ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা তুলতে না পারায় অবশেষে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হল মুরলীধরের..

ব্যাংকে আমরা টাকা জমা রাখি কারণ যাতে আমরা বিপদে আপদে সেটিকে কাজে লাগাতে পারি অর্থাৎ হঠাৎ টাকার দরকার হলে ব্যাংক থেকে আমার জমানো টাকা তুলে এনে তা খরচ করতে পারি। কিন্তু সেক্ষেত্রে যদি সীমা বেঁধে দেওয়া হয় তাহলে অনেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেটি অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ঠিক যেমনটা হয়েছে মুরলীধরের পরিবারের সাথে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে 2 জনার মৃত্যু হয়। একজন আত্মহত্যা করেন। পরিবারের চতুর্থতম ব্যক্তি চিকিৎসার অভাবে মারা যান।

প্রত্যেকটি মৃত্যুর সৌজন্যে পেছনে রয়েছে পাঞ্জাব মহারাষ্ট্র সমবায় ব্যাংক। প্রায় 4355 কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে এই ব্যাংকের বিরুদ্ধে। আমরা জানি এর আগে রিজার্ভ ব্যাংকের তরফ থেকে টাকা তোলার উর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। আর তার জন্যই হার্টের অপারেশন করার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে না পেরে মৃত্যু হয় অশীতিপর মুরলীধরন ধারার।মুরলীধর এর পরিবারের  তরফ থেকে জানানো হয়েছে ওই ব্যাংকে তাদের 80 লক্ষ টাকা আমানত জমা রয়েছে।

কিন্তু বর্তমানে নিয়ম অনুসারে প্রত্যেকটি গ্রাহক সর্বোচ্চ 40 হাজার টাকা তুলতে পারবে। মুরলীধরের দ্রুত হার্ট সার্জারি করার প্রয়োজন ছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসার জন্য খরচ বাবদ মোটা অংকের টাকা তুলতে ব্যর্থ হয় মুরলীধর এর পরিবার। পরিবারের দাবি শুধুমাত্র টাকা যোগাড় করতে না পারার কারণে ওনার মৃত্যু হয়। এই ব্যাংকের আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মাত্র হাজার টাকা তোলার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে রিজার্ভ ব্যাংক। পরে অবশ্য এটিকে বাড়িয়ে 40 হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়।

পিএমসি ব্যাংক বিভিন্ন  সময়ে রিয়েলেস্ট সংস্থা এইচডিআইএল কে মোটা অঙ্কের ঋণ দিয়ে থাকে রিজার্ভ ব্যাংকে অগোচর রেখে। ফলে এই ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় থমাস, চেয়ারম্যান বারয়্যাম সিং এবং এইচআইএল এর প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিএমসি ব্যাংকে টাকা আমানত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ওই ব্যাংকের গ্রাহকরা। আদৌ তাদের জমানো টাকা ফিরে পাবেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে তাদের। এই দুশ্চিন্তায় নাকি হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মুরলীধরন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।এই কেলেঙ্কারি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তিনি বলেন, যারা টাকা তুলতে না পারার ফলে চিকিৎসা করতে পারছেন না তাদের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সাহায্য করা উচিত।