখাপড়ার চাপ একটা সাময়িকভাবে ছিল তার ওপরই। তারপরে তিনি আমেরিকার ব্লকের গুরুনানক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে 67 শতাংশ নিয়ে মাধ্যমিক কমপ্লিট করেন ও স্কুল টপরে পরিণত হন। তারপরে তাঁর পিতা যখন চতুর্থ শ্রেণিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তখন তিনি বেরিলিতে এসেছিলেন। এখানে তিনি মনোহরলাল ভূষণ কলেজ থেকে 75 শতাংশ নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক করেন।

নিজের উচ্চমাধ্যমিক কমপ্লিট করার পর নূরের নির্বাচন এএমইউ আলীগড়ের b tech এ হয়েছিল, তবে ফি দেওয়ার জন্য কোনও টাকা ছিল না। তাই তার বাবা গ্রামের এক একর জমি বিক্রি করে ফি দিয়েছিলেন।  তিনি অনেক পড়াশোনা করেছেন। এর পরে, তিনি একটি গুরুগ্রাম সংস্থায় প্লেসমেন্ট পান। তবে এই বেতন থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ঘরের চাহিদা মেটাতে অসুবিধা হচ্ছিল যার জন্য তিনি ভাভা পারমাণবিক গবেষণা ইনস্টিটিউট পরীক্ষা দিয়েছিল এবং নূরকে তারাপুর মুম্বাইয়ের বিজ্ঞানী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

সিভিল সার্ভিসের জন্য যখন তাকে নির্বাচিত করা হয়েছিল, তিনি পরমাণু কেন্দ্র নরোরাতে পোস্ট করছিলেন। সিভিল সার্ভিসেস প্রধান পরীক্ষায় নূর পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন কে বেছে নেন। একই সঙ্গে তিনি তার সিভিল সার্ভিসেস প্রধানদের সাথে সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন বলেন, সেই সাক্ষাত্কারটি দুর্দান্ত ছিল।অফ-টপিক আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। যেহেতু আমি নিউক্লিয়াসে বিজ্ঞানী ছিলাম তাই তারা আমাকে পারমাণবিক সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিল। তার সাথে  ইঞ্জিনিয়ারিং, সংবিধান এবং ক্রিকেট সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছেন। এ ছাড়া গুরানাক শিখ গুরুদের নাম জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

তারপর নূর এখন যারা আইপিএস এর জন্য তৈরী হচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে একটি পরামর্শ দেন তিনি বলেন দারিদ্র তাকে অভিশাপ হিসাবে না নিয়ে দারিদ্রতার মধ্যে যা পেয়েছো তা নিয়েই নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাও। কঠোর পরিশ্রম করো আর কখনো নিজের দারিদ্রতার কাছে হার মেনেও না।দেখবে একদিন তোমার কাছে সেই দারিদ্রতায় হার মেনে যাবে। দ্বিতীয়তঃ তিনি বলেন আমি একজন মুসলিম যুবক তাই বলব যে ভারত একটি অত্যন্ত সুন্দর দেশ। আর দেশের অগ্রগতির জন্য শিক্ষিত হন
কঠোর পরিশ্রমের শক্তিতে এগিয়ে যান।

Related Articles

Close