ভারতের নামে একটি দুর্দান্ত রেকর্ড! এবার বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চতম ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জিং স্টেশন তৈরি হল ভারতে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য মানুষ বারবারই ছুটে যায় পাহাড়ের দিকে। আর এই পাহাড়ে গিয়ে মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন ভরে উপভোগ করতে পারে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাদের গাড়ির চার্জিংয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর এই সমস্যার সমাধানেই ভারতে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের উচ্চতম বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) চার্জিং স্টেশন। এই স্টেশন হিমাচল প্রদেশের লাহৌল ও স্পিতি জেলার কাজা শহরে তৈরি হচ্ছে। যেখান থেকে হিমালয় পর্বতের অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়।

এই শহরটি হিমাচল প্রদেশের একদম উত্তর পূর্বে অবস্থিত। খুব কম জনবসতিপূর্ণ এই স্থানটি রয়েছে তিব্বত এবং ভারতের মধ্যবর্তী স্থানে। বছরের বেশিরভাগ এই স্থানে পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। এখানে বাইক নিয়ে অনেকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে জান। পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পর্যটকদের। আর এই পর্যটকদের কথা ভেবেই এই চার্জিং স্টেশন গুলি তৈরি করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার পুনের একটি সংস্থা Go Ego Network হিমাচলের কাজা তে দুটি বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন তৈরি করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৩,৭২০ মিটার। এর মধ্যে একটিতে দুটো চাকার গাড়ি এবং অন্যটিতে চার চাকার গাড়ি চার্জ করা যাবে। এই জায়গাটিতে অপর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন থাকায় প্রায়ই সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো পর্যটকদের। আর এই ব্যাপারে একাধিক অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন সেখানকার সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট মাহেন্দর প্রতাপ সিং। তিনি এও বলেছেন, এই ভ্যালিতে এটাই প্রথম চার্জিং স্টেশন। যদি স্টেশনটি সম্পর্কে আশানুরূপ সাড়া মেলে তবে আরও কয়েকটি চার্জিং স্টেশন তৈরি করা হবে।”

Advertisements

চার্জিং স্টেশন ছাড়াও কাজার পাহাড়ি রাস্তায় বৈদ্যুতিক গাড়ি কে জনপ্রিয় করে তোলার উদ্দেশ্যে সেখানকার লোকাল প্রশাসনকে দুটি ইলেকট্রিক গাড়িও দান করেছে Go Ego Network। প্রশাসনে দুজন ব্যক্তি এই গাড়ি দুটির চালিয়ে মানালি থেকে কাজা (৩২০কিমি) পর্যন্ত গিয়েছেন। তবে এজন্য গাড়ি দুটিকে তিন থেকে চার বার চার্জ দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহেন্দর প্রতাপ সিং। এমনকি ই-স্কুটার দুটিতে কুঞ্জম পাস (৪,৫৫১ মিটার) পার করার সময় কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার এই কথা থেকে পরিষ্কার যে গাড়ি দুটি ইঞ্জিন এর কার্যকরিতা আশানুরূপ।

Advertisements

প্রসঙ্গত শীতকালে কাজার তাপমাত্রা -20 ডিগ্রিতে নেমে যাওয়ায় বছরের প্রায় চার মাস কোন পর্যটকই সেখানে যেতে পারেন না। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে বরফ গলতে শুরু করায় এখানকার রাস্তা খুলে যায় এবং পর্যটকদের ভীড় জমতে দেখা যায়।