সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যের তালিকা থেকে বাদ পড়লো বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ , বিপাকে মধ্যবিত্তরা

রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে অনেক ধরনের ঔষধি বিনামূল্যে পাওয়া যায় । তার জন্য একটি তালিকাও করা থাকে। সেই তালিকায় থাকে বিভিন্ন রকমের বিনামূল্যে পাওয়া যাওয়া ঔষধের নাম। সাধারণ দরিদ্র পরিবার থেকে মধ্যবিত্তরা অনেক সময় এই বিনামূল্যে সরকারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ পাওয়ার ফলে বেশ কিছু সুবিধা লাভ করে থাকে। কিন্তু এবার সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য দুঃখের খবর। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়া বেশ কিছু ওষুধের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে ।

যে সমস্ত ওষুধ এই তালিকা থেকে বাদ পড়ছে তাদের মধ্যে ক্যান্সার ,ডায়াবেটিস ইত্যাদি প্রভিতি গুরুত্বপূর্ণ রোগের ওষুধ রয়েছে। ফলে মধ্যবিত্তরা যথেষ্ট বিপাকে পড়েছে। কার্যত মাথায় হাত সাধারণ দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা । বিভিন্ন জটিল রোগের নামিদামি ঔষধ এতদিন হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়া যেত। কিন্তু এবার থেকে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সাধারণ জনগণ যথেষ্ট সমস্যার মধ্যে পড়ল।

আঙ্কলজির ঔষধ সিসপ্লাটিন, এটোপোসাইড, সাইক্লোফসফামাইড, এনোক্সপরিন ইত্যাদি বিভিন্ন দামি ওষুধ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ডায়াবেটিস এর দামি ওষুধ লিনাগ্লিপটিন, ভিলডাগ্লিপটীনের মতো ওষুধ বাদ দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে। এর বদলে ডায়াবেটিসের ওষুধ হিসাবে অপেক্ষাকৃত কম দামি টেনেগ্লিপটিনের ওষুধের নাম তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে । এর ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা মধ্যবিত্তরা বিপাকে পড়ছেন বিনামূল্যে কমদামি ওষুধ দিয়ে তাদের কাজ চালাতে হচ্ছে।

তবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হচ্ছে ওষুধের অপচয় রোধ করার জন্য এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করার জন্য সরকারের তরফ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয় । তারমধ্যে জীবনদায়ী এমন পাঁচটি ওষুধ রয়েছে যার জন্য বরাদ্দ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। কিন্তু তালিকা থেকে কিছু ঔষধ বাদ দিয়ে এবং কিছু দামি ওষুধের জায়গায় কম দামি ওষুধ যুক্ত করে সরকার প্রায় ১২ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারবে ।

মূলত অপচয়ে রোধের জন্যই এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ কে কেন্দ্র করে একটি চক্র ব্যবসা চালাচ্ছে সাংসদ চিকিৎসক ডক্টর শান্তনু সেন এইদিন স্পষ্ট ভাবে বললেন, ” আমাদের মেডিসিনের একটি নির্দিষ্ট তালিকা আছে। কিন্তু কিছু মানুষ অসৎ উদ্দেশ্যে জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে একই কম্পোজিশনের দামি ব্র্যান্ডের ওষুধের নাম লিখে দেন । এর ফলে বিপাকে পড়েন রোগীর আত্মীয়রা।

এছাড়া কিছু শ্রেণীর ডাক্তারবাবুর তাদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী ধরে রাখবার জন্য সরকারি একটি জায়গা থেকে প্রেসক্রিপশন তৈরি করে সরকারি হাসপাতালে ওষুধ আনতে পাঠিয়ে দেন বিনামূল্যে । তবে এটা সবক্ষেত্রে নয় । কিছু বিশেষ শ্রেণীর মানুষ এই ধরনের কাজ করে থাকছেন। ফলে সরকারের তরফ থেকে এরকম সিদ্ধান্ত বাধ্য হয়ে নিতে হচ্ছে। ” তবে রাজ্য সরকারের এরকম সিদ্ধান্তের ফলে একাধিক ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন উষ্মা প্রকাশ করেছেন।

অনেকের মতে সরকারের তরফ থেকে বরাদ্দ আরো বাড়ানো উচিত । অন্য খাতে অযথা অর্থ ব্যয় না করে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। তবে সরকারি স্বাস্থ্য কর্তারা স্পষ্টই বলে দিচ্ছে কোন ঔষধ সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। একই রোগের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন মলিকিউল-এর ওষুধ থাকে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র দামি কম্পোজিশনের ওষুধের বাদলে কমদামি কম্পোজিশনের ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। যাতে সরকারি খাতে কিছু পরিমাণে সাশ্রয় হয় । ওষুধের কার্যকারিতা কোন বদল আসবেনা।