ফের উদ্ধার শিশুকন্যার ক্ষতবিক্ষত দেহ! আলিগড়, উজ্জয়িনীর পরে এবার ভোপালে, গাফিলতির অভিযোগে বরখাস্ত 6 পুলিশ আধিকারিক….

উত্তরপ্রদেশের আলীগড়ে কিছুদিন আগে এক আড়াই বছরের শিশুকন্যাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনায় শিউরে উঠেছিল সারাদেশ। আর তার দুদিন পরে আবারও সামনে আসে উত্তরপ্রদেশের উজ্জয়িনীর ঘটনা। যেখানে এই খবরটি সামনে আসছে এক বছর পাঁচেকের মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো উপর তার দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল শিপ্রা নদীর জলে। শনিবার বিকেলেই তার পচা-গলা দেহ নদীর জল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এবার শিরোনামে উঠে এল ভোপালের নাম। একই কারণে।

আট বছরের ছোট্ট মেয়ের দেহ উদ্ধার হল নর্দমা থেকে৷ অনুমান করা হচ্ছে যৌন নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে তাকে। এ যেনো নৃশংস শিশুহত্যার মিছিল দেখছে যেন দেশবাসী। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী জানতে পারা যায় শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল ভোপালের কমলা নগরের বাসিন্দা ওই মেয়েটি। তারপর থানায় ডায়েরি হওয়ার পরই চলছিল তার খোঁজ। রবিবার শিশুটির বাড়ির খুব কাছ থেকেই উদ্ধার হয় তার দেহ৷ প্রাথমিক তদন্তে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিললেও, মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরেই জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷

তবে এখন পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পরও পুলিশে অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ কোন রকম ব্যবস্থা নেয়নি।আর এই ঘটনার জেরে পাঁচজন পুলিশ আধিকারিক কে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়েছে। আর এই ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে এক পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে৷ পরিবার সূত্রে খবর শনিবার দিন রাত আটটা নাগাদ গুটকা কিনতে দোকানে গিয়েছিল বাচ্চাটি। তবে সেখান থেকে ফিরে না আসায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজির।তারপর পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ কোন রকম ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। বরং পুলিশ অধিকারীকেরা বলে, ‘নিশ্চয়ই মেয়েটি কারও সঙ্গেই গিয়েছে।’ পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গেলেও মেয়েটিকে না-খুঁজে সেখানেই বসেছিল বলে অভিযোগ করে তারা।

পরের রবিবার দিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা নর্দমা থেকে মেয়েটির দেহ উদ্ধার করে। তারপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে দেহ পাঠানো হয় ময়না তদন্তের জন্য।তবে পুলিশের অনুমান শিশুটিকে ধর্ষণ করার পর তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে,এবং তার পরে তার দেহ বাড়ির কাছের নর্দমা সামনে ফেলে রেখে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। আই পি এস অফিসার অখিল পাটেল জানান গত শনিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে। তারপর পুলিশ তল্লাশি অভিযান শুরু করেছিল। তবে রবিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ দেহ উদ্ধার করা হয় সেই নর্দমা থেকে।কর্তব্যের গাফিলতির জন্য ইতিমধ্যে ছয় জন পুলিশ কর্মী কে বরখাস্ত ও একজন পুলিশ অফিসার কে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্য দিকে, আলিগড়ের ঘটনায় পুলিশ প্রতিবেশী পরিবারের জাহিদ ও আসলাম নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে৷ এর পরে শনিবার আরও দুই যুবককে আটক করে পুলিশ৷ আলিগড়ের কোনও উকিলই এই অভিযুক্তদের হয়ে লড়তে চাননি বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দাবি, অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেক সদস্য মৃতার পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন৷ কোনও ভাবেই অভিযুক্তদের হয়ে সওয়াল করবেন না কেউ৷ এমনকী যদি বাইরে কোনও আইনজীবীকে নিয়ে আসা হয়, তবে তাঁকেও লড়তে দেওয়া হবে না৷

উজ্জয়িনীর ঘটনায় পুলিশ সুপার সচিন অতুলকর জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পরে জানা গেছে, শিশুটির উপরে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তার ছোট্ট শরীরে ছিল অজস্র ক্ষতের দাগ। ধর্ষণের চিহ্নও স্পষ্ট। ধর্ষণের পরে মেয়েটিকে খুন করে নদীর জলে ভাসিয়ে দেয় অভিযুক্তেরা। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে এক জন শিশুটির কাকা! ধৃতদের জেরা করা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরও কেউ এই ঘটনায় জড়িত কি না তার খোঁজ চলছে। তদন্তের জন্য স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) তৈরি করেছে পুলিশ।