একসময় একটি পোশাকে চলেছে সপ্তাহ, রিস্কা চালিয়ে ভরাতে হয়েছে পেট, আজ কোটি টাকার কোম্পানির মালিক

আমরা আপনাকে এমন একজন ব্যক্তির সম্পর্কে বলতে চলেছি, যিনি একসময় দিল্লির রাস্তায় রিকশা চালাতেন, ৩০০০ টাকায় চালকের চাকরি পেতেন, কিন্তু আজ তাঁর ১১.৬ কোটি টাকার ব্যবসা। ওই ব্যক্তির নাম দিলখুশ কুমার। আসুন জেনে নেওয়া যাক দিলখুশ কুমারের সাফল্যের গল্পটিটি। দিলখুশ কুমার, বিহারের একটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে কোনোমতে দ্বাদশ শ্রেণিতে দ্বিতীয় বিভাগ অর্জন করতে পেরেছেন।

তিনি খাদ্য ও আয়ের সন্ধানে পড়ালেখা ছেড়ে দেন এবং অল্প বয়সে তাঁর বিয়ে হয়। এই সময় তিনি বিদ্যালয়ে পিয়ন পদে আবেদন করছিলেন। সাক্ষাৎকারের জন্য তাকে পাটনায় ডাকা হয়। তিনি জানতেন যে, তিনি নির্বাচিত হবেন না। এরপর দিলখুশ তাঁর বাবাকে গাড়ি চালানো শেখাতে বলেন। গাড়ি চালানো শেখার পর মাসে তিন হাজার টাকার চাকরি শুরু করেন দিলখুশ। কয়েকদিন কাজ করলেও বেশি টাকা পাবেন ভেবে তিনি থাকেন।


এরপর তিনি প্রতিদিন ২০ টাকার বিনিময়ে একটি রিকশা ভাড়া নিয়ে প্রায় ১৩ দিন দিল্লির সমস্ত রুটে রিকশা চালান। এখানেও ভাগ্য সহায় হয়নি। ১৩ দিন রিকশা চালিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর তিনি একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানীতে চুক্তি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন। তাঁর আয়ও ভালো হতে থাকে। তিনি একটি গাড়িও কেনেন। এরপর চাকরি ছেড়ে ২০১৬ সালে গ্রামে আসেন।


গ্রামে আসার পর আর্যগো কোম্পানী চালু করেন, যেখানে ক্যাব পরিষেবা প্রদান করা হয়। দিলখুশ বলেন, আজও বিহারে এমন গ্রাম আছে, যেখানে বিকেল ৫টার পর সাইকেল চালানোর কোনো উপায় নেই। এই কথা মাথায় রেখে তিনি আর্যগো ক্যাব চালু করেন। এই ক্যাবগুলির বিশেষত্ব ছিল যে, প্রতি ঘন্টা এবং মিনিটে চার্জ করা হত। যত ঘণ্টা ব্যবহার করা হবে ততটুকু সময়েরই টাকা দিতে হবে। ধীরে ধীরে তাঁর ব্যবসা অনেক বেড়ে যায়। বর্তমানে বিহারের ৮টি জেলায় ৫৫০টিরও বেশি ট্যাক্সি চলছে এবং পরিষেবা দিচ্ছে, তাঁর কোম্পানীর ৭০০টিরও বেশি কর্মচারী রয়েছে।