ধারা 370 এর বিরোধীতা করার পরও 99 শতকরা আম-কাশ্মীরি জনগন ভোট দিলেন কাশ্মীরে…

যেদিন থেকে কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীর থেকে 370 ধারা অপসারণ করে নিয়েছে সেই দিন থেকে উপত্যকা একেবারে থমথমে রয়েছে। লকডাউন বিরোধিতার মাঝখান থেকে চলছে ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলর নির্বাচন। 310 টি ভোট কেন্দ্রে 1065 জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই ভোটে। যদিও কংগ্রেস, বাম, ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি এই নির্বাচন বয়কট করেছে।26,629 নির্বাচকের মধ্যে 8313 জন মহিলা এবং 18,316 জন পুরুষ রয়েছেন।

এই নির্বাচক কমিটি ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান কে হবে তা নির্বাচন করবেন। রাজ্যের 316 টি ব্লকের মধ্যে 310 টি ব্লকে নির্বাচন হচ্ছে। আপনাদের জানিয়ে দিয় এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে উত্তর কাশ্মীরে কুপওয়ারা জেলায়। এখানে প্রার্থীর সংখ্যা মোট 101 জন। এবং সব থেকে কম প্রার্থী রয়েছে দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ানে। এখানে প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র 4 জন। অপরদিকে আবার রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীন মনোভাব থাকার কারণে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কথা জানিয়েছে কংগ্রেস।

এর জন্য প্রায় 60% গ্রাম পরিষদের আসন সম্পূর্ণ ফাঁকায় থেকে যাবে। এই নির্বাচনে বারামুল্লায় 90 জন প্রার্থী রয়েছে। জম্মুতে প্রার্থী রয়েছে 82 জন,রাজৌরিতে 76 জন, ডোডাযয় 78 জন, কাঠুয়ায় 72 জন, উধমপুর এবং বুধগাঁওয়ে 58 জন, কিস্তাওয়ারে 44 জন,রামবানে 43 জন, রেয়াসিতে 39 জন। শ্রীনগর থেকে 5 জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কারগিল এবং লে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন 38 এবং 36 জন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নির্বাচনের শেষে বিকেল তিনটে থেকে গণনা শুরু হয়ে যাবে।

আর তার রেজাল্টের জন্য প্রার্থীদের বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। এদিনে কাশ্মীরের বেশিরভাগ জায়গায় প্রায় 95 শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। এরমধ্যে শ্রীনগরে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। খবর সূত্রে জানা গেছে এখানে প্রায় 100 শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রসঙ্গত দ্বিতীয় দফায় মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর 5 ই আগস্ট 2019 ভারতীয় সংবিধানের 370 ধারা বাতিল করার মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরে বিশেষ ক্ষমতা বাতিল করেছিল মোদি সরকার। আর এর পরেই লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর কে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

আর এই প্রদক্ষেপ কে কেন্দ্র করে কাশ্মীরে বিপুল পরিমাণে সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। এমনকি সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদেরও গৃহবন্দী করে রাখা হয়। কাশ্মীরের এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কিছু কিছু জায়গায় মানুষ বিরোধিতা করছে। আবার অনেক জায়গায় এই সিদ্ধান্তকে তারা স্বইচ্ছায় মেনে নিয়েছে। তবে নির্বাচনকে বয়কট করায় বিজেপি এবং নির্দল বেশ কয়েকটি সিট পেয়েছে। এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেশ কয়েক জায়গায় নির্দল পার্থী জিতেছে।

Related Articles

Back to top button