74 বছর বয়সে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন ইমামতী সাথে গড়লেন বিশ্বরেকর্ডও…

মা হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সকে কোনও বাঁধা মনে করেননি ইরামতী মনগম্মা। যে বয়সে আর পাঁচ জন শারীরিক ও মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েন, সেই বয়সেই যমজ কন্যাসন্তানের মা হলেন অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্তুরের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার দিন অন্ধপ্রদেশের গুন্টুর ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন অর্থাৎ আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ করা 74 বছর বয়সী মহিলা যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে খবর পূর্ব গোদাবরী জেলার দ্রাক্ষারাম ব্লকের নীলাপার্থিপদু গ্রামের 80 বছর বয়সী রাজা রাওয়ের স্ত্রী ইরামতী মঙ্গাযাম্মা সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সিজারিয়ান বিভাগে যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তবে এর আগে 2017 সালে পাঞ্জাবে অমৃতসরের 72 বছর বয়সী মহিলা দলজিন্দর কউর মা হয়েছিলেন।আর তারপর এখনো পর্যন্ত তিনিই ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী মা হওয়ার মহিলা।তবে এবার সেই রেকর্ডের দাবিদার হয়ে গেলেন এই 74 বছর বয়সী মহিলা ইরামতী মনগম্মা।

হাসপাতালে ডিরেক্টর উমাশংকর বলেন অস্ত্রপচারটি মসৃণভাবে চলে গেল মা এবং শিশু দুজনেই আপাতত সুস্থ আছেন এবং এতে কোন জটিলতা নেই যাইহোক কয় ঘন্টা ধরে যে মানসিক চাপ সহ্য করছেন তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মাকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।এক্ষেত্রে তিনি জানান ইরামতীর গর্ভধারণে কোন সমস্যা হয়নি কারণ তার শরীরে ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপের কোন রোগ ছিল না ফলে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ও তার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকত্ব লক্ষণ ধরা পড়েনি।

তবে এখানেই শেষ নয় উমাশংকর আরো বলেন রাজারাও হলেন একজন পেশায় কৃষিবিদ আর ইরাবতীর সাথে তার বিয়ে হয়েছিল 1962 সালে 22 শে মার্চ তবে বিগত 57 বছর ধরে এই দম্পতির নিঃসন্তান ছিলেন। বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা করান ইরামতী কিন্তু তিনি গর্ভধারণের সফল হতে পারেননি।তার মাতৃত্বের স্বপ্ন থেকে যায় অধরা। অবশেষে আধুনিক চিকিত্সাবিজ্ঞানের হাত ধরে হল স্বপ্নপূরণ তার। কৃত্রিমভাবে আইভিএফের মাধ্যমে মা হলেন ইরামতী। তবে বেশি বয়সে প্রেগনেন্সি সবসময়েই ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে চিকিৎসকের তরফ থেকে তার শারীরিক সুস্থতা বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার পর ইরামতী সহ তার পরিবারের সদস্যরা খুব খুশি।