৭৭ বছর বয়সে শুরু করেন নিজের ব্যবসা, আজকের দিনে ব্যবসায়িক মহিলাদের মধ্যে সর্বোপরি তাঁর এই Business আইডিয়া

শুরুটা যে কোন সময় করা যায়। সুচিত্রা ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে সত্যজিৎ রায়, লক্ষ্য করে দেখবেন সকলেই কিন্তু শুরুটা করেছিলেন বেশ বড় বয়সে। তাই আমার আর হবে না, এই কথাটা বলা একেবারেই যায় না। এই কথাটি যে কতখানি সত্যি কথা,সেটা আরও একবার প্রমাণিত করে দিলেন উর্মিলা যমুনা দাস। গত দুই বছরে যখন লকডাউনে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই নিজের জীবনকে নতুন একটি দিকে নিয়ে যায় উর্মিলা দেবী।

স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র সন্তান এবং তার পরিবারকে নিয়ে সময় কাটছিল উর্মিলা দেবীর। কিন্তু একমাত্র ছেলের বিয়ের কিছুদিন পর মৃত্যু হয়ে যায়। এরপর উর্মিলা দেবী সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েন। বেশ কিছু বছর এই ভাবে চলার পর গত লকডাউনে তিনি মনে করেন, তাকে আরও একবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

কিন্তু কি করা যায়? একমাত্র বৌমা এবং নাতিকে নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করেন উর্মিলা দেবী। স্বাভাবিকভাবে গৃহবধূ হওয়ার দরুন তিনি চিরকালই সাংসারিক ছিলেন। রান্নাঘরের প্রতি ছিল তাঁর আলাদা টান। তার রান্না এতটাই সুস্বাদু ছিল, যে সকলে তার রান্নার প্রশংসা করতেন সব সময়।

এই রান্নাকেই এবারে ব্যবসায় পরিণত করলেন উর্মিলা দেবী। শুরু করলেন আচারের ব্যবসা। বৌমাকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করে দিলেন আচারের হোম ডেলিভারি। জম্যাটর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে তৈরি করলেন নিজের ব্যবসা।মাত্র এক বছরের মধ্যে কয়েক লক্ষ টাকার টার্নঅভার করে ফেললেন তিনি।

আজ উর্মিলা দেবীর নাম জানেন না এমন মানুষ নেই। এই মানুষটি আরো একবার সকলের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, মানুষ পারেনা এমন কোন কাজ নেই। তাই কখনো নিজেকে অথর্ব ভাববেন না। শুরুটা যে কোন সময় করা যায়। শুধু চাই একটু সাহস এবং আত্মবিশ্বাস। ৭০ বছর বয়সে যখন মানুষ জীবন থেকে বিরতি নেবার কথা ভাবেন, ঠিক তখনই উর্মিলা দেবী নিজের জীবনকে নতুন করে শুরু করার কথা ভেবেছিলেন। সত্যি এমন মানুষের জীবনী শুনে আরো একবার নতুন করে বাঁচার সাহস পাওয়া যায়।